০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসী ছেড়ে আলোর পথে

সন্ত্রাসী পেশা ছেড়ে, আলোকিত জীবন গড়ি-এই প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনা জেলার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নিকট বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র¿ জমা আত্মসমর্পণ করেছিলেন ১৪ জেলার ৫৯৫ চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেন। এরমধ্যে রাজশাহীর ৫৭ জন চরমপন্থী অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরেছিলেন।

 

২০২০ সালের ১৮ই মে আত্মসমর্পণ করা রাজশাহীর ৫৭ জন চরমপন্থী সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার করে চেক দেয়া হয়। আত্মসমর্পণকারীদের বাগমারা উপজেলার ৩৩ চরমপন্থী সদস্য পুঠিয়া উপজেলার ১৬ জন, দুর্গাপুরের ৫ জন এবং মহানগর এলাকার বাসিন্দা ৩ জন। এদেরকে এদেরকে সৎপথে স্বাবলম্বী করতে সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার সার্বিক তত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরকার প্রদত্ত অর্থের মাধ্যমে রাজশাহীর বাগমারা এবং তানোর উপজেলায় দুটি প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।

 

অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরা এ ৫৭ জন চরমপন্থীকে নিয়ে ‘রাজশাহী স্বপ্নচাষ সমন্বিত কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি বে- সরকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সংস্থার মাধ্যমে রাজশাহীর আত্মসমর্পনকৃত সর্বহারাদের ২ টি প্রকল্পের মাধ্যমে পূনর্বাসন করা হচ্ছে। একটি ‘সমন্বিত কৃষি খামার প্রকল্প-০১’ নামে এবং অন্যটি ‘সমন্বিত কৃষি খামার প্রকল্প-০২’ নামে অভিহিত।

রাজশাহীর তানোর ও বাগমারা উপজেলায় ৯০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন ও সবজি চাষের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। রাজশাহী স্বপ্ন চাষ সমন্বিত কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নামে বরাদ্দ দেয়া এসব জমিতে মাছ চাষ, পশুপালন ও সবজি চাষ করে মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই সাবলম্বী হয়েছে। এখন আলোর পথ দেখতে ত্মসমর্পণকৃত এই চরমপন্থীরা। তাদেরকে স্বাবলম্বী করার অংশ হিসাবে গত রবিবার (২১ জানুয়ারী) রাজশাহীর তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া এলাকার প্রকল্প-২ এর পুকুর হতে মাছ ধরে বাজারজাত করা হয়। এ সময় রাজশাহী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোর পথে ফিরে আসা কয়েকজন জানান, দিনে আত্মগোপন, রাতে র‌্যাব-পুলিশের ভয়ে নির্ঘূম রাত। প্রতিটি মুহুর্ত যেন ভয় আর উৎকন্ঠায় কাটছিলো। তার মধ্যে মাসে মাসে মামলার ঘানি টানতে আদালতে কাঠগড়ায়। কখনো বা স্বজনদের ছেড়ে জেলখানার চার দেয়ালে বন্ধি থাকতে হয়েছে আমাদের। সার্বিকভাবে জীবন যাপনের পরিধি ছোট হয়ে গিয়েছিল। জীবনধারন হয়ে উঠেছিল অভিশপ্ত। ভেবে ছিলাম আর বেঁচে থাকা হবে না। কিন্তু না, খুঁজে পেয়েছি আলোর দেখা। মা-ভাই এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছে জীবন সংসার। দেখছি সৎ পথে বড় হওয়ার স্বপ্ন। মানুষের কাছ থেকে পাচ্ছি আত্মসম্মানও। অনেকটা আবেগ জড়ানো কন্ঠে এ কথা বলেছেন তারা।

 

এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেন, সন্ত্রাসের পথ থেকে আলোর পথে এসে চরমপন্থীরা যেন ভালো কিছু করে স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারেন- সে জন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের এই সুযোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলার প্রায় ৬০০জন চরমপন্থিসহ জলদস্যু, বনদস্যু এবং মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফিরে

 

 

 

