পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উত্তরাঞ্চলে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রংপুরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট।
এসব চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নজরদারি এবং যানজট নিরসনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রংপুর নগরীর মডার্ন মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে র্যাব-পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চেকপোস্টে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রাপথে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ মালামাল পরিবহন না হয় এবং যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।
র্যাবের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পুলিশের সদস্যরাও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে রাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
যাত্রীরা জানান, আগের বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক উন্নত। চেকপোস্ট থাকায় তারা স্বস্তি অনুভব করছেন এবং পথিমধ্যে ছিনতাই বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা কমেছে। অনেক যাত্রী বলেন, “গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করায় মনে হচ্ছে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে, ফলে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছি।”
তবে নিরাপত্তা জোরদার হলেও বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, স্বাভাবিক সময়ে ৭০০ টাকার ভাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত যাত্রীরা চাপে পড়ছেন। তাদের দাবি, প্রশাসন যেন ভাড়া নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
সচেতন মহলের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা গেলে এবারের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে। প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
শু/সবা




















