১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি বন্ধে যা করণীয় তা কি কেউ করছে?

দুর্নীতি বাড়ছে এবং বাড়তে বাড়তে সহনীয় ও স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই জানি, সরকারও জানে এবং বিশ্ববাসীও জানে যে, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবনমন অব্যাহত। পরিস্থিতি খারাপ থেকে অধিক খারাপের দিকে অগ্রসরমান। কেন দুর্নীতি বাড়ছে তার সবিস্তার ব্যাখ্যার চেয়ে এইটা বলাটা ভালো যে বৃহত্তর পরিসর থেকে ক্ষুদ্রতর পরিসর, সর্বত্রই দুর্নীতির ছায়া ক্রমপ্রসারণশীল।

এবার নির্বাচনের আগে শাসক দল আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার প্রকাশ করেছে সেই জায়গায় দুর্নীতিকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা উচ্চারণ করেছে। নির্বাচনের পরও মন্ত্রীরা দুর্নীতি বিরোধী কথাবার্তা বলছেন।

২০১৮ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০১৯ সালে এক নজিরবিহীন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আড্ডা চালানোর মতো কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখছিল দেশবাসী।

২০১৮ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০১৯ সালে এক নজিরবিহীন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আড্ডা চালানোর মতো কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখছিল দেশবাসী।

 


দুর্নীতি মানে কি শুধু মদ, মাদক, জুয়া আর চাঁদাবাজি? প্রকল্প কেলেঙ্কারির মতো বড় দুর্নীতির কথা আমরা কতটুকু জানতে পারি? সরকারি বড় বড় কেনাকাটায় কত কী ঘটে তার কতটুকু প্রতিকার হয়? বলতে গেলে জনজীবনের প্রত্যন্ত স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

সেই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিল মানুষ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই অভিযান সফল হয়নি। বেশিদিন তা পরিচালিত হয়নি এবং যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তারা একে একে বীরদর্পে বের হয়ে আসে জেল থেকে, কয়েকজন ছাড়া।

 

দুর্নীতি মানে কি শুধু মদ, মাদক, জুয়া আর চাঁদাবাজি? প্রকল্প কেলেঙ্কারির মতো বড় দুর্নীতির কথা আমরা কতটুকু জানতে পারি? সরকারি বড় বড় কেনাকাটায় কত কী ঘটে তার কতটুকু প্রতিকার হয়? বলতে গেলে জনজীবনের প্রত্যন্ত স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

কর পরিশোধ, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাসের বিল, গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স নবায়ন, বিভিন্ন ফিসহ নাগরিক সেবার প্রতিটি কাজে ঘুষ দিতে হয়। এই ছোট ছোট দুর্নীতি মানুষকে আচ্ছন্ন এবং অভ্যস্ত করেছে। নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাবানরা বড় দুর্নীতিকে আড়াল করা ও বৈধ করার সব পথ বানিয়ে রেখেছে। তো এমন একটি ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জিনিসটা কী সেইটাই বড় প্রশ্ন।

এরপরও দুর্নীতি-বিরোধী অবস্থানের সমর্থনে দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ অভ্যাসবশত আলোড়িত হয়। কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে একটি বোঝাপড়া নিজেরাই করে নিয়েছেন।

কীভাবে চোরাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়, বিল কম দেওয়া যায়, বিনা টিকিটে কীভাবে রেলে ভ্রমণ করা যায়, সন্তানদের জন্য কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ক্রয় করে ফেলা যায়, বাড়তি আয়ের সরকারি চাকরি কীভাবে টাকার বিনিময়ে জোগাড় করা যায়, কীভাবে খাদ্যে বিষ মেশানো যায়, ওজনে কম দেওয়া যায়, নকল পণ্য কীভাবে বাজারজাত করা যায় – এসব দক্ষতা নখদর্পণে আছে বিরাট এক জনগোষ্ঠীর। সেই সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা কঠিন কাজ বটেই।

এসব কারণেই বহুমাত্রিক দুর্নীতির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলেছে। মানুষও বুঝতে পেরেছে যে, নির্বিঘ্নে বাঁচার পথ হলো সব অনিয়ম করে নিজের লাভটি সিদ্ধ করা। তাই সবাই এখন দুর্নীতিতে হাত পাকাবার কাজটি দক্ষতার সাথে শিখছে। তাই নাগরিক সমাজের দুর্নীতি চলছেই। এবং চলবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও চলবে।

উৎকোচ দিয়ে যে কর্মকর্তাটি চাকরি নিয়েছেন, তিনি এখনো ঘুষ খেয়ে চলেছেন, যে রাজনীতিবিদ হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করেন এবং সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে নির্বাচন করেন তাদের দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রাম কী করে হয়?

 


দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান সফল না হওয়ার বড় কারণ ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরে থাকা মানুষদের নীতিনৈতিকতার অভাব….

