সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী এলাকায় একটি পুরোনো ক্যানেল ভরাট করে উন্নয়ন কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের পাশ দিয়ে প্রবাহিত প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরোনো ক্যানেলটির একটি অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের পুকুর সংস্কারকাজের সময় ক্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়ায় বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে দুটি করাতকল, একটি হ্যাচারি, ৬০টিরও বেশি বসতবাড়ি এবং দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পুতুল রানী, কার্তিক মাহাতো, দীপক পোদ্দার ও স্বদীপ মালিসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, ক্যানেলটি সচল থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে পানি জমে থাকায় তাদের বাড়িঘর ও চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাবেক ইউপি সদস্য রামকৃষ্ণ গুণ বলেন, “ক্যানেলটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি ভরাট করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে।”
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জাব্বার মিয়া বলেন, “জনস্বার্থে ক্যানেল থেকে মাটি সরিয়ে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি জানান, সরকারি সম্পত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তার। বর্তমানে এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের (রাজস্ব) সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পানি নিষ্কাশন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
শু/সবা
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: 























