12:28 pm, Thursday, 9 July 2026

থানার দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে সরব এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরাসরি দেবিদ্বার থানার সেকেন্ড অফিসারকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার কঠোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। সভায় উপস্থিত দেবিদ্বার থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান-এর সামনেই তিনি সেকেন্ড অফিসার মতিনকে ‘ফুললি করাপ্টেড’ বলে উল্লেখ করেন এবং আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ওসি আন্তরিক হলেও থানার ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও বাইরের দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার ভাষায়, টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না, ধরতে গেলে আগেই ফোন করে সতর্ক করে দেওয়া হয়—ফলে চোর-পুলিশের এক অদ্ভুত খেলা চলে। তিনি দাবি করেন, থানার কার্যক্রম একজন বেসরকারি ব্যক্তি ‘হেলাল’-এর মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে, যিনি কোনোভাবেই পুলিশের সদস্য নন অথচ কোন মামলা হবে বা হবে না—সে বিষয়ে নীরব প্রভাব খাটান।

তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সহজে থানায় ঢুকতে পারলেও একজন সাধারণ ভুক্তভোগী ভয় ও দালালের বেড়াজালে আটকে যায়। পুলিশের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা তিনি স্বীকার করলেও, থানার বাইরে ও ভেতরে থাকা তথাকথিত ‘অচাকরিজীবী পুলিশ’ বা দালাল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান। তার মতে, থানায় মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে সরাসরি ও আইনসম্মত; কোনো অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ সিন্ডিকেট সেখানে থাকতে পারে না।

সভায় তিনি ওসিকে অনুরোধ করেন, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দেবিদ্বার থানাকে দালালমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য থানার দরজা উন্মুক্ত রাখতে। আইনসম্মত বিষয়ে সহযোগিতা এবং অবৈধ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

twelve + seventeen =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

থানার দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে সরব এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

Update Time : ০৪:১৯:২৫ pm, Wednesday, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরাসরি দেবিদ্বার থানার সেকেন্ড অফিসারকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার কঠোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। সভায় উপস্থিত দেবিদ্বার থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান-এর সামনেই তিনি সেকেন্ড অফিসার মতিনকে ‘ফুললি করাপ্টেড’ বলে উল্লেখ করেন এবং আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ওসি আন্তরিক হলেও থানার ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও বাইরের দালাল চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার ভাষায়, টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না, ধরতে গেলে আগেই ফোন করে সতর্ক করে দেওয়া হয়—ফলে চোর-পুলিশের এক অদ্ভুত খেলা চলে। তিনি দাবি করেন, থানার কার্যক্রম একজন বেসরকারি ব্যক্তি ‘হেলাল’-এর মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে, যিনি কোনোভাবেই পুলিশের সদস্য নন অথচ কোন মামলা হবে বা হবে না—সে বিষয়ে নীরব প্রভাব খাটান।

তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সহজে থানায় ঢুকতে পারলেও একজন সাধারণ ভুক্তভোগী ভয় ও দালালের বেড়াজালে আটকে যায়। পুলিশের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা তিনি স্বীকার করলেও, থানার বাইরে ও ভেতরে থাকা তথাকথিত ‘অচাকরিজীবী পুলিশ’ বা দালাল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান। তার মতে, থানায় মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে সরাসরি ও আইনসম্মত; কোনো অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ সিন্ডিকেট সেখানে থাকতে পারে না।

সভায় তিনি ওসিকে অনুরোধ করেন, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দেবিদ্বার থানাকে দালালমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য থানার দরজা উন্মুক্ত রাখতে। আইনসম্মত বিষয়ে সহযোগিতা এবং অবৈধ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

শু/সবা