১১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলায় যুক্ত হচ্ছে আরো একটি উপজেলা

 বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৯টি উপজেলা রয়েছে। প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে এটি হবে পর্যটনসমৃদ্ধ জেলার দশম উপজেলা।

নতুন উপজেলা গঠনের অংশ হিসেবে তিনটি নতুন ইউনিয়ন তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো— হারবাং ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে উত্তর হারবাং ইউনিয়ন, বরইতলী ইউনিয়ন থেকে পহরচাঁদা ইউনিয়ন এবং ডুলহাজারা ইউনিয়ন থেকে মালুমঘাট ইউনিয়ন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে মাতামুহুরী উপজেলা গঠন করা হবে। ইউনিয়নগুলো হলো— সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী। এসব ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হয়েছে। মূলত এই নদীর নামেই নতুন উপজেলার নামকরণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রশাসনিক এলাকা নির্ধারণ ও সার্বিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘মাতামুহুরী উপজেলা গঠন দীর্ঘদিনের জনদাবি। প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন সৃষ্টির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

সভায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহে মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)-এর প্রথম সভাতেই নতুন উপজেলা অনুমোদন পাবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক করে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে মাতামুহুরীকে সাংগঠনিক উপজেলা ঘোষণা করে জেলা বিএনপি কমিটি গঠন করেছিল। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন এবং চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উন্নয়ন সাধিত হবে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের বাড়িতে অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত

কক্সবাজার জেলায় যুক্ত হচ্ছে আরো একটি উপজেলা

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৯টি উপজেলা রয়েছে। প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে এটি হবে পর্যটনসমৃদ্ধ জেলার দশম উপজেলা।

নতুন উপজেলা গঠনের অংশ হিসেবে তিনটি নতুন ইউনিয়ন তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো— হারবাং ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে উত্তর হারবাং ইউনিয়ন, বরইতলী ইউনিয়ন থেকে পহরচাঁদা ইউনিয়ন এবং ডুলহাজারা ইউনিয়ন থেকে মালুমঘাট ইউনিয়ন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে মাতামুহুরী উপজেলা গঠন করা হবে। ইউনিয়নগুলো হলো— সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী। এসব ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হয়েছে। মূলত এই নদীর নামেই নতুন উপজেলার নামকরণ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রশাসনিক এলাকা নির্ধারণ ও সার্বিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘মাতামুহুরী উপজেলা গঠন দীর্ঘদিনের জনদাবি। প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন সৃষ্টির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

সভায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহে মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)-এর প্রথম সভাতেই নতুন উপজেলা অনুমোদন পাবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক করে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে মাতামুহুরীকে সাংগঠনিক উপজেলা ঘোষণা করে জেলা বিএনপি কমিটি গঠন করেছিল। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন এবং চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উন্নয়ন সাধিত হবে।

শু/সবা