8:20 am, Thursday, 9 July 2026

চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে থাকতে পারেন যাঁরা

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ পাবে দলটি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য মোট ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির একাধিক পরিচিত নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতমা বাদশা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মাহেরুন নেছা র্নাগিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ এবং ফটিকছড়িতে গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা, পেশাগত দক্ষতা ও তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়েই সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে। তবে কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন–সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই দীর্ঘ পথে একাধিক মামলা ও পাঁচ–ছয়বার গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছি। আমি চাই, চট্টগ্রামে আমার এই দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের মূল্যায়ন হোক। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির কথা কখনো ভাবিনি; আদর্শ ও দলের জন্য কাজ করেছি। আমার মতো ত্যাগী নেত্রীদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়নের সময় এসেছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সময়মতো দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। দলের ভেতরে বহু যোগ্য নারী নেত্রী রয়েছেন, যারা মনোনয়নের আশায় সক্রিয় রয়েছেন। সবদিক বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, এবার তুলনামূলক তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনাও বেশি।

এদিকে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা গণমাধ্যমকে বলেন,“আমি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। এখন দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

14 + sixteen =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে থাকতে পারেন যাঁরা

Update Time : ০২:০৮:১১ pm, Monday, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ পাবে দলটি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য মোট ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির একাধিক পরিচিত নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতমা বাদশা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মাহেরুন নেছা র্নাগিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ এবং ফটিকছড়িতে গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা, পেশাগত দক্ষতা ও তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়েই সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে। তবে কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন–সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই দীর্ঘ পথে একাধিক মামলা ও পাঁচ–ছয়বার গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছি। আমি চাই, চট্টগ্রামে আমার এই দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের মূল্যায়ন হোক। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির কথা কখনো ভাবিনি; আদর্শ ও দলের জন্য কাজ করেছি। আমার মতো ত্যাগী নেত্রীদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়নের সময় এসেছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সময়মতো দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। দলের ভেতরে বহু যোগ্য নারী নেত্রী রয়েছেন, যারা মনোনয়নের আশায় সক্রিয় রয়েছেন। সবদিক বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, এবার তুলনামূলক তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনাও বেশি।

এদিকে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা গণমাধ্যমকে বলেন,“আমি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। এখন দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”

শু/সবা