10:52 am, Thursday, 9 July 2026

কক্সবাজারের দরিয়া নগর সৈকতে শতাধিক কাছিমের ডিম উদ্ধার

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কবল থেকে বিপন্ন প্রজাতির মা কচ্ছপের শতাধিক ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ ইউনুস স্থানীয়দের সহায়তায় ডিমগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
ইউনুস জানান, একটি কুকুর বালিতে কিছু খুঁড়ছে। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে দেখা যায়, বালির নিচে মা কাছিমের ডিম পোঁতা ছিল এবং কুকুরটি সেগুলো একে একে বের করে নিচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার কয়েকজন ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে কুকুরের কাছ থেকে ডিমগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরে বিষয়টি দ্রুত কক্সবাজার বন বিভাগকে জানানো হয়। বন বিভাগের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকৃত কাছিমের ডিম গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
জানা যায়, মা কাছিম সাধারণত গভীর রাতে নিরিবিলি ও নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র সৈকতে ডিম পাড়ে এবং ডিম পাড়া শেষ হলে আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। এসব ডিমই ভবিষ্যতে কাছিমের বংশবৃদ্ধির একমাত্র ভরসা। কিন্তু কুকুরসহ বিভিন্ন হুমকির কারণে ডিমগুলো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।
উপকূলীয় বন বিভাগের কলতলী বিট কর্মকর্তা কেচু মারমা ডিম উদ্ধার ও বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন উদ্ধারকৃত ডিমগুলো যাথাযত উপায়ে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় পর সেখান থেকে কচ্ছপের বাচ্চা ফুটে নিরাপদে সাগরে ফিরে যেতে পারে। ডিমগুলো আপাতত বন বিভাগের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কাছিম একটি বিপন্ন প্রাণী। সাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাছিমের ডিম সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তাই এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen + ten =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

কক্সবাজারের দরিয়া নগর সৈকতে শতাধিক কাছিমের ডিম উদ্ধার

Update Time : ০৩:১৩:১২ pm, Saturday, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কক্সবাজারের দরিয়ানগর সমুদ্র সৈকত এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের কবল থেকে বিপন্ন প্রজাতির মা কচ্ছপের শতাধিক ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ ইউনুস স্থানীয়দের সহায়তায় ডিমগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
ইউনুস জানান, একটি কুকুর বালিতে কিছু খুঁড়ছে। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে দেখা যায়, বালির নিচে মা কাছিমের ডিম পোঁতা ছিল এবং কুকুরটি সেগুলো একে একে বের করে নিচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার কয়েকজন ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে কুকুরের কাছ থেকে ডিমগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরে বিষয়টি দ্রুত কক্সবাজার বন বিভাগকে জানানো হয়। বন বিভাগের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকৃত কাছিমের ডিম গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
জানা যায়, মা কাছিম সাধারণত গভীর রাতে নিরিবিলি ও নিরাপদ পরিবেশে সমুদ্র সৈকতে ডিম পাড়ে এবং ডিম পাড়া শেষ হলে আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। এসব ডিমই ভবিষ্যতে কাছিমের বংশবৃদ্ধির একমাত্র ভরসা। কিন্তু কুকুরসহ বিভিন্ন হুমকির কারণে ডিমগুলো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।
উপকূলীয় বন বিভাগের কলতলী বিট কর্মকর্তা কেচু মারমা ডিম উদ্ধার ও বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন উদ্ধারকৃত ডিমগুলো যাথাযত উপায়ে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় পর সেখান থেকে কচ্ছপের বাচ্চা ফুটে নিরাপদে সাগরে ফিরে যেতে পারে। ডিমগুলো আপাতত বন বিভাগের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
কাছিম একটি বিপন্ন প্রাণী। সাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাছিমের ডিম সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তাই এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শু/সবা