কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা’র কালাকচুয়াস্থ হাইওয়ে পুলিশ সুপার কুমিল্লা রিজিয়নের সিসি ক্যামেরার মিটারের জন্য স্থাপিত পোল হতে একটি ১০ কেভি ট্রান্সফরমার চুরির মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান এর সার্বিক দিক নিদের্শনায় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্স এর সহায়তায় আন্ত:জেলা ট্রান্সফরমার চোর চক্রকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত চৌকস টিম কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এই ঘটনায় জড়িত আসামী ১/ মনির হোসেন (৩২)কে পৈতৃক বাড়ি চান্দিনা হতে গ্রেফতার করা হয়। মনির হোসেনের দেওয়া তথ্য মতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ^রোড এলাকা থেকে সক্রিয় চোর চক্রের সদস্য ২/সোহেল (৩০)কে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত.আসামী মনির ও সোহেলদের দেখানো মতে অত্র মামলার ঘটনাস্থল হতে ০১টি ট্রান্সফরমারের খালি খোসা (বক্স) ও একটি ঢাকনা জব্দ করা হয়। আসামীদের দেওয়া তথ্য মতে উক্ত চুরির ঘটনায় জড়িত আসামী ৩/ কামরুল হাসান (৩২), ৪/ মাঈন উদ্দিন (২৮) ও ৫/ রুবেল আহমেদ @মিন্টু (২৯)সহ সকলকে গ্রেফতারপূর্বক মাঈন উদ্দিন(২৮) এর মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামক দোকান হতে পূর্বে চুরিকৃত ট্রান্সফরমার মালামাল ১/তামার তার ১৬ কেজি, ২। ছোট-বড় স্টিলের পাত ৫০ কেজি, ৩। তামার কয়েল ০৪টি যার ওজন ৪৪ কেজি, ৪। লোহার তার ১৪ কেজি ৫০০ গ্রাম, ৫। লোহার তৈরি কয়েলের ঢাকনা ০৩টি, ৬। ট্রান্সফরমারে ঢাকনা ০১টি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানায় যে, তাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি করে শাকতলার রুবলের মাধ্যমে নোয়াগাঁও চৌমোহনী এলাকায় মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ দোকানের ম্যানেজার মাঈন উদ্দিন এর কাছে বিক্রি করে। উল্লেখ্য, আসামী রুবেল ট্রান্সফরমার চোর চক্রের সদস্যদের সাথে যোগাযাগ রেখে চোরাই মাল বিক্রিতে মূল ভূমিকা রাখে। আসামী মাঈন উদ্দিন চোরাই মাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ এর মালিক আক্তার হোসেন এসকে পরিবহন ও পূরবী পরিবহন এর মাধ্যমে ঢাকার মিটফোর্ট এলাকায় ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ এর মালিক দেলোয়ার এর কাছে বিক্রি করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানায় যে, তাঁরা ট্রান্সফরমার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা ৩/৪ বছর যাবৎ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এবং পাশর্^বর্তী জেলা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি করে আসছে। তারা দিনের বেলায় টার্গেট ট্রান্সফরমারের স্থানে রেকি করে এবং রাতের বেলা গিয়ে ট্রান্সফরমারের ঢাকনা খুলে তামার তার নিয়ে চলে আসে। ট্রান্সফরমার থেকে তামার তার চুরি করতে তাদের মাত্র ২০ থেতে ২৫ মিনিট সময় লাগে। চুরি করার পরে ট্রান্সফরমারের খালি খোলস (বক্স) সাধারণত ঘটনাস্থলেই ফেলে দেয়। অত্র মামলার তদন্ত ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামাল গুলো হল:-১/তামার তার ১৬ কেজি, ২/ছোট-বড় স্টিলের পাত ৫০ কেজি, ৩/ তামার কয়েল ০৪টি যার ওজন ৪৪ কেজি, ৪/ লোহার তার ১৪ কেজি ৫০০ গ্রাম, ৫/ লোহার তৈরি কয়েলের ঢাকনা ০৩টি, ৬/ ট্রান্সফরমারে ঢাকনা ০২টি,৭/ ট্রান্সফরমারের খালি খোসা ০১টি ।




















