০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে ৩৩ টি হারানো মোবাইল উদ্ধার ও হস্তান্তর  

খাগড়াছড়িতে নয়টি থানায় মোবাইল ফোন সংক্রান্ত জিডি ও অভিযোগগুলি সংগ্রহ করে খাগড়াছড়ি সাইবার ইনটেলিজেন্স এন্ড ইনভেস্টিগেশন ইউনিট তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করে ৭ দিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন মডেলের ৩৩ (তেত্রিশ) টি হারানো মোবাইল উদ্ধার করেছেন খাগড়াছড়ি পুলিশ।
রবিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রকৃত মালিকদের নিকট মোবাইল হস্তান্তর কালে জেলা পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরেআলম মিনা বিপিএম নির্দেশনায় ছিনতাই হওয়া মোবাইল, হারানো মোবাইল ও চোরাই মোবাইল উদ্ধারে চট্টগ্রাম রেঞ্জের প্রতিটি ইউনিটকে জোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মুক্তাধর, পিপিএম (বার) এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। হারানো মোবাইল ফোনগুলি হাতে পেয়ে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আগত মোবাইল মালিকগণ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের মধ্য থেকে পানছড়ি থানা থেকে আগত মোঃ হালিম (২৫) বলেন, “আমি পেশায় একজন শ্রমিক। আমি পানছড়ি সিমান্তগামী মহাসড়কে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করছি। গত ০২ (দুই) মাস পূর্বে আমার মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। আমি অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে মোবাইল ফোনটি কিনে ছিলাম। শখের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে আমি মনে প্রচন্ড কষ্ট পাই। কোন উপায় না পেয়ে আমি পানছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। আমি ভেবেছিলাম হারানো মোবাইল ফোনটি আর কখনোই ফিরে পাবো না। আজ যখন খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার স্যার আমার হাতে আমার হারানো মোবাইল টি তুলে দিলেন তখন আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। আমি পুলিশ সুপার মহোদয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং বাংলাদেশ পুলিশ কে ধন্যবাদ জানাই।”  একই ভাবে খাগড়াছড়ি জেলার দূর্গম এলাকা তাইন্দং থেকে আগত জনৈক আব্দুল সবুর (৫৫) তার মেয়ের হারানো মোবাইল ফোনটি পুলিশ সুপার মহোদয়ের হাত থেকে গ্রহণ করে কান্নাবিজড়িত কন্ঠে বলেন যে, “আমি একজন দিনমজুর। আমার মেয়ে কলেজে পড়াশোনা করে। কলেজের পড়াশোনার কাজের জন্য আমার মেয়েকে আমি কষ্ট করে ধারদেনা করে একটি টাচ্ মোবাইল কিনে দেই। বাড়ীতে চার্জ দেওয়ার সময় আমার মেয়ের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। আমার মেয়ে মোবাইল ফোনটি হারিয়ে প্রচন্ড কান্নাকাটি করে। আমি আল্লাহর নিকট বিচার দেই। আজ আল্লাহ আমার ডাক শুনেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপারের মত যদি স্যার থাকতো তাহলে আমার মত গরিব দুঃখি মানুষের অনেক উপকার হতো। আল্লাহ স্যারের মঙ্গল করুন। স্যার অনেক দিন বেঁচে থাকুক।” উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোনগুলি প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করে খাগড়াছড়ি জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন যে “হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের আমাদের এই কার্যক্রম ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। আমি ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার প্রতিটি থানা ও ইউনিটকে এই বিষয়ে জোর তাগিদ প্রদান করেছি। খাগড়াছড়ি জেলাবাসীদের প্রতি আমার আহবান থাকবে আপনাদের শখের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে আপনারা সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করবেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করব আপনাদের শখের মোবাইলটি আপনাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার। আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। আমাদের খাগড়াছড়ি সাইবার ইনটেলিজেন্স এন্ড ইনভেস্টিগেশন ইউনিট আপনাদের সার্বক্ষণিক সকল প্রকার সাইবার সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

