১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

১৪৭৪ টাকার গ্যাস রাজশাহীতে কিনতে হচ্ছে ১৬০০ টাকায়!

রাজশাহী মহানগরীর শালবাগন পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিক্রেতার দোকান থেকে বুধবার দুপুরে  ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনছিলেন জুয়ের রানা। সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে তাঁকে বাড়তি ৭৬ টাকা দিতে হয়। এই কারণে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

জুয়ের রানা বলেন, ‘ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়তি দাম নিলেও করার কিছু নেই। এসব তদারকি করারও কেউ নেই। গ্যাসের পরিবেশক ও ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। বাড়তি দাম নিলেও কোনো রসিদ দিচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম নয়, প্রতি মাসে বাড়তি দামেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।’
জানাগেছে, চলতি মাসের ৪ ফেব্রুয়ারী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেঁধে দেওয়া হয় ১ হাজার ৪৭৪ টাকা। কিন্তু তা ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। প্রায় আড়াই বছর ধরে দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা কার্যকর করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে এবার ৪১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসে ১২ কেজিতে দাম ২৯ টাকা বেড়েছিল। গত ৪ ফেব্রুয়ারী বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির নতুন দাম জানানো হয়। বিইআরসির সদস্য ইয়ামিন চৌধুরী নতুন দাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত নতুন রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১
হাজার ৪৭৪ টাকা। জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৩ টাকা। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে।
নির্ধারিত দামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ মাসের জন্য গ্যাসের দাম নির্ধারণ করেছে। এ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৪১ টাকা। যা দাম হয়েছে ১ এক ৪৭৪ টাকা। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর করা হয়। কিন্তু এই দাম নির্ধারণের আগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল বিক্রেতা। আবার অনেকের কাছে সিলিন্ডার থাকলেও বেশি দামেই বিক্রি করছিলেন।

খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের ভাষ্য, গেল বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীতে কোম্পানীগুলো গ্যাস সরবরাহ করা বন্ধ রেখেছিল। এ কারণে গ্যাসের সঙ্কট
সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু যাদের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার ছিল তারা বাসা- বাড়িতে সরবরাহ করেছে।

বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোম্পানিভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে প্রতি সিলিন্ডার। এর মধ্যে বসুন্ধরার সিলিন্ডারের দাম ১৬৫০ টাকা, বেক্সিমকো ১৬৫০ টাকা, ওমেরা সিলিন্ডারের দাম ১৬০০ টাকা, যমুনা ১৬০০, লাফস ১৫৫০, পেট্রোম্যাক্স ১৫৫০ ও বিএম কোম্পানির সিলিন্ডার ১৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ডিলার পয়েন্ট থেকে যে দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়, তা সরকারি দামের চাইতে বেশি। ফলে তাদের পক্ষে ন্যায্য দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
খুচরা বিক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, কয়েকটা কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার আমরা বিক্রি করে থাকি। সেসবের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকে। কিন্তু সরকারি মূল্যে কেউ বিক্রি করে না। তাই আমাদেরও ন্যায্য দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

জানা গেছে, ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে এবার ৪১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসে ১২ কেজিতে দাম ২৯ টাকা বেড়েছিল। রোববার বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির নতুন দাম জানানো হয়। বিইআরসির সদস্য ইয়ামিন চৌধুরী নতুন দাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত নতুন রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা। জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৩ টাকা। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে।

গৌরহাঙ্গা এলাকার ওমেরা গ্যাসের পরিবেশক মেসার্স আনন্দ কুমার সাহার সত্বাধিকারী আনন্দ কুমার সাগা বলেন, প্রতিমাসে গ্যাসের দাম বাড়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের। আমাদের এগুলো ট্রাক পাঠিয়ে ঢাকা থেকে নিয়ে আসতে হয়। নিয়ে আসার খরচও আছে। আর কোম্পানী যে কমিশন দেয় শুধু ঢাকা সিটির জন্য পোষাবে। কিন্তু আমাদের খরচ আরও বেশি। অল্প লাভে আমরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার দেয়। তারা আবার বেশি দামে বিক্রি করে।
অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে অস্থিরতার জন্য বিইআরসির ভূমিকাকে দায়ী করেছে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)। ক্যাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, আগেও যখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখনও বাড়তি দামে ভোক্তারা গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছে।

বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দায় সেরেছে। এ দামে ভোক্তারা কিনতে পারছে কি না এবং বাজারে দামের বিষয়টি কে তদারক করবে, তা নিয়ে বিইআরসির স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

১৪৭৪ টাকার গ্যাস রাজশাহীতে কিনতে হচ্ছে ১৬০০ টাকায়!

