লালমনিরহাট সিভিল সার্জন অফিসে মেডিকেল ফিটনেস সনদ প্রদানকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অফিসের প্রধান সহকারী বা ‘বড়বাবু’ নারায়ণ চন্দ্রের নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা মেডিকেল ফিটনেস সনদের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে ভিড় করেন। চাকরির চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘চা-মিষ্টি খাওয়ার খরচ’ উল্লেখ করে জোরপূর্বক ২০০ টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মোট ২৩৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায় করা হয়েছে। কোনো ধরনের সরকারি রশিদ ছাড়াই এই টাকা নেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কালীগঞ্জ থেকে আসা এক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাময়িকভাবে টাকা আদায় বন্ধ রাখা হয় বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, অফিস সহায়ক সাহেদ প্রকাশ্যে টাকা সংগ্রহ করে বড়বাবুর কাছে জমা দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেদ বলেন, বড়বাবুর নির্দেশেই তিনি টাকা তুলছেন।

অভিযুক্ত বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্র প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে টাকা আদায় বন্ধ রাখার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, সিভিল সার্জনের কক্ষের সামনেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কাজে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শু/সবা