অনেকে বলে থাকেন উন্নয়ন হলে কিছু দুর্নীতি হবেই। কথাটিতে কোনো সত্যতা নেই। বহু দেশেই দুর্নীতি ছাড়াই উন্নয়ন হয়। দুর্নীতিকে উন্নয়নের আপন ভাই বানিয়ে ফেলার এই মন্ত্র গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার নানা প্রকার দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি পালন করে। সেইগুলো থেকেও এক শ্রেণির ক্ষমতাবান অর্থ আত্মসাৎ করে থাকেন। দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা মানুষদের প্রাপ্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার দৃষ্টান্ত অজস্র। গরিবের অনুদান বড়লোকদের পাইয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্ত দেখা গেছে করোনা কালেও। এগুলো সবই দুর্নীতি।

দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান সফল না হওয়ার বড় কারণ ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরে থাকা মানুষদের নীতিনৈতিকতার অভাব। সচ্ছল রাজনীতিবিদ ও আমলাদের লোভ, প্রতিপত্তি এবং সবকিছু প্রভাবিত করে ক্ষমতার কাছে নীতিকে নতজানু করতেই হয়। সেইটাই ঘটছে বাংলাদেশে।

কাঠামোগত এই সমস্যার কারণে উন্নয়ন হলেও দুর্নীতি চলতে থাকে এবং দরিদ্র মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। নিষ্ঠাবান সৎ সরকারি কর্মচারী আজ বিরল। এই কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন, উন্নয়ন, প্রগতি, দুর্নীতি, বৈষম্য রাজনৈতিক সাফল্য, পক্ষপাত – সব এক সঙ্গে এগোচ্ছে।

আমরা কেউই বলছি না যে, দুর্নীতি রোধের নামে উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি থামিয়ে দিতে হবে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয় আর সময় কোনো সীমা মানে না সেইটার জন্য কখনো কাউকে জবাবদিহি করতে হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

সামাজিক সমস্যা হিসেবে দুর্নীতি ভয়াবহ। সাধারণ নাগরিকের জীবন দুর্নীতির জন্য কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই জানাটুকুর বড় প্রয়োজন। সমস্যা হলো সেই আলোচনাটাই হচ্ছে না কোথাও। হলে মানুষ বুঝতো দুর্নীতি বৃহত্তর সমাজ এবং সমাজ কাঠামোর ওপর কী অভিঘাত সৃষ্টি করে।

উন্নয়নের জন্য শ্রম বা পুঁজি দরকার, কিন্তু তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সামাজিক আস্থা। ব্যাপক দুর্নীতি সেই আস্থাই নষ্ট করে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের দুর্নীতি সমাজে শুধু ভাঙনই ধরায়, সমাজ গড়ে না।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ।। প্রধান সম্পাদক, গ্লোবাল টেলিভিশন

দুর্নীতি বন্ধে যা করণীয় তা কি কেউ করছে?

আপডেট সময় : ০১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

দুর্নীতি বাড়ছে এবং বাড়তে বাড়তে সহনীয় ও স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই জানি, সরকারও জানে এবং বিশ্ববাসীও জানে যে, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবনমন অব্যাহত। পরিস্থিতি খারাপ থেকে অধিক খারাপের দিকে অগ্রসরমান। কেন দুর্নীতি বাড়ছে তার সবিস্তার ব্যাখ্যার চেয়ে এইটা বলাটা ভালো যে বৃহত্তর পরিসর থেকে ক্ষুদ্রতর পরিসর, সর্বত্রই দুর্নীতির ছায়া ক্রমপ্রসারণশীল।

এবার নির্বাচনের আগে শাসক দল আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার প্রকাশ করেছে সেই জায়গায় দুর্নীতিকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা উচ্চারণ করেছে। নির্বাচনের পরও মন্ত্রীরা দুর্নীতি বিরোধী কথাবার্তা বলছেন।

২০১৮ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০১৯ সালে এক নজিরবিহীন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আড্ডা চালানোর মতো কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখছিল দেশবাসী।

২০১৮ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০১৯ সালে এক নজিরবিহীন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আড্ডা চালানোর মতো কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখছিল দেশবাসী।

 


দুর্নীতি মানে কি শুধু মদ, মাদক, জুয়া আর চাঁদাবাজি? প্রকল্প কেলেঙ্কারির মতো বড় দুর্নীতির কথা আমরা কতটুকু জানতে পারি? সরকারি বড় বড় কেনাকাটায় কত কী ঘটে তার কতটুকু প্রতিকার হয়? বলতে গেলে জনজীবনের প্রত্যন্ত স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

সেই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিল মানুষ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই অভিযান সফল হয়নি। বেশিদিন তা পরিচালিত হয়নি এবং যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তারা একে একে বীরদর্পে বের হয়ে আসে জেল থেকে, কয়েকজন ছাড়া।

 

দুর্নীতি মানে কি শুধু মদ, মাদক, জুয়া আর চাঁদাবাজি? প্রকল্প কেলেঙ্কারির মতো বড় দুর্নীতির কথা আমরা কতটুকু জানতে পারি? সরকারি বড় বড় কেনাকাটায় কত কী ঘটে তার কতটুকু প্রতিকার হয়? বলতে গেলে জনজীবনের প্রত্যন্ত স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