আপডেট সময় : ০৬:০১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাজশাহী মহানগরীর শালবাগন পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিক্রেতার দোকান থেকে বুধবার দুপুরে  ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনছিলেন জুয়ের রানা। সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে তাঁকে বাড়তি ৭৬ টাকা দিতে হয়। এই কারণে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।

জুয়ের রানা বলেন, ‘ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়তি দাম নিলেও করার কিছু নেই। এসব তদারকি করারও কেউ নেই। গ্যাসের পরিবেশক ও ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। বাড়তি দাম নিলেও কোনো রসিদ দিচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম নয়, প্রতি মাসে বাড়তি দামেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।’
জানাগেছে, চলতি মাসের ৪ ফেব্রুয়ারী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেঁধে দেওয়া হয় ১ হাজার ৪৭৪ টাকা। কিন্তু তা ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। প্রায় আড়াই বছর ধরে দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা কার্যকর করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে এবার ৪১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসে ১২ কেজিতে দাম ২৯ টাকা বেড়েছিল। গত ৪ ফেব্রুয়ারী বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির নতুন দাম জানানো হয়। বিইআরসির সদস্য ইয়ামিন চৌধুরী নতুন দাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত নতুন রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১
হাজার ৪৭৪ টাকা। জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৩ টাকা। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে।
নির্ধারিত দামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ মাসের জন্য গ্যাসের দাম নির্ধারণ করেছে। এ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৪১ টাকা। যা দাম হয়েছে ১ এক ৪৭৪ টাকা। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর করা হয়। কিন্তু এই দাম নির্ধারণের আগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল বিক্রেতা। আবার অনেকের কাছে সিলিন্ডার থাকলেও বেশি দামেই বিক্রি করছিলেন।

খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের ভাষ্য, গেল বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীতে কোম্পানীগুলো গ্যাস সরবরাহ করা বন্ধ রেখেছিল। এ কারণে গ্যাসের সঙ্কট
সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু যাদের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার ছিল তারা বাসা- বাড়িতে সরবরাহ করেছে।

বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোম্পানিভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে প্রতি সিলিন্ডার। এর মধ্যে বসুন্ধরার সিলিন্ডারের দাম ১৬৫০ টাকা, বেক্সিমকো ১৬৫০ টাকা, ওমেরা সিলিন্ডারের দাম ১৬০০ টাকা, যমুনা ১৬০০, লাফস ১৫৫০, পেট্রোম্যাক্স ১৫৫০ ও বিএম কোম্পানির সিলিন্ডার ১৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ডিলার পয়েন্ট থেকে যে দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়, তা সরকারি দামের চাইতে বেশি। ফলে তাদের পক্ষে ন্যায্য দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
খুচরা বিক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, কয়েকটা কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার আমরা বিক্রি করে থাকি। সেসবের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকে। কিন্তু সরকারি মূল্যে কেউ বিক্রি করে না। তাই আমাদেরও ন্যায্য দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

জানা গেছে, ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ১২ কেজিতে এবার ৪১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসে ১২ কেজিতে দাম ২৯ টাকা বেড়েছিল। রোববার বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির নতুন দাম জানানো হয়। বিইআরসির সদস্য ইয়ামিন চৌধুরী নতুন দাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত নতুন রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা। জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৩ টাকা। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে।

গৌরহাঙ্গা এলাকার ওমেরা গ্যাসের পরিবেশক মেসার্স আনন্দ কুমার সাহার সত্বাধিকারী আনন্দ কুমার সাগা বলেন, প্রতিমাসে গ্যাসের দাম বাড়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের। আমাদের এগুলো ট্রাক পাঠিয়ে ঢাকা থেকে নিয়ে আসতে হয়। নিয়ে আসার খরচও আছে। আর কোম্পানী যে কমিশন দেয় শুধু ঢাকা সিটির জন্য পোষাবে। কিন্তু আমাদের খরচ আরও বেশি। অল্প লাভে আমরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার দেয়। তারা আবার বেশি দামে বিক্রি করে।
অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে অস্থিরতার জন্য বিইআরসির ভূমিকাকে দায়ী করেছে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)। ক্যাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, আগেও যখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখনও বাড়তি দামে ভোক্তারা গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছে।

বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দায় সেরেছে। এ দামে ভোক্তারা কিনতে পারছে কি না এবং বাজারে দামের বিষয়টি কে তদারক করবে, তা নিয়ে বিইআরসির স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।