3:04 am, Thursday, 9 July 2026

চট্টগ্রামে রমজানে বেড়েছে সব ধরনের ফলের দাম, চাপে ক্রেতারা

পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে চট্টগ্রামের বাজারে দেশি ও বিদেশি—সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। ফলে ফল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর, আনার ও নাশপাতির মতো আমদানি ফলের দাম রমজানের আগের তুলনায় এখন কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে ইফতারে ফলের চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রতিদিনই বাজারে ফলের চালান আসছে, কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা সমন্বয় হতে পারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারে ফলের চাহিদা বেশি থাকলেও এমন দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাইকারিতেই বেড়েছে দাম

চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের ফলের পাইকারি বাজারটি ‘ফলমন্ডি’ নামে পরিচিত। ব্যবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফলমন্ডিতে পাইকারি পর্যায়ে ১৫ কেজির মাল্টার কার্টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়—অর্থাৎ কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৩৫ টাকা।
১০ কেজির সবুজ আঙুরের কার্টন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় (কেজি ২৮০–৩০০ টাকা) এবং কালো আঙুরের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় (কেজি ৪৫০–৫০০ টাকা)।

চীন থেকে আমদানি করা ২০ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায়—কেজিপ্রতি ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা। আনার বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
এ ছাড়া ফ্রান্স ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ১৮ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় (কেজি ২৭৮ টাকা)। ৯ কেজির নাশপাতির কার্টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকায় (কেজি ৩৩৫ টাকা) এবং ৮ কেজির কমলার কার্টন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকায় (কেজি ২৫০ টাকা)। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি জাতের ফলের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খুচরা বাজারে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি

নগরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে, রমজানের আগে আনার কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়। চায়না কমলা ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা এবং আপেল ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাশপাতি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা এবং কালো আঙুর ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবুজ আঙুরের দামও ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে।

আমদানিতে বেশি খরচ, দাবি ব্যবসায়ী নেতার

আমদানিকারক আঁখি এন্টারপ্রাইজের মালিক ও চট্টগ্রাম ফলমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, বিদেশ থেকে ফল আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম বেশি। এক কেজি ফল এক ডলারের নিচে আমদানি করা সম্ভব নয়। শুল্ক ও জাহাজ ভাড়া যোগ করলে প্রতি কেজিতে প্রায় এক ডলার খরচ পড়ে। সরকার আমদানি করা ফলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করায় উচ্চ শুল্ক দিতে হয়, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের ফল ব্যবসায়ী নুরুল আবছার বলেন, পাইকারিতেই দাম বেশি হওয়ায় খুচরায় দাম বাড়তি রাখতে হয়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও পচনশীল পণ্যের ঝুঁকি যোগ হয়। তবে দাম বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।

কমেছে আমদানির পরিমাণ

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, রমজান ঘিরে বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা ফল আমদানি হচ্ছে, তবে আগের তুলনায় কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপেল আমদানি হয়েছে ৮৪ হাজার ৬৪৮ টন, কমলা ও মাল্টা ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৯ টন, আঙুর ৩৯ হাজার ৭৬৩ টন, নাশপাতি ৪ হাজার ১৮ টন এবং খেজুর ৫৬ হাজার ২৯৮ টন।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বিদেশি ফল আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন। পরের অর্থবছরগুলোতে আমদানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে চীন, থাইল্যান্ড, ভুটান, মিসর, ব্রাজিল, তিউনিসিয়া, পর্তুগাল, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ফ্রান্স থেকে ফল আমদানি করা হচ্ছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 × one =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

চট্টগ্রামে রমজানে বেড়েছে সব ধরনের ফলের দাম, চাপে ক্রেতারা

Update Time : ০১:৪৪:০৭ pm, Saturday, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে চট্টগ্রামের বাজারে দেশি ও বিদেশি—সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। ফলে ফল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর, আনার ও নাশপাতির মতো আমদানি ফলের দাম রমজানের আগের তুলনায় এখন কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে ইফতারে ফলের চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রতিদিনই বাজারে ফলের চালান আসছে, কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা সমন্বয় হতে পারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারে ফলের চাহিদা বেশি থাকলেও এমন দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাইকারিতেই বেড়েছে দাম

চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের ফলের পাইকারি বাজারটি ‘ফলমন্ডি’ নামে পরিচিত। ব্যবসায়ীরা জানান, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফলমন্ডিতে পাইকারি পর্যায়ে ১৫ কেজির মাল্টার কার্টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়—অর্থাৎ কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৩৫ টাকা।
১০ কেজির সবুজ আঙুরের কার্টন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় (কেজি ২৮০–৩০০ টাকা) এবং কালো আঙুরের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় (কেজি ৪৫০–৫০০ টাকা)।

চীন থেকে আমদানি করা ২০ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায়—কেজিপ্রতি ২২৫ থেকে ৩০০ টাকা। আনার বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
এ ছাড়া ফ্রান্স ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ১৮ কেজির আপেলের কার্টন বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় (কেজি ২৭৮ টাকা)। ৯ কেজির নাশপাতির কার্টন বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকায় (কেজি ৩৩৫ টাকা) এবং ৮ কেজির কমলার কার্টন বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকায় (কেজি ২৫০ টাকা)। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি জাতের ফলের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খুচরা বাজারে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি

নগরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে, রমজানের আগে আনার কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়। চায়না কমলা ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকা, মাল্টা ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা এবং আপেল ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাশপাতি ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা এবং কালো আঙুর ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫০–৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবুজ আঙুরের দামও ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে।

আমদানিতে বেশি খরচ, দাবি ব্যবসায়ী নেতার

আমদানিকারক আঁখি এন্টারপ্রাইজের মালিক ও চট্টগ্রাম ফলমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, বিদেশ থেকে ফল আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম বেশি। এক কেজি ফল এক ডলারের নিচে আমদানি করা সম্ভব নয়। শুল্ক ও জাহাজ ভাড়া যোগ করলে প্রতি কেজিতে প্রায় এক ডলার খরচ পড়ে। সরকার আমদানি করা ফলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করায় উচ্চ শুল্ক দিতে হয়, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের ফল ব্যবসায়ী নুরুল আবছার বলেন, পাইকারিতেই দাম বেশি হওয়ায় খুচরায় দাম বাড়তি রাখতে হয়। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও পচনশীল পণ্যের ঝুঁকি যোগ হয়। তবে দাম বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।

কমেছে আমদানির পরিমাণ

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, রমজান ঘিরে বিভিন্ন দেশ থেকে তাজা ফল আমদানি হচ্ছে, তবে আগের তুলনায় কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপেল আমদানি হয়েছে ৮৪ হাজার ৬৪৮ টন, কমলা ও মাল্টা ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৯ টন, আঙুর ৩৯ হাজার ৭৬৩ টন, নাশপাতি ৪ হাজার ১৮ টন এবং খেজুর ৫৬ হাজার ২৯৮ টন।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বিদেশি ফল আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন। পরের অর্থবছরগুলোতে আমদানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে চীন, থাইল্যান্ড, ভুটান, মিসর, ব্রাজিল, তিউনিসিয়া, পর্তুগাল, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ফ্রান্স থেকে ফল আমদানি করা হচ্ছে।

শু/সবা