১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের ওপর নতুন করে শুল্কের হুমকি

ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগদানের আমন্ত্রণে প্যারিস অনাগ্রহ দেখানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেন তিনি।

একই সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ডেনমার্কের অংশ আর্কটিক ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের জের ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন,
“আমি ম্যাক্রোঁর ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব। এরপর তিনি বোর্ড অব পিসে যোগ দেবেন। যদিও তাকে যোগ দিতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠনের কথা বলা হলেও এর সনদে গাজার বাইরেও বিস্তৃত ভূমিকার ইঙ্গিত রয়েছে। এ কারণেই ফ্রান্স এ উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

এরপর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ম্যাক্রোঁর একটি ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে ম্যাক্রোঁ ইরান ও সিরিয়া ইস্যুতে একমত হলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান “বুঝতে পারছেন না” বলে উল্লেখ করেন। একই বার্তায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে দাভোসে বৈঠক, এমনকি নৈশভোজের প্রস্তাবও দেন ম্যাক্রোঁ।

এর আগে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ব্যঙ্গ করে। বেসেন্ট বলেছিলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় ট্রাম্প আগাম পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ যুক্তিকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির অজুহাতে আগেভাগে বিপদ ডেকে আনার সঙ্গে তুলনা করে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি “অগ্রহণযোগ্য” ও “অকার্যকর”। শুল্ককে পররাষ্ট্রনীতির চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাকে ফ্রান্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না বলেও সূত্রটি মন্তব্য করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্সের ওপর নতুন করে শুল্কের হুমকি

আপডেট সময় : ০৫:০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগদানের আমন্ত্রণে প্যারিস অনাগ্রহ দেখানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেন তিনি।

একই সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ডেনমার্কের অংশ আর্কটিক ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের জের ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন,
“আমি ম্যাক্রোঁর ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব। এরপর তিনি বোর্ড অব পিসে যোগ দেবেন। যদিও তাকে যোগ দিতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠনের কথা বলা হলেও এর সনদে গাজার বাইরেও বিস্তৃত ভূমিকার ইঙ্গিত রয়েছে। এ কারণেই ফ্রান্স এ উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

এরপর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ম্যাক্রোঁর একটি ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে ম্যাক্রোঁ ইরান ও সিরিয়া ইস্যুতে একমত হলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান “বুঝতে পারছেন না” বলে উল্লেখ করেন। একই বার্তায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে দাভোসে বৈঠক, এমনকি নৈশভোজের প্রস্তাবও দেন ম্যাক্রোঁ।

এর আগে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ব্যঙ্গ করে। বেসেন্ট বলেছিলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় ট্রাম্প আগাম পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ যুক্তিকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির অজুহাতে আগেভাগে বিপদ ডেকে আনার সঙ্গে তুলনা করে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি “অগ্রহণযোগ্য” ও “অকার্যকর”। শুল্ককে পররাষ্ট্রনীতির চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাকে ফ্রান্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না বলেও সূত্রটি মন্তব্য করে।