শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে ৯৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন নরেন্দ্র মোদি। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম মাখনলাল সরকার। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্ত্বশাসনবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গের শপথ অনুষ্ঠানে মোদির এ আচরণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিজেপি সূত্রে জানা যায়, দেশভাগের পর জম্মু ও কাশ্মির একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল ছিল। সেখানে প্রবেশের জন্য ভারতের অন্যান্য রাজ্যের নাগরিকদেরও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতো।
১৯৫৩ সালে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তার দাবি ছিল, কাশ্মিরেও ভারতের পূর্ণ সাংবিধানিক শাসন চালু করতে হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি, মাখনলাল সরকারসহ কয়েকজন অনুমতি ছাড়া কাশ্মিরে প্রবেশ করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মাখনলাল সরকার কারাভোগ শেষে ফিরে আসেন।
শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুর ঘটনা সে সময় ভারতের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৯ সালে কাশ্মিরে প্রবেশের পারমিট ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ভারত সরকার সেখানে নিজেদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করে।
সর্বশেষ ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে অঞ্চলটি ভারতের সাধারণ রাজ্যগুলোর মতো প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আসে। এরপর থেকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও সেখানে জমি কেনার সুযোগ পান।
মাখনলাল সরকারকে একজন জাতীয়তাবাদী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের এই বিশেষ দিনে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়া স্বাভাবিক। দেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য তার অবদান আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।”
তিনি আরও লেখেন, “কলকাতায় শপথ অনুষ্ঠানে মাখন লাল সরকারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হলো। অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী এ মানুষটি ড. শ্যামা প্রসাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এমনকি জম্মু-কাশ্মির সফরে তার সঙ্গী হিসেবে তিনিও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















