9:00 pm, Friday, 1 May 2026

৩৭ হাজার নারীপ্রধান পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান

পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যাতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান, সেক্ষেত্রে সেই সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বিদ্যমান ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

পাইলট পর্যায়ে যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা, অনুদান বা পেনশন পান, কিংবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে থাকেন—তাহলে সেই পরিবার ভাতার জন্য যোগ্য হবে না।

মন্ত্রী জানান, পাইলটিং পর্যায়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই কর্মসূচির জন্য মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতিসহ বাস্তবায়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

18 − 3 =

About Author Information

Popular Post

ইরানি ড্রোন ঠেকাতে আরব আমিরাতে লেজার সিস্টেম পাঠিয়েছিল ইসরায়েল

৩৭ হাজার নারীপ্রধান পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান

Update Time : ০৮:৩৪:১৩ pm, Monday, ৯ মার্চ ২০২৬

পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যাতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান, সেক্ষেত্রে সেই সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বিদ্যমান ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

পাইলট পর্যায়ে যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা, অনুদান বা পেনশন পান, কিংবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে থাকেন—তাহলে সেই পরিবার ভাতার জন্য যোগ্য হবে না।

মন্ত্রী জানান, পাইলটিং পর্যায়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই কর্মসূচির জন্য মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতিসহ বাস্তবায়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শু/সবা