০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিজয়ের ৫৩ বছরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

বিজয়ের ৫৩ বছরে পা দিয়েছে বাংলাদেশ। ডিসেম্বর এলেই দেশব্যাপী বিজয়ের ধ্বনি শোনা যায় মুখে মুখে, বিভিন্ন আয়োজনে। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতিসত্তার আত্মমর্যাদা ও বীরত্ব সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বিজয়ের এ উদযাপন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করে তোলে। লাখ শহীদের আত্মত্যাগের অর্জনে আমাদের আজকের এ বিজয়। ৫৩ বছর বিজয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জানানো ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন মো. কাউছার আহমেদ —

রিয়াজ আহমেদ
কৃষি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ বিজয়ের ৫২ বছর পূর্ণ হয়েছে।এই বিজয়ের জন্য ত্যাগ করেছি শিশু কিশোর থেকে শুরু করে যুবক বৃদ্ধের জীবন, মা বোনদের সম্ভ্রম। আমাদের দেশকে করা হয়েছিলো প্রতিভা শূন্য। তিলে তিলে গড়ে উঠা সংসার হয়েছিলো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে হয়ে ছিল প্রায় ১ কোটি বাঙালিকে।৩০ লক্ষের মতো বৃহৎ সংখ্যার জীবনগুলোকে বিলিয়ে দিতে হয়েছিলো। এত বেশি ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম এই সোনার বাংলাদেশ। প্রতি বছর আমরা উৎসবমুখর একটি দিন পালন করি ১৬ই ডিসেম্বর। আলোকসজ্জা, আলপনা,মতবিনিময় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এই দিনে। এই দিনের প্রধান আকর্ষণ হলো সকাল ভোরে বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থাপনায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা।
বিজয়ের ৫৩ বছর পর আমরা নিজ দেশকে স্বাধীন বলতে পারি এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।স্বাধীনতা কতটুকু জরুরি সেটা আমারা ফিলিস্তিনের জনগণের দিকে তাকালে উপলব্ধি করতে পারি। এই স্বাধীনতা আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের আছে দেশকে ভালোবাসার মতো কোটি কোটি জনতা। তাদের এই ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে অনেকদূর।দেশের অগ্রযাত্রায় যারা বাধা তাদেরকে করতে হবে নির্মূল। তবেই আমরা পাবো শক্তিশালী সোনার বাংলাদেশ। শেখ মুজিবের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

আদিবা ইসলাম শ্রেয়া
শিক্ষা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রিয় মাতৃভূমি। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গৌরব ও বিজয়ের দিন। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের এই ইতিহাস যা মহান বিজয় দিবস নামে পরিচিত। এর ফলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। বিশ্ব মানচিত্রে লাল–সবুজের পতাকা খচিত স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার দিন। দেশের স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে প্রতি বছর এই বিজয় দিবস পালন করা হয়।
আমি চাই, আমাদের সকল নাগরিক বিজয় দিবসের তাৎপর্য বুঝুক। আমরা সকলে মিলে আমাদের দেশকে গড়ে তুলি। আমাদের দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
বিজয় দিবস আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা একটি মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সকলের একসাথে কাজ করতে হবে।

 

মোস্তফা ফয়সাল নাঈম
শিক্ষা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

“৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্রের, আমরা পাই আমাদের সোনার বাংলাদেশ। এই বিজয়ের পেছনে রয়েছে হাজারো ত্যাগের ইতিহাস।
বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি আমাকে এই ভাবনা সবসময় শঙ্কিত করে যে আমরা কোনভাবে এই ত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করছি কিনা। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতালিপ্সা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাধ্যমে আমরা এই দেশের যে ক্ষতি করছি তা আমাদের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। পূর্বপুরুষরা জীবনের বিনিময়ে যে দেশ উপহার দিয়ে গেলেন মেধাবী তরুণ প্রজন্ম সেই দেশ থেকে অকৃতজ্ঞের মত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্ন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা অনুভব করে প্রত্যেকর উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করা।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

