আরো এক কাপ চা » দৈনিক সবুজ বাংলা
১০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরো এক কাপ চা 

চা পান করতে কে না পছন্দ করে। আমরা উৎসবে চা পান করি, একাকিত্বে চা পান করি, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় চা পান করি, বিষন্ন লাগলে চা পান করি আবার আনন্দিত হলেও চা পান করি।
চা আমাদের বাঙালিদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বছর ঘুরে নতুন নতুন ঋতু আসে সেই সাথে চা পানে আসে নতুন নতুন ধরণ। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে যেমন চা ছাড়া আমাদের চলে না আবার তীব্র শীতে চা আমাদের জন্য টনিকের মতো কাজ করে। বর্ষাকালে বারান্দায় বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বৃষ্টি বিলাসে মেতে উঠে অনেকে। আবার শরৎকালে অসাধারণ প্রকৃতির সাথে চা পানে আসে বিভিন্ন বৈচিত্র্যতা।
প্রিয়জনের সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে চায়ের কোনো বিকল্প হয় না। আবার অতিথি আপ্যায়নে ও সম্মান প্রদর্শন করতেও দেওয়া হয় চা। বাঙালি আর চা যেন একসূঁতোয় গাথা।
তাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ( বাকৃবি) সম্প্রতি আয়োজিত হয়ে গেল আরো এক কাপ চা। আসলে আরো এক কাপ চা বিষয়টা কি?
আরো এক কাপ চা মূলত একটি উৎসব। শীতের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ভাবে উজ্জিবিত করার জন্য আয়োজন করা হয় এটি। আরো এক কাপ চা আয়োজন করে ‘টিম উৎসব’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। বাকৃবি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সারা বছর একটানা ক্লাস, পরীক্ষা লেগেই থাকে সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের বাড়তে থাকে মানসিক চাপ। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই মূলত এই উৎসব।
বাকৃবির বকুলতলায় আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। উৎসবে বকুলতলাকে সাজানো হয় অপরূপ সাজে, যে রূপে আগে কখনো কেউ হয়তো বকুলতলাকে দেখেনি। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশার সাথে নিয়ন আলো মিশে তৈরি করে অদ্ভুত এক পরিবেশ। যে পরিবেশে ডানা মিলে উড়তে ইচ্ছা করে সকলের, নিজেকে মনে হয় মুক্ত পাখির মত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই উৎসবে।
বিভিন্ন ধরনের ও পদের চায়ের স্টল ও কুটির শিল্প সহ নানা ধরনের পণ্যের দোকান বসে এখানে। চা নিয়ে বিভিন্ন উক্তি, নানা পদের চা, ফটোফ্রেম ইত্যাদি প্রদর্শনী রাখা হয়েছিল উৎসবে। চা নিয়ে মানুষের অনুভূতি গুলো ফুটিয়ে তোলা হয় উৎসবে প্রদর্শনীর মাধ্যমে। শীতকালে উৎসবটি হওয়ায় শীতের বিভিন্ন পিঠা যেমন ভাপা, চিতই, পুলি ইত্যাদির দোকান বসে। সবাই দলবেঁধে দাড়িয়ে আছে এইসব দোকানের চারিদিকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছে পিঠা বানানো আবার একটু পরে পরেই হাসিতে ফেটে পড়ছে সকলে। বন্ধুদের আড্ডা সাথে চা, পিঠা ও উৎসব আর কি লাগে! এই এক অন্য রকম অনুভূতি।
হিমেল হাওয়ায়, হালকা কুয়াশা ও খোলা আকাশের নিচে বকুলতলায় উৎসবে বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দলের সদস্যরা এসময় চমৎকার সব গান পরিবেশন করেন।
আয়োজক টিম উৎসবের  সংগঠনের নুবাহ নাশিতা ফারিহাত বলেন, আমরা বাঙালিরা বন্ধুদের সাথে চা খেতে পছন্দ করি, প্রেমিক-প্রেমিকা একসাথে চা খেতে পছন্দ করি আবার পারিবারিক আড্ডায় চা গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেই চা কে উপলক্ষ্য করেই আমরা একটা উৎসব করছি যেখানে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যাবে, চা নিয়ে দেয়ালিকা আছে, চা নিয়ে মানুষের অনুভূতি গুলো লিখে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি।
এক কা চাপে নামে উৎসবটি প্রথম আয়োজন করা হয় ২০২০ সালে তারই ধারাবাহিকতায় এই বছর আয়োজন করা হয় আরো এক কাপ চা।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

