3:02 am, Sunday, 17 May 2026

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের তরুণ গবেষক আবু হাসনাত তুহিনের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভ (HHI)–এ প্রকাশিত হয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী এবং মানবাধিকার ও জলবায়ু গবেষক আবু হাসনাত তুহিনের গবেষণাধর্মী লেখা। “উষ্ণায়নের পৃথিবীতে বাস্তুচ্যুত মানুষ: জলবায়ু উদ্বাস্তু ও মানবাধিকারের নতুন ভাবনা” শীর্ষক প্রবন্ধটি গত ১৩ মে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত হয়।
গবেষণাধর্মী এ লেখায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মানবাধিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। লেখকরা দেখিয়েছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে প্রতিনিয়ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হলেও আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে তাদের জন্য এখনো সুস্পষ্ট সুরক্ষা কাঠামো নেই।
এই গবেষণাপত্রের তিনজন গবেষকের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভের ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ক গবেষণায় কাজ করে আসছেন।
আরেক গবেষক আবু হাসনাত তুহিন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি জলবায়ু উদ্বাস্তু, মানবাধিকার ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিয়ে গবেষণা করছেন।
গবেষণা দলের তৃতীয় সদস্য মো. শিহাব উদ্দিন, যিনি ঢাকার সেন্টার ফর লোকাল গভর্ন্যান্স ডিসকোর্স–এর সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সামাজিক নীতি ও জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।
গবেষণাপত্রে লেখকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়ন ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে আবু হাসনাত তুহিন বলেন, “হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে আমাদের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। জলবায়ু ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে চাই।”
বাংলাদেশের এক তরুণ গবেষকের এমন আন্তর্জাতিক অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

two × 1 =

About Author Information

Popular Post

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে: এ্যানি

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের তরুণ গবেষক আবু হাসনাত তুহিনের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ

Update Time : ০৭:০০:৩৪ pm, Friday, ১৫ মে ২০২৬
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভ (HHI)–এ প্রকাশিত হয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী এবং মানবাধিকার ও জলবায়ু গবেষক আবু হাসনাত তুহিনের গবেষণাধর্মী লেখা। “উষ্ণায়নের পৃথিবীতে বাস্তুচ্যুত মানুষ: জলবায়ু উদ্বাস্তু ও মানবাধিকারের নতুন ভাবনা” শীর্ষক প্রবন্ধটি গত ১৩ মে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত হয়।
গবেষণাধর্মী এ লেখায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মানবাধিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। লেখকরা দেখিয়েছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে প্রতিনিয়ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হলেও আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনে তাদের জন্য এখনো সুস্পষ্ট সুরক্ষা কাঠামো নেই।
এই গবেষণাপত্রের তিনজন গবেষকের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং হার্ভার্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইনিশিয়েটিভের ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ক গবেষণায় কাজ করে আসছেন।
আরেক গবেষক আবু হাসনাত তুহিন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি জলবায়ু উদ্বাস্তু, মানবাধিকার ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিয়ে গবেষণা করছেন।
গবেষণা দলের তৃতীয় সদস্য মো. শিহাব উদ্দিন, যিনি ঢাকার সেন্টার ফর লোকাল গভর্ন্যান্স ডিসকোর্স–এর সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সামাজিক নীতি ও জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।
গবেষণাপত্রে লেখকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়ন ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে আবু হাসনাত তুহিন বলেন, “হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে আমাদের গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। জলবায়ু ঝুঁকি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে চাই।”
বাংলাদেশের এক তরুণ গবেষকের এমন আন্তর্জাতিক অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
শু/সবা