০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে হারিয়ে যেতে বসা মইদৌড় দেখতে মানুষের ঢল

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় হয়ে গেলো হারিয়ে যেতে বসা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাড় গরুর মইদৌড় খেলা।  শীতের কুয়াশা ভেদ করে মই নিয়ে ছুটে আসছে ষাঁড়। আর মইয়ের উপর দাঁড়িয়ে দড়ি হাতে লাঠি উচিয়ে দিক–নিদের্শনা দিচ্ছেন খেলোয়াড়। সহসায় এই চিত্র দেখা যায় না গ্রামের মাঠগুলোতে।  গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারী) দুপুরে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের জোরখালী মুসলিমাবাদ এলাকার মাঠে স্থানীয়দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই ষাড় গরুর মইদৌড় প্রতিযোগিতা।

এ খেলায় চারটি করে গরু একত্রিত করে গরুর সঙ্গে মই রশি দিয়ে লাগানো হয়। পরে মইয়ের ওপর দুইজন চড়ে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে দৌড় শুরু করেন। যিনি আগে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে পারেন তিনিই প্রথম হন।

শীত কুয়াশাকে উপেক্ষা পরে মই দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ ছুটে আসেন মুসলিমাবাদ মাঠে। প্রায় হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় খেলাকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই খেলা সম্পর্কে ধারণা দিতেই মূলত আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় প্রতিযোগিতার।

ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এখন থেকে নিয়মিত এ খেলায় আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।  প্রতিযোগিতায় মোট ১৪টি দল অংশ নেয়, যার মধ্যে খেলায় প্রথম হয়েছে উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার নূরনবী মণ্ডলের দল। দ্বিতীয় হয়েছে হেলাল উদ্দিন ও তৃতীয় হয়েছে আবদুল বারেকের দল। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল রেফ্রিজারেটর। দ্বিতীয় পুরস্কার এলইডি টিভি ও তৃতীয় পুরস্কার ছিল বড় বড় হাঁড়ি-পাতিল। খেলা দেখতে আসা আনন্দ নামের এক শিক্ষার্থী বলে, এই মই দৌড় খেলা সম্পর্কে বাবা-দাদার কাছ থেকে শুধু গল্প শুনেছি। আগে কখনোই দেখিনি। আমার জীবনের প্রথম এ খেলা দেখলাম। খেলা সম্পর্কে তেমন ধারণাও ছিল না। খেলা দেখলাম খুবই ভালো লাগল।

তামান্না রহমান নামে এক নারী বলেন, এই খেলা দেখে আমি খুবই আনন্দিত। খেলা দেখতে দুপুর ১২টা থেকে অপেক্ষা করছিলাম, অবশেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খেলা শুরু হয়। এই খেলার আয়োজক কমিটিকে বলবো তারা যেন প্রতিবছরে এই খেলার আয়োজন করেন।

ইসলামপুর থেকে আসা বাসিন্দা ফারুক মিয়া নামে এক দর্শক বলেন, সেই ২০ বছর আগে এই খেলা দেখছি, এর মধ্যে আর দেখিনি। গরুর মই দৌড় খেলা আয়োজন করেছে শুনে দেখতে এসেছি। অনেক জমজমাট খেলা হয়েছে। মই দৌড় আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, সবাই মিলে আনন্দের জন্য এই আয়োজন। গ্রাম বাংলার চিরায়িত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাই আমরা। বেশ সুশৃঙ্খল আর উপভোগ্য ছিল মই দৌড় খেলা। প্রতিবছর আয়োজনের চেষ্টা থাকবে আমাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

জামালপুরে হারিয়ে যেতে বসা মইদৌড় দেখতে মানুষের ঢল

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৪

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় হয়ে গেলো হারিয়ে যেতে বসা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাড় গরুর মইদৌড় খেলা।  শীতের কুয়াশা ভেদ করে মই নিয়ে ছুটে আসছে ষাঁড়। আর মইয়ের উপর দাঁড়িয়ে দড়ি হাতে লাঠি উচিয়ে দিক–নিদের্শনা দিচ্ছেন খেলোয়াড়। সহসায় এই চিত্র দেখা যায় না গ্রামের মাঠগুলোতে।  গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারী) দুপুরে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের জোরখালী মুসলিমাবাদ এলাকার মাঠে স্থানীয়দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই ষাড় গরুর মইদৌড় প্রতিযোগিতা।

এ খেলায় চারটি করে গরু একত্রিত করে গরুর সঙ্গে মই রশি দিয়ে লাগানো হয়। পরে মইয়ের ওপর দুইজন চড়ে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে দৌড় শুরু করেন। যিনি আগে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে পারেন তিনিই প্রথম হন।

শীত কুয়াশাকে উপেক্ষা পরে মই দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ ছুটে আসেন মুসলিমাবাদ মাঠে। প্রায় হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় খেলাকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই খেলা সম্পর্কে ধারণা দিতেই মূলত আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী মই দৌড় প্রতিযোগিতার।

ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এখন থেকে নিয়মিত এ খেলায় আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।  প্রতিযোগিতায় মোট ১৪টি দল অংশ নেয়, যার মধ্যে খেলায় প্রথম হয়েছে উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার নূরনবী মণ্ডলের দল। দ্বিতীয় হয়েছে হেলাল উদ্দিন ও তৃতীয় হয়েছে আবদুল বারেকের দল। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল রেফ্রিজারেটর। দ্বিতীয় পুরস্কার এলইডি টিভি ও তৃতীয় পুরস্কার ছিল বড় বড় হাঁড়ি-পাতিল। খেলা দেখতে আসা আনন্দ নামের এক শিক্ষার্থী বলে, এই মই দৌড় খেলা সম্পর্কে বাবা-দাদার কাছ থেকে শুধু গল্প শুনেছি। আগে কখনোই দেখিনি। আমার জীবনের প্রথম এ খেলা দেখলাম। খেলা সম্পর্কে তেমন ধারণাও ছিল না। খেলা দেখলাম খুবই ভালো লাগল।

তামান্না রহমান নামে এক নারী বলেন, এই খেলা দেখে আমি খুবই আনন্দিত। খেলা দেখতে দুপুর ১২টা থেকে অপেক্ষা করছিলাম, অবশেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খেলা শুরু হয়। এই খেলার আয়োজক কমিটিকে বলবো তারা যেন প্রতিবছরে এই খেলার আয়োজন করেন।

ইসলামপুর থেকে আসা বাসিন্দা ফারুক মিয়া নামে এক দর্শক বলেন, সেই ২০ বছর আগে এই খেলা দেখছি, এর মধ্যে আর দেখিনি। গরুর মই দৌড় খেলা আয়োজন করেছে শুনে দেখতে এসেছি। অনেক জমজমাট খেলা হয়েছে। মই দৌড় আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, সবাই মিলে আনন্দের জন্য এই আয়োজন। গ্রাম বাংলার চিরায়িত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাই আমরা। বেশ সুশৃঙ্খল আর উপভোগ্য ছিল মই দৌড় খেলা। প্রতিবছর আয়োজনের চেষ্টা থাকবে আমাদের।