০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

রংপুরে শীতার্ত ও অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর উত্তম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ১ হাজার ৫০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে উন্নতমানের কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

৬৬ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৭২ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম আজম চৌধুরী, উত্তম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু দেশের ভূখণ্ড রক্ষাই নয়, সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী।

শীতবস্ত্র পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। শুকরন বেওয়া নামের এক নারী বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। চার ছেলের মধ্যে খেয়েপড়ে কোনোরকমে দিন কাটছে। সেনাবাহিনীর দেওয়া কম্বল এই শীতে কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব করবে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে রংপুরে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে তীব্র শীত বিরাজ করছে। উত্তরের এই জনপদে শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

শীতের প্রভাবে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও প্রতিদিন শত শত মানুষ শীতজনিত রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত শীতজনিত রোগে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসেই মারা গেছেন পাঁচজন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, শৈত্যপ্রবাহ ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুরে শীতার্ত ও অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর উত্তম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ১ হাজার ৫০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে উন্নতমানের কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

৬৬ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৭২ ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম আজম চৌধুরী, উত্তম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু দেশের ভূখণ্ড রক্ষাই নয়, সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী।

শীতবস্ত্র পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। শুকরন বেওয়া নামের এক নারী বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। চার ছেলের মধ্যে খেয়েপড়ে কোনোরকমে দিন কাটছে। সেনাবাহিনীর দেওয়া কম্বল এই শীতে কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব করবে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে রংপুরে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে তীব্র শীত বিরাজ করছে। উত্তরের এই জনপদে শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

শীতের প্রভাবে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও প্রতিদিন শত শত মানুষ শীতজনিত রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত শীতজনিত রোগে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসেই মারা গেছেন পাঁচজন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, শৈত্যপ্রবাহ ও বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

শু/সবা