বিজয়ের ৫৩ বছরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ১১:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩

বিজয়ের ৫৩ বছরে পা দিয়েছে বাংলাদেশ। ডিসেম্বর এলেই দেশব্যাপী বিজয়ের ধ্বনি শোনা যায় মুখে মুখে, বিভিন্ন আয়োজনে। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতিসত্তার আত্মমর্যাদা ও বীরত্ব সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বিজয়ের এ উদযাপন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করে তোলে। লাখ শহীদের আত্মত্যাগের অর্জনে আমাদের আজকের এ বিজয়। ৫৩ বছর বিজয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জানানো ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন মো. কাউছার আহমেদ —

রিয়াজ আহমেদ
কৃষি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ বিজয়ের ৫২ বছর পূর্ণ হয়েছে।এই বিজয়ের জন্য ত্যাগ করেছি শিশু কিশোর থেকে শুরু করে যুবক বৃদ্ধের জীবন, মা বোনদের সম্ভ্রম। আমাদের দেশকে করা হয়েছিলো প্রতিভা শূন্য। তিলে তিলে গড়ে উঠা সংসার হয়েছিলো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন। নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে হয়ে ছিল প্রায় ১ কোটি বাঙালিকে।৩০ লক্ষের মতো বৃহৎ সংখ্যার জীবনগুলোকে বিলিয়ে দিতে হয়েছিলো। এত বেশি ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম এই সোনার বাংলাদেশ। প্রতি বছর আমরা উৎসবমুখর একটি দিন পালন করি ১৬ই ডিসেম্বর। আলোকসজ্জা, আলপনা,মতবিনিময় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এই দিনে। এই দিনের প্রধান আকর্ষণ হলো সকাল ভোরে বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থাপনায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা।
বিজয়ের ৫৩ বছর পর আমরা নিজ দেশকে স্বাধীন বলতে পারি এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।স্বাধীনতা কতটুকু জরুরি সেটা আমারা ফিলিস্তিনের জনগণের দিকে তাকালে উপলব্ধি করতে পারি। এই স্বাধীনতা আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের আছে দেশকে ভালোবাসার মতো কোটি কোটি জনতা। তাদের এই ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে অনেকদূর।দেশের অগ্রযাত্রায় যারা বাধা তাদেরকে করতে হবে নির্মূল। তবেই আমরা পাবো শক্তিশালী সোনার বাংলাদেশ। শেখ মুজিবের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

আদিবা ইসলাম শ্রেয়া
শিক্ষা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রিয় মাতৃভূমি। ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গৌরব ও বিজয়ের দিন। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের এই ইতিহাস যা মহান বিজয় দিবস নামে পরিচিত। এর ফলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। বিশ্ব মানচিত্রে লাল–সবুজের পতাকা খচিত স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার দিন। দেশের স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে প্রতি বছর এই বিজয় দিবস পালন করা হয়।
আমি চাই, আমাদের সকল নাগরিক বিজয় দিবসের তাৎপর্য বুঝুক। আমরা সকলে মিলে আমাদের দেশকে গড়ে তুলি। আমাদের দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।
বিজয় দিবস আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা একটি মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সকলের একসাথে কাজ করতে হবে।

 

মোস্তফা ফয়সাল নাঈম
শিক্ষা বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

“৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্রের, আমরা পাই আমাদের সোনার বাংলাদেশ। এই বিজয়ের পেছনে রয়েছে হাজারো ত্যাগের ইতিহাস।
বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি আমাকে এই ভাবনা সবসময় শঙ্কিত করে যে আমরা কোনভাবে এই ত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করছি কিনা। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতালিপ্সা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাধ্যমে আমরা এই দেশের যে ক্ষতি করছি তা আমাদের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। পূর্বপুরুষরা জীবনের বিনিময়ে যে দেশ উপহার দিয়ে গেলেন মেধাবী তরুণ প্রজন্ম সেই দেশ থেকে অকৃতজ্ঞের মত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্ন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা অনুভব করে প্রত্যেকর উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করা।”