০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই দশকের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে

প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৯ থেকে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শাসন ২০২৪ সালের আগস্টে শেষ হয়। তরুণ নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতন ঘটে, এরপর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৫ সালের বড়দিনে দেশে ফেরেন তারেক রহমান, এবং তাকে দেওয়া হয় বীরোচিত অভ্যর্থনা। এর আগে ২০০৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে চলে যান।

তারেক রহমানের পরিবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম নেতা ছিলেন।

দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নতুনভাবে স্থিতিশীল ও উন্নত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—

  • দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি

  • পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা, চামড়া ও অন্যান্য খাত উৎসাহিত করা

  • প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদ বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “দেশে ফেরার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না।” সাক্ষাৎকারে তার পাশে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান, যিনি বাবার পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

ভাবমূর্তি বদলের চেষ্টা

১৯৬৫ সালে ঢাকায় জন্মানো তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে ব্যবসায়িক খাতে ঝুঁকেন। দেশে ফেরার পর তিনি নিজেকে হাসিনার অধীনে পারিবারিক নিপীড়নের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপির ভেতরে তার প্রভাবশালী অবস্থান ও সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল, যা তিনি সবসময় অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রতিশোধ মানুষকে কী দেয়? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।”

শেখ হাসিনার শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা হয়, এবং অনুপস্থিতিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০১৮ সালে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়াও উল্লেখযোগ্য। তবে শেখ হাসিনার পতনের পর এসব মামলায় খালাস পান।

দেশে ফেরার পর তার আচরণে এসেছে সংযম। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বার্তা তিনি বারবার দিচ্ছেন। নতুন শুরুর প্রত্যাশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপিতে শক্তিশালী নেতৃত্ব

বর্তমানে তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্ব সুদৃঢ়। প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনায় তিনি সরাসরি তদারকি করছেন। একসময় প্রবাস থেকে করতেন এই কাজগুলো।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকারসূত্রে উঠে এলেও তার মূল অগ্রাধিকার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও টিকিয়ে রাখা। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র চর্চা করলেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি এবং দেশ পুনর্গঠন করতে পারি। গণতন্ত্র থাকলেই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা হয়।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে পৌর ভবনের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ

দুই দশকের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৯ থেকে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শাসন ২০২৪ সালের আগস্টে শেষ হয়। তরুণ নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতন ঘটে, এরপর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৫ সালের বড়দিনে দেশে ফেরেন তারেক রহমান, এবং তাকে দেওয়া হয় বীরোচিত অভ্যর্থনা। এর আগে ২০০৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তিনি দেশের বাইরে চলে যান।

তারেক রহমানের পরিবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম নেতা ছিলেন।

দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নতুনভাবে স্থিতিশীল ও উন্নত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—

  • দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি

  • পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা, চামড়া ও অন্যান্য খাত উৎসাহিত করা

  • প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদ বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “দেশে ফেরার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে তা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না।” সাক্ষাৎকারে তার পাশে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান, যিনি বাবার পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

ভাবমূর্তি বদলের চেষ্টা

১৯৬৫ সালে ঢাকায় জন্মানো তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে ব্যবসায়িক খাতে ঝুঁকেন। দেশে ফেরার পর তিনি নিজেকে হাসিনার অধীনে পারিবারিক নিপীড়নের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপির ভেতরে তার প্রভাবশালী অবস্থান ও সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল, যা তিনি সবসময় অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রতিশোধ মানুষকে কী দেয়? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।”

শেখ হাসিনার শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা হয়, এবং অনুপস্থিতিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০১৮ সালে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়াও উল্লেখযোগ্য। তবে শেখ হাসিনার পতনের পর এসব মামলায় খালাস পান।

দেশে ফেরার পর তার আচরণে এসেছে সংযম। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বার্তা তিনি বারবার দিচ্ছেন। নতুন শুরুর প্রত্যাশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপিতে শক্তিশালী নেতৃত্ব

বর্তমানে তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্ব সুদৃঢ়। প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনায় তিনি সরাসরি তদারকি করছেন। একসময় প্রবাস থেকে করতেন এই কাজগুলো।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকারসূত্রে উঠে এলেও তার মূল অগ্রাধিকার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও টিকিয়ে রাখা। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র চর্চা করলেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি এবং দেশ পুনর্গঠন করতে পারি। গণতন্ত্র থাকলেই জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা হয়।”

শু/সবা