১০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬ ভোটকেন্দ্রে বসছে সিসিটিভি

* সিটি করপোরেশনে ২৩৯২টি কেন্দ্র, ইউপিতে ১৯৫৫৪টি
* ব্যয় নির্ধারণ প্রায় ৭২ কোটি টাকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনে রয়েছে ২৩৯২টি ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবের পর এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে জনরোষের ভয়ে দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে চলে যান শেখ হাসিনার সরকারের আজ্ঞাবহ মন্ত্রী-এমপি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। ওইদিনই পতন ঘটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় শরীক জোট সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলের। এর পরই ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সর্বস্তরে বৈষম্য দূরীকরণে নেওয়া হয় সংস্কার কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির দিনে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ঘোষণা দেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের ঘোষিত অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিলে ছিলো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

তবে, সংশোধন করা তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পরিবেশ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ভোট ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে স্বয়ং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনেও।
সম্প্রতি সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানান জেলা প্রশাসকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগও। এ অবস্থায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এদিকে, নির্বাচনের মাঠ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত মতে, আসনকেন্দ্রিক সীমানা জটিলতা নিরসন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সর্বাত্বক সহযোগিতায় কাজ করছে ইসি। ইতোমধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবের পর এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মারাত্মক ঝুঁকির আওতায় রয়েছে ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ এবং জেলা প্রশাসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ খাতে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ২ হাজার ৩৯২টি কেন্দ্র। বাকি ১৯ হাজার ৫৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে। প্রতি কেন্দ্রের জন্য ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৫ জানুয়ারি মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের জন্য বডি ক্যামেরা কেনার অনুমোদন দেওয়া হলেও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে তা এখনও বাস্তবায়নের আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বডি ক্যামেরা থাকবে কি থাকবে না, তা সময়ই বলে দেবে বলে ধারণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬ ভোটকেন্দ্রে বসছে সিসিটিভি

আপডেট সময় : ১০:৪৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

* সিটি করপোরেশনে ২৩৯২টি কেন্দ্র, ইউপিতে ১৯৫৫৪টি
* ব্যয় নির্ধারণ প্রায় ৭২ কোটি টাকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনে রয়েছে ২৩৯২টি ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবের পর এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে জনরোষের ভয়ে দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে চলে যান শেখ হাসিনার সরকারের আজ্ঞাবহ মন্ত্রী-এমপি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। ওইদিনই পতন ঘটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় শরীক জোট সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলের। এর পরই ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সর্বস্তরে বৈষম্য দূরীকরণে নেওয়া হয় সংস্কার কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির দিনে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ঘোষণা দেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের ঘোষিত অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিলে ছিলো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

তবে, সংশোধন করা তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পরিবেশ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ভোট ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে স্বয়ং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনেও।
সম্প্রতি সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানান জেলা প্রশাসকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগও। এ অবস্থায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এদিকে, নির্বাচনের মাঠ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত মতে, আসনকেন্দ্রিক সীমানা জটিলতা নিরসন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকারের সর্বাত্বক সহযোগিতায় কাজ করছে ইসি। ইতোমধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবের পর এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মারাত্মক ঝুঁকির আওতায় রয়েছে ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ এবং জেলা প্রশাসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ খাতে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ২ হাজার ৩৯২টি কেন্দ্র। বাকি ১৯ হাজার ৫৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে। প্রতি কেন্দ্রের জন্য ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৫ জানুয়ারি মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশের জন্য বডি ক্যামেরা কেনার অনুমোদন দেওয়া হলেও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে তা এখনও বাস্তবায়নের আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বডি ক্যামেরা থাকবে কি থাকবে না, তা সময়ই বলে দেবে বলে ধারণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআর/সবা