রংপুরের সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি। রংপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুস সাহেদ মন্টু চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন।
আজ ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ভোর ৪টায় বার্ধক্যজনিত কারণে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার বাদ আছর রংপুর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজের জানাজা শেষে তাকে বড় নূরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
এর আগে, দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহে রংপুর প্রেসক্লাব, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিজিইউ, রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-টিসিএ রংপুরসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সাংবাদিক আব্দুস সাহেদ মন্টু পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল জীবন থেকেই সাংবাদিকতায় আকৃষ্ট হন। তিনি ১৯৬৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন না পেরোতেই দৈনিক আজাদী দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর তিনি দৈনিক পয়গাম-এ যোগ দেন। সুযোগ পেয়ে কিছুদিনের পর যুক্ত হন পিপিআই-তে।
১৯৭৬ সালে ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস-এর রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়া, ১৯৮৬ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি বিবিসি বাংলায় রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে এবং ১৯৮৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত রয়টার্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা আব্দুস সাহেদ মন্টু ছিলেন রংপুর প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং রংপুরের সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তিনি রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক হিসেবে অঞ্চলের সাংবাদিকদের পরম অভিভাবক হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।
গুণী সাংবাদিক ও সংগঠকের পাশাপাশি তিনি একজন সমাজসেবকও ছিলেন। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য ছিলেন। তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে অবদানের জন্য বিভিন্ন সময় তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোনাজাতউদ্দিন স্মৃতি পদক, রংপুর ফাউন্ডেশন ও রংপুর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার সম্মাননা।
শু/সবা




















