1:35 am, Friday, 10 July 2026

নিহত শিক্ষিকার রুহের মাগফেরাত কামনায় ইবি প্রশাসনের দোয়া

নিজ বিভাগে কর্মচারীর হাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, আইআইইআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ইবি উপাচার্য বলেন, আমার সহকর্মী হিসেবে এরকম বিনয়ী মানুষ কম দেখেছি। এই বিভাগে কিছুদিন আমি কোর্স পড়িয়েছি, এজন্য তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আমি একজন আদর্শ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষকে হারিয়েছি৷ আমাদের হৃদয়ের এই ক্ষত আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে৷ হত্যাকারীকে ইফতারের টাকাও দিয়েছিলেন ম্যাডাম, তার মোবাইলটাও কিনে দিয়েছেন। তার পরিবারের প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে আমরা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।

গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা কে গলা কেটে হত্যা করে কর্মচারী ফজলুর রহমান৷ পরবর্তীতে সে নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। নিহত শিক্ষিকার চিৎকারে ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া কে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। অভিযুক্তরা হচ্ছেন – কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার জানাজা শেষে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্তানে সমাহিত করা হয়। নিহত শিক্ষিকা ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জননী। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স ১১ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৯ বছর, তৃতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছর এবং তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চার বয়স ৬ মাস।  স্বামীর সাথে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পাশেই একটি বাসায় বসবাস করতেন রুনা।

 

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

12 + 20 =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

নিহত শিক্ষিকার রুহের মাগফেরাত কামনায় ইবি প্রশাসনের দোয়া

Update Time : ০৪:৫৪:০৩ pm, Friday, ৬ মার্চ ২০২৬

নিজ বিভাগে কর্মচারীর হাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, আইআইইআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ইবি উপাচার্য বলেন, আমার সহকর্মী হিসেবে এরকম বিনয়ী মানুষ কম দেখেছি। এই বিভাগে কিছুদিন আমি কোর্স পড়িয়েছি, এজন্য তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আমি একজন আদর্শ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষকে হারিয়েছি৷ আমাদের হৃদয়ের এই ক্ষত আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে৷ হত্যাকারীকে ইফতারের টাকাও দিয়েছিলেন ম্যাডাম, তার মোবাইলটাও কিনে দিয়েছেন। তার পরিবারের প্রতি আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করেন। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে আমরা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।

গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা কে গলা কেটে হত্যা করে কর্মচারী ফজলুর রহমান৷ পরবর্তীতে সে নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। নিহত শিক্ষিকার চিৎকারে ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া কে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। অভিযুক্তরা হচ্ছেন – কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার জানাজা শেষে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্তানে সমাহিত করা হয়। নিহত শিক্ষিকা ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জননী। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স ১১ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৯ বছর, তৃতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছর এবং তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চার বয়স ৬ মাস।  স্বামীর সাথে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পাশেই একটি বাসায় বসবাস করতেন রুনা।

 

শু/সবা