০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে পাঁচবিবিতে ইরি-বোরো বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি

কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করলেও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চারা স্যাঁতসেঁতে হয়ে বিবর্ণ রং ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো বোরো রোপণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলের এই উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষের জন্য কৃষকেরা আগেভাগেই বীজতলা তৈরি করেন। গত মৌসুমে আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক এবার বোরো আবাদে ঝুঁকেছেন। তবে শুরু থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকায় ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা তরতাজা চারাগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করে মারা যাচ্ছে।

কিছু কৃষক বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন। তবে কীটনাশক ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা করেও তেমন সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান তারা। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও রবিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে টানা কয়েক দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলার মঠপাড়া গ্রামের এক কৃষক বলেন, “বীজতলায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো ফল পাচ্ছি না। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা যাবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় আছি।”

রতনপুর গ্রামের কৃষক মামুনুর রশিদ জানান, তিনি ১৩ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তীব্র শীত ও কুয়াশায় তাঁর বীজতলার অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ বছর উপজেলায় প্রায় সাড়ে চারশ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চারা হলুদ হয়ে গেলে ইউরিয়া সার, জিপসাম ও স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে, যাতে বীজতলার ক্ষতি কমানো যায় এবং সময়মতো বোরো রোপণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে পাঁচবিবিতে ইরি-বোরো বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করলেও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চারা স্যাঁতসেঁতে হয়ে বিবর্ণ রং ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো বোরো রোপণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলের এই উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষের জন্য কৃষকেরা আগেভাগেই বীজতলা তৈরি করেন। গত মৌসুমে আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক এবার বোরো আবাদে ঝুঁকেছেন। তবে শুরু থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকায় ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা তরতাজা চারাগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করে মারা যাচ্ছে।

কিছু কৃষক বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন। তবে কীটনাশক ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা করেও তেমন সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান তারা। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও রবিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে টানা কয়েক দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপজেলার মঠপাড়া গ্রামের এক কৃষক বলেন, “বীজতলায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো ফল পাচ্ছি না। চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা যাবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় আছি।”

রতনপুর গ্রামের কৃষক মামুনুর রশিদ জানান, তিনি ১৩ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তীব্র শীত ও কুয়াশায় তাঁর বীজতলার অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ বছর উপজেলায় প্রায় সাড়ে চারশ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চারা হলুদ হয়ে গেলে ইউরিয়া সার, জিপসাম ও স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে, যাতে বীজতলার ক্ষতি কমানো যায় এবং সময়মতো বোরো রোপণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

শু/সবা