০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন সহোদর ভাইয়ের ভোট যুদ্ধে লতিফ সিদ্দিকী জয়ী: কাদের ও মুরাদ সিদ্দিকী পরাজিত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে কৃষক শ্রমিক
জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম পরাজিত হয়েছেন। তবে টাঙ্গাইল-
৪ (কালিহাতী) আসনে বড় ব্যবধানে তাঁর বড় ভাই প্রবীণ রাজনীতিক নেতা আবদুল লতিফ
সিদ্দিকী জয়ী হয়েছেন। তাঁদের অপর ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে পরাজয়
হয়েছে।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আওয়ামী লীগের
প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়ের সঙ্গে। অনুপম শাহজাহান জয় ৯৬ হাজার ৪০১ ভোট
পেয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী কাদের সিদ্দিকী গামছা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার
৫০১ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বিজয়ী অনুপম শাহজাহান টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত মোমেন
শাহজাহানের ছেলে। ২০১৪ সালে শওকত মোমেন শাহজাহানের মৃত্যুর পর অনুপম
উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কাদের সিদ্দিকী এ আসন থেকে
১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পেয়েছেন
৭০হাজার ৯৪০ ভোট। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু
পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫ ভোট। এ আসনের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজাহান সিরাজের
মেয়ে সারওয়াত সিরাজ পেয়েছেন ১০
হাজার ৭৮৭ ভোট।
লতিফ সিদ্দিকী এ আসন থেকে এর আগে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর
স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হয়েছিলেন। লতিফ সিদ্দিকী এর আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সভায় হজ ও তাবলিগ জামাত
সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার এবং মন্ত্রিসভা থেকে
অপসারণ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে তিনি কালিহাতীতে গণসংযোগ শুরু করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন
পেয়েছেন ৬৫হাজার ৮৬৭ ভোট জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী
মাথাল প্রতিকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৭৯০ ভোট।
মুরাদ সিদ্দিকী এর আগে ২০০১ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি ওই দল
থেকেই প্রার্থী হন। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি ছেড়ে দেন। ২০১৪ সাল ও
২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী
লীগের পদপদবি না থাকলেও তিনি আওয়ামী রাজনীতির সংস্পর্শে ছিলেন। এবার সংসদ
নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

তিন সহোদর ভাইয়ের ভোট যুদ্ধে লতিফ সিদ্দিকী জয়ী: কাদের ও মুরাদ সিদ্দিকী পরাজিত

আপডেট সময় : ১১:৩৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে কৃষক শ্রমিক
জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম পরাজিত হয়েছেন। তবে টাঙ্গাইল-
৪ (কালিহাতী) আসনে বড় ব্যবধানে তাঁর বড় ভাই প্রবীণ রাজনীতিক নেতা আবদুল লতিফ
সিদ্দিকী জয়ী হয়েছেন। তাঁদের অপর ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে পরাজয়
হয়েছে।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আওয়ামী লীগের
প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়ের সঙ্গে। অনুপম শাহজাহান জয় ৯৬ হাজার ৪০১ ভোট
পেয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী কাদের সিদ্দিকী গামছা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার
৫০১ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বিজয়ী অনুপম শাহজাহান টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত মোমেন
শাহজাহানের ছেলে। ২০১৪ সালে শওকত মোমেন শাহজাহানের মৃত্যুর পর অনুপম
উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কাদের সিদ্দিকী এ আসন থেকে
১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পেয়েছেন
৭০হাজার ৯৪০ ভোট। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু
পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫ ভোট। এ আসনের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজাহান সিরাজের
মেয়ে সারওয়াত সিরাজ পেয়েছেন ১০
হাজার ৭৮৭ ভোট।
লতিফ সিদ্দিকী এ আসন থেকে এর আগে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর
স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হয়েছিলেন। লতিফ সিদ্দিকী এর আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সভায় হজ ও তাবলিগ জামাত
সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার এবং মন্ত্রিসভা থেকে
অপসারণ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে তিনি কালিহাতীতে গণসংযোগ শুরু করেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন
পেয়েছেন ৬৫হাজার ৮৬৭ ভোট জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী
মাথাল প্রতিকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৭৯০ ভোট।
মুরাদ সিদ্দিকী এর আগে ২০০১ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি ওই দল
থেকেই প্রার্থী হন। এরপর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি ছেড়ে দেন। ২০১৪ সাল ও
২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী
লীগের পদপদবি না থাকলেও তিনি আওয়ামী রাজনীতির সংস্পর্শে ছিলেন। এবার সংসদ
নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।