স/মিফা

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাসী ছেড়ে আলোর পথে

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

সন্ত্রাসী পেশা ছেড়ে, আলোকিত জীবন গড়ি-এই প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনা জেলার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নিকট বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র¿ জমা আত্মসমর্পণ করেছিলেন ১৪ জেলার ৫৯৫ চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেন। এরমধ্যে রাজশাহীর ৫৭ জন চরমপন্থী অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরেছিলেন।

 

২০২০ সালের ১৮ই মে আত্মসমর্পণ করা রাজশাহীর ৫৭ জন চরমপন্থী সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার করে চেক দেয়া হয়। আত্মসমর্পণকারীদের বাগমারা উপজেলার ৩৩ চরমপন্থী সদস্য পুঠিয়া উপজেলার ১৬ জন, দুর্গাপুরের ৫ জন এবং মহানগর এলাকার বাসিন্দা ৩ জন। এদেরকে এদেরকে সৎপথে স্বাবলম্বী করতে সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার সার্বিক তত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরকার প্রদত্ত অর্থের মাধ্যমে রাজশাহীর বাগমারা এবং তানোর উপজেলায় দুটি প্রকল্প চালু করা হয়েছিল।

 

অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরা এ ৫৭ জন চরমপন্থীকে নিয়ে ‘রাজশাহী স্বপ্নচাষ সমন্বিত কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি বে- সরকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সংস্থার মাধ্যমে রাজশাহীর আত্মসমর্পনকৃত সর্বহারাদের ২ টি প্রকল্পের মাধ্যমে পূনর্বাসন করা হচ্ছে। একটি ‘সমন্বিত কৃষি খামার প্রকল্প-০১’ নামে এবং অন্যটি ‘সমন্বিত কৃষি খামার প্রকল্প-০২’ নামে অভিহিত।

রাজশাহীর তানোর ও বাগমারা উপজেলায় ৯০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন ও সবজি চাষের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। রাজশাহী স্বপ্ন চাষ সমন্বিত কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নামে বরাদ্দ দেয়া এসব জমিতে মাছ চাষ, পশুপালন ও সবজি চাষ করে মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই সাবলম্বী হয়েছে। এখন আলোর পথ দেখতে ত্মসমর্পণকৃত এই চরমপন্থীরা। তাদেরকে স্বাবলম্বী করার অংশ হিসাবে গত রবিবার (২১ জানুয়ারী) রাজশাহীর তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া এলাকার প্রকল্প-২ এর পুকুর হতে মাছ ধরে বাজারজাত করা হয়। এ সময় রাজশাহী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোর পথে ফিরে আসা কয়েকজন জানান, দিনে আত্মগোপন, রাতে র‌্যাব-পুলিশের ভয়ে নির্ঘূম রাত। প্রতিটি মুহুর্ত যেন ভয় আর উৎকন্ঠায় কাটছিলো। তার মধ্যে মাসে মাসে মামলার ঘানি টানতে আদালতে কাঠগড়ায়। কখনো বা স্বজনদের ছেড়ে জেলখানার চার দেয়ালে বন্ধি থাকতে হয়েছে আমাদের। সার্বিকভাবে জীবন যাপনের পরিধি ছোট হয়ে গিয়েছিল। জীবনধারন হয়ে উঠেছিল অভিশপ্ত। ভেবে ছিলাম আর বেঁচে থাকা হবে না। কিন্তু না, খুঁজে পেয়েছি আলোর দেখা। মা-ভাই এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছে জীবন সংসার। দেখছি সৎ পথে বড় হওয়ার স্বপ্ন। মানুষের কাছ থেকে পাচ্ছি আত্মসম্মানও। অনেকটা আবেগ জড়ানো কন্ঠে এ কথা বলেছেন তারা।

 

এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেন, সন্ত্রাসের পথ থেকে আলোর পথে এসে চরমপন্থীরা যেন ভালো কিছু করে স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবনযাপন করতে পারেন- সে জন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের এই সুযোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলার প্রায় ৬০০জন চরমপন্থিসহ জলদস্যু, বনদস্যু এবং মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করে আলোর পথে ফিরে

 

 

 

স/মিফা