কর পরিশোধ, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাসের বিল, গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স নবায়ন, বিভিন্ন ফিসহ নাগরিক সেবার প্রতিটি কাজে ঘুষ দিতে হয়। এই ছোট ছোট দুর্নীতি মানুষকে আচ্ছন্ন এবং অভ্যস্ত করেছে। নীতিনির্ধারক ও ক্ষমতাবানরা বড় দুর্নীতিকে আড়াল করা ও বৈধ করার সব পথ বানিয়ে রেখেছে। তো এমন একটি ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জিনিসটা কী সেইটাই বড় প্রশ্ন।

এরপরও দুর্নীতি-বিরোধী অবস্থানের সমর্থনে দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ অভ্যাসবশত আলোড়িত হয়। কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে একটি বোঝাপড়া নিজেরাই করে নিয়েছেন।

কীভাবে চোরাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়, বিল কম দেওয়া যায়, বিনা টিকিটে কীভাবে রেলে ভ্রমণ করা যায়, সন্তানদের জন্য কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ক্রয় করে ফেলা যায়, বাড়তি আয়ের সরকারি চাকরি কীভাবে টাকার বিনিময়ে জোগাড় করা যায়, কীভাবে খাদ্যে বিষ মেশানো যায়, ওজনে কম দেওয়া যায়, নকল পণ্য কীভাবে বাজারজাত করা যায় – এসব দক্ষতা নখদর্পণে আছে বিরাট এক জনগোষ্ঠীর। সেই সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা কঠিন কাজ বটেই।

এসব কারণেই বহুমাত্রিক দুর্নীতির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলেছে। মানুষও বুঝতে পেরেছে যে, নির্বিঘ্নে বাঁচার পথ হলো সব অনিয়ম করে নিজের লাভটি সিদ্ধ করা। তাই সবাই এখন দুর্নীতিতে হাত পাকাবার কাজটি দক্ষতার সাথে শিখছে। তাই নাগরিক সমাজের দুর্নীতি চলছেই। এবং চলবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও চলবে।

উৎকোচ দিয়ে যে কর্মকর্তাটি চাকরি নিয়েছেন, তিনি এখনো ঘুষ খেয়ে চলেছেন, যে রাজনীতিবিদ হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করেন এবং সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে নির্বাচন করেন তাদের দিয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংগ্রাম কী করে হয়?

 


দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান সফল না হওয়ার বড় কারণ ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরে থাকা মানুষদের নীতিনৈতিকতার অভাব….

অনেকে বলে থাকেন উন্নয়ন হলে কিছু দুর্নীতি হবেই। কথাটিতে কোনো সত্যতা নেই। বহু দেশেই দুর্নীতি ছাড়াই উন্নয়ন হয়। দুর্নীতিকে উন্নয়নের আপন ভাই বানিয়ে ফেলার এই মন্ত্র গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার নানা প্রকার দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি পালন করে। সেইগুলো থেকেও এক শ্রেণির ক্ষমতাবান অর্থ আত্মসাৎ করে থাকেন। দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা মানুষদের প্রাপ্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার দৃষ্টান্ত অজস্র। গরিবের অনুদান বড়লোকদের পাইয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্ত দেখা গেছে করোনা কালেও। এগুলো সবই দুর্নীতি।

দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান সফল না হওয়ার বড় কারণ ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরে থাকা মানুষদের নীতিনৈতিকতার অভাব। সচ্ছল রাজনীতিবিদ ও আমলাদের লোভ, প্রতিপত্তি এবং সবকিছু প্রভাবিত করে ক্ষমতার কাছে নীতিকে নতজানু করতেই হয়। সেইটাই ঘটছে বাংলাদেশে।

কাঠামোগত এই সমস্যার কারণে উন্নয়ন হলেও দুর্নীতি চলতে থাকে এবং দরিদ্র মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। নিষ্ঠাবান সৎ সরকারি কর্মচারী আজ বিরল। এই কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন, উন্নয়ন, প্রগতি, দুর্নীতি, বৈষম্য রাজনৈতিক সাফল্য, পক্ষপাত – সব এক সঙ্গে এগোচ্ছে।

আমরা কেউই বলছি না যে, দুর্নীতি রোধের নামে উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি থামিয়ে দিতে হবে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয় আর সময় কোনো সীমা মানে না সেইটার জন্য কখনো কাউকে জবাবদিহি করতে হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

সামাজিক সমস্যা হিসেবে দুর্নীতি ভয়াবহ। সাধারণ নাগরিকের জীবন দুর্নীতির জন্য কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই জানাটুকুর বড় প্রয়োজন। সমস্যা হলো সেই আলোচনাটাই হচ্ছে না কোথাও। হলে মানুষ বুঝতো দুর্নীতি বৃহত্তর সমাজ এবং সমাজ কাঠামোর ওপর কী অভিঘাত সৃষ্টি করে।

উন্নয়নের জন্য শ্রম বা পুঁজি দরকার, কিন্তু তারচেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সামাজিক আস্থা। ব্যাপক দুর্নীতি সেই আস্থাই নষ্ট করে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের দুর্নীতি সমাজে শুধু ভাঙনই ধরায়, সমাজ গড়ে না।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ।। প্রধান সম্পাদক, গ্লোবাল টেলিভিশন