আরো এক কাপ চা 

আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩
চা পান করতে কে না পছন্দ করে। আমরা উৎসবে চা পান করি, একাকিত্বে চা পান করি, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় চা পান করি, বিষন্ন লাগলে চা পান করি আবার আনন্দিত হলেও চা পান করি।
চা আমাদের বাঙালিদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বছর ঘুরে নতুন নতুন ঋতু আসে সেই সাথে চা পানে আসে নতুন নতুন ধরণ। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে যেমন চা ছাড়া আমাদের চলে না আবার তীব্র শীতে চা আমাদের জন্য টনিকের মতো কাজ করে। বর্ষাকালে বারান্দায় বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বৃষ্টি বিলাসে মেতে উঠে অনেকে। আবার শরৎকালে অসাধারণ প্রকৃতির সাথে চা পানে আসে বিভিন্ন বৈচিত্র্যতা।
প্রিয়জনের সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে চায়ের কোনো বিকল্প হয় না। আবার অতিথি আপ্যায়নে ও সম্মান প্রদর্শন করতেও দেওয়া হয় চা। বাঙালি আর চা যেন একসূঁতোয় গাথা।
তাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ( বাকৃবি) সম্প্রতি আয়োজিত হয়ে গেল আরো এক কাপ চা। আসলে আরো এক কাপ চা বিষয়টা কি?
আরো এক কাপ চা মূলত একটি উৎসব। শীতের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ভাবে উজ্জিবিত করার জন্য আয়োজন করা হয় এটি। আরো এক কাপ চা আয়োজন করে ‘টিম উৎসব’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। বাকৃবি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সারা বছর একটানা ক্লাস, পরীক্ষা লেগেই থাকে সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের বাড়তে থাকে মানসিক চাপ। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই মূলত এই উৎসব।
বাকৃবির বকুলতলায় আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। উৎসবে বকুলতলাকে সাজানো হয় অপরূপ সাজে, যে রূপে আগে কখনো কেউ হয়তো বকুলতলাকে দেখেনি। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশার সাথে নিয়ন আলো মিশে তৈরি করে অদ্ভুত এক পরিবেশ। যে পরিবেশে ডানা মিলে উড়তে ইচ্ছা করে সকলের, নিজেকে মনে হয় মুক্ত পাখির মত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই উৎসবে।
বিভিন্ন ধরনের ও পদের চায়ের স্টল ও কুটির শিল্প সহ নানা ধরনের পণ্যের দোকান বসে এখানে। চা নিয়ে বিভিন্ন উক্তি, নানা পদের চা, ফটোফ্রেম ইত্যাদি প্রদর্শনী রাখা হয়েছিল উৎসবে। চা নিয়ে মানুষের অনুভূতি গুলো ফুটিয়ে তোলা হয় উৎসবে প্রদর্শনীর মাধ্যমে। শীতকালে উৎসবটি হওয়ায় শীতের বিভিন্ন পিঠা যেমন ভাপা, চিতই, পুলি ইত্যাদির দোকান বসে। সবাই দলবেঁধে দাড়িয়ে আছে এইসব দোকানের চারিদিকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছে পিঠা বানানো আবার একটু পরে পরেই হাসিতে ফেটে পড়ছে সকলে। বন্ধুদের আড্ডা সাথে চা, পিঠা ও উৎসব আর কি লাগে! এই এক অন্য রকম অনুভূতি।
হিমেল হাওয়ায়, হালকা কুয়াশা ও খোলা আকাশের নিচে বকুলতলায় উৎসবে বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দলের সদস্যরা এসময় চমৎকার সব গান পরিবেশন করেন।
আয়োজক টিম উৎসবের  সংগঠনের নুবাহ নাশিতা ফারিহাত বলেন, আমরা বাঙালিরা বন্ধুদের সাথে চা খেতে পছন্দ করি, প্রেমিক-প্রেমিকা একসাথে চা খেতে পছন্দ করি আবার পারিবারিক আড্ডায় চা গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেই চা কে উপলক্ষ্য করেই আমরা একটা উৎসব করছি যেখানে বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যাবে, চা নিয়ে দেয়ালিকা আছে, চা নিয়ে মানুষের অনুভূতি গুলো লিখে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি।
এক কা চাপে নামে উৎসবটি প্রথম আয়োজন করা হয় ২০২০ সালে তারই ধারাবাহিকতায় এই বছর আয়োজন করা হয় আরো এক কাপ চা।