8:53 pm, Thursday, 9 July 2026

চট্টগ্রামে এক হালি লেবু ২০০ টাকা

প্রথম রমজান শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রাম-এর বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্যবৃদ্ধিতে বিক্রি হচ্ছে লেবু। বর্তমানে বাজারে ছোট লেবুর হালিও ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝারি ও বড় আকারের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকায়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও অলিগলির ভ্রাম্যমাণ দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত লেবু বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হলেও দরদাম করে ক্রেতারা ১৫০–১৬০ টাকায় কিনতে পারছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর বহদ্দারহাট, চকবাজারকাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতি পিস লেবুর দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা হাঁকতে দেখা যায়। দরকষাকষির পর একজন গ্রাহক দুটি লেবু কিনেছেন ৯০ টাকায়।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর মজুদ কম। অনেক বাজারে লেবুই নেই বললেই চলে। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তার অনেকগুলোই অপরিপক্ব। তুলনামূলক কম দামে যেসব লেবু বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোতে রস নেই বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাঁদের দাবি, একটি শ্রেণি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে লেবুর দাম বাড়িয়ে রেখেছে।

চকবাজার কাঁচাবাজারের লেবু বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “বাজারে লেবুর সংকট রয়েছে। পাইকারি বাজারেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। কিছুদিন আগে যে দামে এক ডজন লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই দামে এক হালিও পাওয়া কঠিন।”

বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক চাষি রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এখনই বাজারে লেবু ছাড়ছেন না। একই কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও লেবু মজুত করে রাখছেন, কারণ এই পণ্য কিছুদিন সহজেই সংরক্ষণ করা যায়।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সামনে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে লেবু বিক্রি করেন নাজমি উদ্দিন মহন। তিনি বলেন, তাঁর ভ্যানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। একই বাজারের ভেতরে একটি দোকানে তুলনামূলক পাকা লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া হামজারবাগ রাস্তার মুখে এক বৃদ্ধ রাস্তার পাশে চট পেতে ছোট আকারের লেবু হালি প্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বিকেলের দিকে দাম কিছুটা কমবে—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিক্রেতারা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ার আগাম প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে। ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় লেবুর শরবত হওয়ায় ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই এর চাহিদা বেশি। ফলে রোজা শুরুর আগেই দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন।

একজন ক্রেতা বলেন, “১০০ টাকা পর্যন্ত দিয়েও এক হালি লেবু কিনতে হচ্ছে। হঠাৎ করেই লেবুর দাম বেড়ে গেছে। ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলেও বেশি দামের কারণে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

বর্তমানে বাজারে ছোট পাতি লেবু হালি প্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বড় ও লম্বা লেবুর দাম উঠেছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। অধিকাংশ ক্রেতাকেই বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করতে দেখা গেছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × two =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

চট্টগ্রামে এক হালি লেবু ২০০ টাকা

Update Time : ০২:০০:৫৫ pm, Monday, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রথম রমজান শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রাম-এর বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্যবৃদ্ধিতে বিক্রি হচ্ছে লেবু। বর্তমানে বাজারে ছোট লেবুর হালিও ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝারি ও বড় আকারের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকায়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও অলিগলির ভ্রাম্যমাণ দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত লেবু বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হলেও দরদাম করে ক্রেতারা ১৫০–১৬০ টাকায় কিনতে পারছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর বহদ্দারহাট, চকবাজারকাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতি পিস লেবুর দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা হাঁকতে দেখা যায়। দরকষাকষির পর একজন গ্রাহক দুটি লেবু কিনেছেন ৯০ টাকায়।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর মজুদ কম। অনেক বাজারে লেবুই নেই বললেই চলে। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, তার অনেকগুলোই অপরিপক্ব। তুলনামূলক কম দামে যেসব লেবু বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোতে রস নেই বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাঁদের দাবি, একটি শ্রেণি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে লেবুর দাম বাড়িয়ে রেখেছে।

চকবাজার কাঁচাবাজারের লেবু বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “বাজারে লেবুর সংকট রয়েছে। পাইকারি বাজারেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। কিছুদিন আগে যে দামে এক ডজন লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই দামে এক হালিও পাওয়া কঠিন।”

বিক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক চাষি রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এখনই বাজারে লেবু ছাড়ছেন না। একই কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও লেবু মজুত করে রাখছেন, কারণ এই পণ্য কিছুদিন সহজেই সংরক্ষণ করা যায়।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সামনে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে লেবু বিক্রি করেন নাজমি উদ্দিন মহন। তিনি বলেন, তাঁর ভ্যানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। একই বাজারের ভেতরে একটি দোকানে তুলনামূলক পাকা লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া হামজারবাগ রাস্তার মুখে এক বৃদ্ধ রাস্তার পাশে চট পেতে ছোট আকারের লেবু হালি প্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বিকেলের দিকে দাম কিছুটা কমবে—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিক্রেতারা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ার আগাম প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে। ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় লেবুর শরবত হওয়ায় ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই এর চাহিদা বেশি। ফলে রোজা শুরুর আগেই দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন।

একজন ক্রেতা বলেন, “১০০ টাকা পর্যন্ত দিয়েও এক হালি লেবু কিনতে হচ্ছে। হঠাৎ করেই লেবুর দাম বেড়ে গেছে। ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলেও বেশি দামের কারণে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

বর্তমানে বাজারে ছোট পাতি লেবু হালি প্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বড় ও লম্বা লেবুর দাম উঠেছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। অধিকাংশ ক্রেতাকেই বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করতে দেখা গেছে।

শু/সবা