১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭০টির মধ্যে ১৫০টিই অবৈধ

কুষ্টিয়ার ইটভাটাগুলোতে দেদারসে পুড়ছে কাঠ, ক্ষতিগ্রস্ত তিন ফসলি জমি

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় ১৭০টি ইটভাটায় দেদারসে পুড়ছে কাঠ। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব মোতাবেক এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি ইটভাটাই অবৈধ। এসব ইটভাটার কারণে মাঠের তিন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক সিনিয়র কেমিস্ট হাবিবুল বাশার জানান, জেলায় ১৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ২২টির ছাড়পত্র আছে। বাকি দেড়শটি চলছে একেবারেই অবৈধভাবে। এ বছর এখনো পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কোনো ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়নি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন ব্যস্ততার কারণে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া যায়নি। ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি, সামনের সপ্তাহ কিংবা তার পরের সপ্তাহে অভিযান চালানো হবে।’
তবে চলতি মৌসুমের শুরুতেও একই কথা বলেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। তখন বলা হয়, অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নির্বাচন কোনো বাধা হবে না। শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।
প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রুমেল সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘অবৈধভাবে কৃষিজমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেশির ভাগ ভাটা। এগুলোতে কয়লার বদলে গাছ কেটে পোড়ানো হচ্ছে। ইট তৈরি করতে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহার করছে। আমরা বারবার বলার পরও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশ সংগঠক খলিলুর রহমান মজু সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সঠিকভাবে অভিযান চালিয়ে ভাটাগুলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আনা সম্ভব।’
অভিযোগ আছে, অন্য বছরের মতো এবারও প্রশাসন ম্যানেজ করতে জোটবদ্ধ হয়েছেন ভাটা মালিকরা। তবে এ বছর কোনো সমিতি গঠন করেননি তারা। উপজেলাভিত্তিক এক-দুজন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কুষ্টিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘ইটভাটা মালিকদের এ বছর কমিটি নেই। কুষ্টিয়া জেলায় কোনো সমিতিও এখন নেই। এ বছর উপজেলাভিত্তিক চলছে।’
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য। ১৭০টি ভাটার বিরুদ্ধে একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত অভিযান দ্রুতই চালানো হবে।’
অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি একেবারে প্রকাশ্য। কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুরের এএফবি ইটভাটার ম্যানেজার নাম না বলে জানান, কয়লার দাম বেশি তাই গাছ কেটে পোড়াতে হচ্ছে। কয়লার দাম সরকার কমিয়ে দিলে কাঠ পোড়ানো বাদ দিয়ে দেব। আরএইআরবি ইটভাটার ম্যানেজার বলেন, সরকার লাইসেন্স দিচ্ছে না।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘ইটভাটা যদি প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে, আইনের যে ধারাগুলো রয়েছে, সেগুলো প্রতিপালন না করে পরিচালনা করা হয়; তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সব ইটভাটাকে নোটিস দিয়েছি। তারা যেন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ভাটার কার্যক্রম শুরু না করে।’ ফসলি জমির মাটির উপরিভাগ উত্তোলন করে ইট বানানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, ‘এটি যদি নিয়মের ভিতরে থেকে না করে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

১৭০টির মধ্যে ১৫০টিই অবৈধ

কুষ্টিয়ার ইটভাটাগুলোতে দেদারসে পুড়ছে কাঠ, ক্ষতিগ্রস্ত তিন ফসলি জমি

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৪
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় ১৭০টি ইটভাটায় দেদারসে পুড়ছে কাঠ। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব মোতাবেক এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি ইটভাটাই অবৈধ। এসব ইটভাটার কারণে মাঠের তিন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক সিনিয়র কেমিস্ট হাবিবুল বাশার জানান, জেলায় ১৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ২২টির ছাড়পত্র আছে। বাকি দেড়শটি চলছে একেবারেই অবৈধভাবে। এ বছর এখনো পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কোনো ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়নি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন ব্যস্ততার কারণে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া যায়নি। ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি, সামনের সপ্তাহ কিংবা তার পরের সপ্তাহে অভিযান চালানো হবে।’
তবে চলতি মৌসুমের শুরুতেও একই কথা বলেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। তখন বলা হয়, অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নির্বাচন কোনো বাধা হবে না। শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।
প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রুমেল সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘অবৈধভাবে কৃষিজমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেশির ভাগ ভাটা। এগুলোতে কয়লার বদলে গাছ কেটে পোড়ানো হচ্ছে। ইট তৈরি করতে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্যবহার করছে। আমরা বারবার বলার পরও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশ সংগঠক খলিলুর রহমান মজু সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সঠিকভাবে অভিযান চালিয়ে ভাটাগুলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আনা সম্ভব।’
অভিযোগ আছে, অন্য বছরের মতো এবারও প্রশাসন ম্যানেজ করতে জোটবদ্ধ হয়েছেন ভাটা মালিকরা। তবে এ বছর কোনো সমিতি গঠন করেননি তারা। উপজেলাভিত্তিক এক-দুজন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কুষ্টিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘ইটভাটা মালিকদের এ বছর কমিটি নেই। কুষ্টিয়া জেলায় কোনো সমিতিও এখন নেই। এ বছর উপজেলাভিত্তিক চলছে।’
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য। ১৭০টি ভাটার বিরুদ্ধে একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত অভিযান দ্রুতই চালানো হবে।’
অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি একেবারে প্রকাশ্য। কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুরের এএফবি ইটভাটার ম্যানেজার নাম না বলে জানান, কয়লার দাম বেশি তাই গাছ কেটে পোড়াতে হচ্ছে। কয়লার দাম সরকার কমিয়ে দিলে কাঠ পোড়ানো বাদ দিয়ে দেব। আরএইআরবি ইটভাটার ম্যানেজার বলেন, সরকার লাইসেন্স দিচ্ছে না।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘ইটভাটা যদি প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে, আইনের যে ধারাগুলো রয়েছে, সেগুলো প্রতিপালন না করে পরিচালনা করা হয়; তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সব ইটভাটাকে নোটিস দিয়েছি। তারা যেন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ভাটার কার্যক্রম শুরু না করে।’ ফসলি জমির মাটির উপরিভাগ উত্তোলন করে ইট বানানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, ‘এটি যদি নিয়মের ভিতরে থেকে না করে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’