০১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মাটি বিক্রির মহোৎসব 

ঝুঁকিতে নদী এবং লোকালয় রক্ষা বাঁধ 

যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশে অবৈধ ভাবে বালি মাটি বিক্রি করার মহোৎসব চলছে। এবছর নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে অবৈধ বালি খেকোদের দৌরাত্ম শুরু হয়ে গেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে জানা যান
উপজেলার নলিন বাজার থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন পাথাইলকান্দি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার  যমুনার তীরে বিভিন্ন ঘাট বসিয়ে তীরবর্তী ফসলি জমি ও তীরে জেগে উঠা চর কেটে বিক্রি করছে তারা।
উপজেলার গোবিন্দাসী ও গাবসারা ইউনিয়নের মাঝামঝি জিগাতলা ও রামপুর। গাবসারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এর ভাই খোকা মিয়ার ঘাটে নদী তীরে বপন করা বাদাম, খেসারী কলাইর ফসলি জমি কেটে বিক্রি করছে। এখানে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে নদীর মাটি কেটে গভীর করে তীরে স্তুপ করে রেখে বিক্রি করছে। এখান থেকে দিনরাত দশ চাকার শত শত গাড়ি করে ভিটিমাটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। প্রতি বড় ট্রাক মাটি বিক্রি করা হয় ৩ হাজার আর ছোট ট্রাক ১ হাজার ৫শ টাকা করে। এছাড়া নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দী, অর্জুনা ইউনিয়নের অর্জুনা, জগতপুরা নলিনবাজার সংলগ্ন কয়েকটি ঘাটে বেকু দিয়ে কেটে ভিটিমাটি বিক্রি করছে।
জমির মালিকদের নামমাত্র টাকা দিয়ে প্রশাসনের যোগসাজশে এমন কর্মযজ্ঞ করে থাকে বলে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এসবের পরিধি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার ক্ষমতাশীন দলের প্রায় নেতাই তাদের নিজের নামে ভিটি মাটি বিক্রির ঘাট তৈরীর কাজে জড়িত হয়ে পড়ছে।
জমির মালিক জিগাতলা গ্রামের আব্দুল মজিদ মিয়া জানান, মাটির টাকা দেওয়ার কথা বলে মাটি বিক্রি করছে কিন্তু এদের ধারে কাছেই ভিড়তে পারছি না, এরা কাউকে মানে না। বড় বড় রাঘববোয়ালদের টাকা দিয়ে কাজ করে আমরা কিছুই বলতে পারিনা।
নদী তীরবর্তী এসব বালি মাটি তুলে বিক্রি করায় ঝুঁকিতে পড়ছে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ। বর্ষা মৌসুমে লোকালয় ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পায় বলে জানায় স্থানীয়রা।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মাটি বিক্রির মহোৎসব 

ঝুঁকিতে নদী এবং লোকালয় রক্ষা বাঁধ 

আপডেট সময় : ০২:৪২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪
যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশে অবৈধ ভাবে বালি মাটি বিক্রি করার মহোৎসব চলছে। এবছর নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে অবৈধ বালি খেকোদের দৌরাত্ম শুরু হয়ে গেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে জানা যান
উপজেলার নলিন বাজার থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন পাথাইলকান্দি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার  যমুনার তীরে বিভিন্ন ঘাট বসিয়ে তীরবর্তী ফসলি জমি ও তীরে জেগে উঠা চর কেটে বিক্রি করছে তারা।
উপজেলার গোবিন্দাসী ও গাবসারা ইউনিয়নের মাঝামঝি জিগাতলা ও রামপুর। গাবসারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এর ভাই খোকা মিয়ার ঘাটে নদী তীরে বপন করা বাদাম, খেসারী কলাইর ফসলি জমি কেটে বিক্রি করছে। এখানে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে নদীর মাটি কেটে গভীর করে তীরে স্তুপ করে রেখে বিক্রি করছে। এখান থেকে দিনরাত দশ চাকার শত শত গাড়ি করে ভিটিমাটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। প্রতি বড় ট্রাক মাটি বিক্রি করা হয় ৩ হাজার আর ছোট ট্রাক ১ হাজার ৫শ টাকা করে। এছাড়া নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দী, অর্জুনা ইউনিয়নের অর্জুনা, জগতপুরা নলিনবাজার সংলগ্ন কয়েকটি ঘাটে বেকু দিয়ে কেটে ভিটিমাটি বিক্রি করছে।
জমির মালিকদের নামমাত্র টাকা দিয়ে প্রশাসনের যোগসাজশে এমন কর্মযজ্ঞ করে থাকে বলে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এসবের পরিধি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার ক্ষমতাশীন দলের প্রায় নেতাই তাদের নিজের নামে ভিটি মাটি বিক্রির ঘাট তৈরীর কাজে জড়িত হয়ে পড়ছে।
জমির মালিক জিগাতলা গ্রামের আব্দুল মজিদ মিয়া জানান, মাটির টাকা দেওয়ার কথা বলে মাটি বিক্রি করছে কিন্তু এদের ধারে কাছেই ভিড়তে পারছি না, এরা কাউকে মানে না। বড় বড় রাঘববোয়ালদের টাকা দিয়ে কাজ করে আমরা কিছুই বলতে পারিনা।
নদী তীরবর্তী এসব বালি মাটি তুলে বিক্রি করায় ঝুঁকিতে পড়ছে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ। বর্ষা মৌসুমে লোকালয় ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পায় বলে জানায় স্থানীয়রা।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালি মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।