বিএনপির মন্ত্রিসভার ‘শর্ট লিস্টে’ চট্টগ্রামের ৬: নতুন নাম আলোচনায় » দৈনিক সবুজ বাংলা
০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির মন্ত্রিসভার ‘শর্ট লিস্টে’ চট্টগ্রামের ৬: নতুন নাম আলোচনায়

বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির মন্ত্রিসভা সদস্য কারা হবেন তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারক রহমান দলকে সহায়ক নতুন নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয় নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দক্ষিন প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। হাতে সময় মাত্র একদিন।

চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, রবিবারই মন্ত্রিসভার ‘শর্ট লিস্ট’ প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। শপথ পর্যন্ত চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্যের নাম এতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং বাকি ৩ জন প্রতিমন্ত্রী হওয়ার প্রার্থী হিসেবে আছেন।

সম্ভাব্য পূর্ণমন্ত্রী:

  • চট্টগ্রাম-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • বান্দরবান থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচংি প্রু জরী

সম্ভাব্য প্রতিমন্ত্রী:

  • চট্টগ্রাম-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হলোল

  • চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফয়িান

  • চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান

তবে শুরুর দুইজনের মধ্যে একজন শেষ পর্যন্ত বাদ পড়তে পারেন। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম-৭ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী যুক্ত হতে পারেন।

চট্টগ্রাম মহানগরের একজন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এভাবে হলে চট্টগ্রামে নোমান-নাছরির যুগই নতুন করে শুরু হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি এবং দীর্ঘদিনের নগর নেতৃত্বের কারণে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছরি উদ্দিন রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একসময় তাদের নেতৃত্বে দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল—‘নোমান গ্রুপ’ ও ‘নাছরি গ্রুপ’।

প্রসঙ্গত, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান গত বছর ইন্তেকাল করেছেন। এবার তাদের দুই সন্তান পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে স্থান পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনকে বলা হয় ‘লাকি আসন’, কারণ বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই আসন থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়, সেই দলই ক্ষমতায় যায় এবং সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। এবার এই আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফয়িান রাজনৈতিক আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফয়িান বলেন, “দল যখন প্রয়োজন মনে করছে, তখন সব দায়িত্ব পালন করছি। হাইকমান্ড যেটা ভালো মনে করে, আমি তা পালন করতে প্রস্তুত।”

বিএনপির একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও নতুনদের মধ্যে যারা দক্ষ ও পরীক্ষিত, তাদের সমন্বয় করা হবে। মন্ত্রিসভা আকারে ছোট হলেও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় রাখা হবে। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টা হিসেবে ১০ জন স্থান পেয়েছিলেন।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

বিএনপির মন্ত্রিসভার ‘শর্ট লিস্টে’ চট্টগ্রামের ৬: নতুন নাম আলোচনায়

আপডেট সময় : ০২:০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির মন্ত্রিসভা সদস্য কারা হবেন তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারক রহমান দলকে সহায়ক নতুন নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয় নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দক্ষিন প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। হাতে সময় মাত্র একদিন।

চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, রবিবারই মন্ত্রিসভার ‘শর্ট লিস্ট’ প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। শপথ পর্যন্ত চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত ৬ সংসদ সদস্যের নাম এতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং বাকি ৩ জন প্রতিমন্ত্রী হওয়ার প্রার্থী হিসেবে আছেন।

সম্ভাব্য পূর্ণমন্ত্রী:

  • চট্টগ্রাম-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • বান্দরবান থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচংি প্রু জরী

সম্ভাব্য প্রতিমন্ত্রী:

  • চট্টগ্রাম-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হলোল

  • চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফয়িান

  • চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান

তবে শুরুর দুইজনের মধ্যে একজন শেষ পর্যন্ত বাদ পড়তে পারেন। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম-৭ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী যুক্ত হতে পারেন।

চট্টগ্রাম মহানগরের একজন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এভাবে হলে চট্টগ্রামে নোমান-নাছরির যুগই নতুন করে শুরু হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি এবং দীর্ঘদিনের নগর নেতৃত্বের কারণে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছরি উদ্দিন রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একসময় তাদের নেতৃত্বে দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল—‘নোমান গ্রুপ’ ও ‘নাছরি গ্রুপ’।

প্রসঙ্গত, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান গত বছর ইন্তেকাল করেছেন। এবার তাদের দুই সন্তান পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে স্থান পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনকে বলা হয় ‘লাকি আসন’, কারণ বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই আসন থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়, সেই দলই ক্ষমতায় যায় এবং সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। এবার এই আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফয়িান রাজনৈতিক আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফয়িান বলেন, “দল যখন প্রয়োজন মনে করছে, তখন সব দায়িত্ব পালন করছি। হাইকমান্ড যেটা ভালো মনে করে, আমি তা পালন করতে প্রস্তুত।”

বিএনপির একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও নতুনদের মধ্যে যারা দক্ষ ও পরীক্ষিত, তাদের সমন্বয় করা হবে। মন্ত্রিসভা আকারে ছোট হলেও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় রাখা হবে। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টা হিসেবে ১০ জন স্থান পেয়েছিলেন।

শু/সবা