রুহুল আমিন সৌরভ,কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
‘ছবি তোলছেন নাকি ভিডিও করছেন? আমি কিন্তু ওমর গাছি আমি খুবই ভালো আছি’। গাছে ঝুলছেন আর এভাবেই হাসতে হাসতে কথাগুলো বলছেন। হাতের কাজ থেমে নেই ব্যস্ত আছেন খেজুর গাছ পরিচর্যায়। গতকাল রোববার মোস্তবাপুর মাঠে ৭৪ বছর বয়সী ওমর আলী গাছিকে খেজুর গাছ পরিচর্যা করতে দেখা যায়। ১৯৪৯ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার ৪নং নিয়ামত ইউনিয়নের মোস্তবাপুর গ্রামের মৃত বিলাতআলীর ঘরে জন্ম তার। সেই হিসাবে এখন ওমর গাছির বয়স ৭৪ বছর। এখনো হাতে দা নিয়ে ও কোমরে ঠুঙি,দড়া(মোটা রশি) বেঁধে নিপুন হাতে গাছ চাঁছাছোলা করছেন তিনি। খেজুরের মিষ্টি রস সংগ্রহ করে গুড় পাটালি তৈরির কাজে সময় ভালোই কাটছে তার।
দিনে কিছুটা গরম হলেও সন্ধ্যার পর শীতের ঠান্ড বাতাস বয়। সকালের শিশির ভেজা পথ, যা শীতের আগমনের বার্তা আরও জোরালো হচ্ছে। এরই মধ্যে খেজুর গাছ পরিচর্যা শুরু করেছেন গাছিরা। যারা খেজুর গাছ থেকে বিশেষভাবে রস সংগ্রহ করতে পারদর্শী তাদের ‘গাছি’ বলা হয়। শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই খেজুরের রস আহরণের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেন। ওমর গাছি তাদের মধ্যে অন্যতম। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়েছে মাঠে মাঠে। এরই মধ্যে কয়েকজন গাছে নলি মারতেও শুরু করেছেন।
দুই ছেলে তিন মেয়ের জনক ওমর গাছির মুখে হাসি। শীতের মৌসুম মানেই তার তৈরী খেজুর গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠে পুরো মহল্লা। কাজের মধ্যে থাকলে শরীর ভালো থাকে। তবে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তার কাজ এখন অনেক কম। সত্তোর্ধ বয়সেও গাছে ঝুলে খেজুর রস সংগ্রহ করতে পারা তার কাছে আনন্দের। আগে সাপ্তাহিক পালা করে শতাধিক গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন এবছর মাত্র ২৫টি গাছ কাটছেন। পাশের মাঠে গাছ তোলার কাজে ব্যস্ত অনুপমপুর গ্রামের গাছি আতিয়ার রহমান জানান, আমরা বহু বছর ধরে খেজুর গাছ কেটে আসছি। তবে ওমর চাচাকে একইভাবেই গাছ কেটে আসতে দেখি। আগের তুলনায় মাঠে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেক কম। তাই খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
অনেক গাছি এ কাজ ছেড়ে দিলেও ওমর গাছি এখনো ছাড়েনি পেশা। খেজুর গুড় তৈরির কাজ ধরে রেখেছেন তিনি। তার সংগৃহীত রস, তৈরী খেজুর গুড় নিতে সকাল হলেই মহল্লাবাসী হাজির। খেজুর রস, গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠে গ্রাম। খেজুর রসের পিঠা-পায়েশ,ক্ষীর সহ হরেক রকমের মজাদার খাবার তৈরী করেন গ্রামবাসী। ওমর গাছির খেজুরের নলেন গুড় সবার সেরা।
ওমর গাছির এই খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস-গুড় সংগ্রহ এবং নানা প্রকার সুস্বাদু খাবার পেতেই নয়, পরিবেশ বাঁচাতে ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে
আমাদের উচিত বেশি বেশি খেজুর গাছ লাগানো। সুস্থ্য জীবন আর খাটি গুড় পাটালি পেতে সবগ্রামেই ওমর গাছির মতো গাছি তৈরী হতে উৎসাহিত করা
সকলের দায়িত্ব।


























