রাজনৈতিক চাপের মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন। তাসলিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম অব্যাহতি পত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অব্যাহতি পত্রে তিনি লিখেন, ‘আমি সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৪ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার পারিবারিক ব্যস্ততা এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে অপারগ। উক্ত পদ থেকে আমাকে অব্যাহতি প্রদানের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।’
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাছলিম উদ্দিনকে ফোন কল করা হলে ভিন্নমত জানান তিনি। তিনি নানামুখী চাপের বিষয় তুলে ধরে বলেন, “আমার হলের কিছু শিক্ষার্থী গিয়ে ভিসি স্যারকে বলেছে, তিনি দায়িত্বে আসার পর নাকি আমি হলে তেমন যাই না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমি বরং হলে যাওয়াটা আগের চেয়ে বাড়িয়েছি। তবুও যখন শুনি আমার ছাত্ররা বলছে আমি হলে যাই না, তখন সত্যিই খারাপ লাগে। আমি নিয়মিতই হলে যাই, ফ্লোরে হাঁটি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। আমার বিশ্বাস, হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমনটা বলবে না। তবে কারা আমার বিরুদ্ধে ভিসির কাছে অভিযোগ করেছে, সেটা আমি নির্দিষ্ট করে বলতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, “আসলে এখানে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি দুটোরই প্রভাব আছে বলে আমি করি। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির প্রভাবটা স্পষ্টভাবে কাজ করছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাকে সরাসরি কোনো কিছু বলা হয়নি, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে আমি নানা ধরনের চাপ অনুভব করছি। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে খুব বেশি সমর্থন পাবো বলে মনে করি না। আমাদের দেশে তো বেশিরভাগ জায়গাতেই রাজনীতির প্রভাব থাকে। আর সরকারে যারা থাকে, তাদের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে কিছু করাটা কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, “হলের বিভিন্ন নির্মাণকাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও আমি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিলাম। অনেক সময় আমি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেটা আমার কাছে সঠিক মনে হচ্ছে, কিন্তু তার বিপরীতে অন্য সিদ্ধান্ত এসে যাচ্ছে। কোনো কাজ করতে গেলে সেখানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। এভাবে আসলে কাজ করাটা কঠিন। তাছাড়া আমার বিভাগেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আর অব্যহতিপত্রে আমি অসুস্থতার বিষয়টা উল্লেখ করেছি, আমি আসলে কিছুটা অসুস্থও বটে। আর যখন নানামুখী চাপে থাকবো তখন আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাবো। তাই সবকিছু বিবেচনা করে আমি নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছি।”
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, তাসলিম উদ্দিন সাহেব আমাকে জানিয়েছেন, তিনি একজন একাডেমিশিয়ান মানুষ হল প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ কথা বলেই তিনি অব্যাহতি নিয়েছেন। রাজনৈতিক চাপের বিষয়ে তিনি আমাকে কিছু বলেননি।
শু/সবা
চবি প্রতিনিধি 
