খাগড়াছড়িতে ৩৩ টি হারানো মোবাইল উদ্ধার ও হস্তান্তর  

আপডেট সময় : ০১:১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
খাগড়াছড়িতে নয়টি থানায় মোবাইল ফোন সংক্রান্ত জিডি ও অভিযোগগুলি সংগ্রহ করে খাগড়াছড়ি সাইবার ইনটেলিজেন্স এন্ড ইনভেস্টিগেশন ইউনিট তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করে ৭ দিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন মডেলের ৩৩ (তেত্রিশ) টি হারানো মোবাইল উদ্ধার করেছেন খাগড়াছড়ি পুলিশ।
রবিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রকৃত মালিকদের নিকট মোবাইল হস্তান্তর কালে জেলা পুলিশ সুপার মুক্তাধর বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরেআলম মিনা বিপিএম নির্দেশনায় ছিনতাই হওয়া মোবাইল, হারানো মোবাইল ও চোরাই মোবাইল উদ্ধারে চট্টগ্রাম রেঞ্জের প্রতিটি ইউনিটকে জোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মুক্তাধর, পিপিএম (বার) এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। হারানো মোবাইল ফোনগুলি হাতে পেয়ে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আগত মোবাইল মালিকগণ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের মধ্য থেকে পানছড়ি থানা থেকে আগত মোঃ হালিম (২৫) বলেন, “আমি পেশায় একজন শ্রমিক। আমি পানছড়ি সিমান্তগামী মহাসড়কে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করছি। গত ০২ (দুই) মাস পূর্বে আমার মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। আমি অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে মোবাইল ফোনটি কিনে ছিলাম। শখের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে আমি মনে প্রচন্ড কষ্ট পাই। কোন উপায় না পেয়ে আমি পানছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। আমি ভেবেছিলাম হারানো মোবাইল ফোনটি আর কখনোই ফিরে পাবো না। আজ যখন খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার স্যার আমার হাতে আমার হারানো মোবাইল টি তুলে দিলেন তখন আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছিল। আমি পুলিশ সুপার মহোদয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং বাংলাদেশ পুলিশ কে ধন্যবাদ জানাই।”  একই ভাবে খাগড়াছড়ি জেলার দূর্গম এলাকা তাইন্দং থেকে আগত জনৈক আব্দুল সবুর (৫৫) তার মেয়ের হারানো মোবাইল ফোনটি পুলিশ সুপার মহোদয়ের হাত থেকে গ্রহণ করে কান্নাবিজড়িত কন্ঠে বলেন যে, “আমি একজন দিনমজুর। আমার মেয়ে কলেজে পড়াশোনা করে। কলেজের পড়াশোনার কাজের জন্য আমার মেয়েকে আমি কষ্ট করে ধারদেনা করে একটি টাচ্ মোবাইল কিনে দেই। বাড়ীতে চার্জ দেওয়ার সময় আমার মেয়ের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। আমার মেয়ে মোবাইল ফোনটি হারিয়ে প্রচন্ড কান্নাকাটি করে। আমি আল্লাহর নিকট বিচার দেই। আজ আল্লাহ আমার ডাক শুনেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপারের মত যদি স্যার থাকতো তাহলে আমার মত গরিব দুঃখি মানুষের অনেক উপকার হতো। আল্লাহ স্যারের মঙ্গল করুন। স্যার অনেক দিন বেঁচে থাকুক।” উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোনগুলি প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করে খাগড়াছড়ি জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন যে “হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের আমাদের এই কার্যক্রম ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। আমি ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার প্রতিটি থানা ও ইউনিটকে এই বিষয়ে জোর তাগিদ প্রদান করেছি। খাগড়াছড়ি জেলাবাসীদের প্রতি আমার আহবান থাকবে আপনাদের শখের মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে আপনারা সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করবেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করব আপনাদের শখের মোবাইলটি আপনাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়ার। আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। আমাদের খাগড়াছড়ি সাইবার ইনটেলিজেন্স এন্ড ইনভেস্টিগেশন ইউনিট আপনাদের সার্বক্ষণিক সকল প্রকার সাইবার সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”