দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর–এর ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল জানতে পারছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর ও সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাচ্ছে।
ফল ঘোষণার সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
জানা গেছে, এ বছর সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে গত ২৮ ডিসেম্বর একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন বাংলা, পরদিন ইংরেজি এবং তৃতীয় দিন গণিত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে ৩১ ডিসেম্বরের বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ডভিত্তিক আনুপাতিক হার এবং উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বোর্ডের অধীনে মোট ৮৭ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০ হাজার ২১৮ জন, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। নিবন্ধিতদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৩১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ১০ হাজার ৩০ জন সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি। সব বিষয়ে অংশ নেয় ৭৭ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পর রাজশাহী বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। কুমিল্লা ও দিনাজপুর বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪০ হাজার ২১৯ জন এবং ৪০ হাজার ২৩১ জন। এ দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ২৩ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া যশোর বোর্ডে ৩৮ হাজার ৬৭৬ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ২৯ হাজার ৫ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৩ হাজার ২০০ জন এবং সিলেট বোর্ডে ২৩ হাজার ২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী ছিল বরিশাল বোর্ডে, যেখানে ২০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
শু/সবা
























