১০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফেনীর দাগনভূঞায় ঠিকাদারের উপর হামলার ঘটনায় আটক ১

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নে ঠিকাদারের উপর সরকার দলীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে অভিযান চালিয়ে মাতুভূঞা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা পৌরসভায় নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ফাজিলের ঘাট বাজার সংলগ্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এর নির্মাণ কাজ চলমান। ওই স্থানে কাজ চলা অবস্থায়  রোববার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি এসে চলমান কাজের ছবি তুলছিলেন। এ সময় কাজের দায়িত্বরত আবদুল মতিন কাওসার পরিচয় জানতে চাইলে মাতুভূঞা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খাঁন উভয় পক্ষকে দাগনভূঞা পৌরসভায় আসতে বলেন।
এদিকে শ্রমিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে কাজের স্থানে ছুটে আসেন ঠিকাদার মো. সেলিম ও কাজের ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন। সন্ধ্যায় দাগনভূঞা পৌরসভায় আসার পথে মাতুভূঞা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন (৪৫), তার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হক নিশাত (২৫) এর নেতৃত্বে প্রায় ৩০/৪০ জন যুবক ফাজিলের ঘাট সড়কে ঠিকাদার মো. সেলিম, সহকারী ঠিকাদার আবদুল মতিন কাওসার ও ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন ও মো. তরিকুল ইসলামের প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গাড়ী থেকে নামিয়ে রাস্তার উপর প্রকাশ্যে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করে। তাদের সাথে থাকা নগদ ৬৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার এসআই ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। আহতদের দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.কে কনস্ট্রাকশনের পক্ষ থেকে দাগনভূঞা থানা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু নাছের চৌধুরী আসিফ সবুজ বাংলাকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপর হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান সবুজ বাংলাকে বলেন, তিনি অসুস্থ। হামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম সবুজ বাংলাকে জানান, হামলা ও মারধরের ঘটনায় বেলাল হোসেন নামে একজনকে পুলিশ থানায় নিয়ে এসেছে। বাদীর লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ১২ মে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজের ঠিকাদারি নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল হোসেন নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় হামলার জন্য রবিউল হোসেন রুবেল দাগনভূঞা উপজেলার সরকারদলীয় নেতাদের দায়ী করেন।
স/মিফা

ফেনীর দাগনভূঞায় ঠিকাদারের উপর হামলার ঘটনায় আটক ১

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নে ঠিকাদারের উপর সরকার দলীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে অভিযান চালিয়ে মাতুভূঞা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা পৌরসভায় নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ফাজিলের ঘাট বাজার সংলগ্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এর নির্মাণ কাজ চলমান। ওই স্থানে কাজ চলা অবস্থায়  রোববার দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি এসে চলমান কাজের ছবি তুলছিলেন। এ সময় কাজের দায়িত্বরত আবদুল মতিন কাওসার পরিচয় জানতে চাইলে মাতুভূঞা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খাঁন উভয় পক্ষকে দাগনভূঞা পৌরসভায় আসতে বলেন।
এদিকে শ্রমিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে কাজের স্থানে ছুটে আসেন ঠিকাদার মো. সেলিম ও কাজের ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন। সন্ধ্যায় দাগনভূঞা পৌরসভায় আসার পথে মাতুভূঞা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন (৪৫), তার ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল হক নিশাত (২৫) এর নেতৃত্বে প্রায় ৩০/৪০ জন যুবক ফাজিলের ঘাট সড়কে ঠিকাদার মো. সেলিম, সহকারী ঠিকাদার আবদুল মতিন কাওসার ও ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন ও মো. তরিকুল ইসলামের প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গাড়ী থেকে নামিয়ে রাস্তার উপর প্রকাশ্যে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করে। তাদের সাথে থাকা নগদ ৬৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার এসআই ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। আহতদের দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.কে কনস্ট্রাকশনের পক্ষ থেকে দাগনভূঞা থানা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু নাছের চৌধুরী আসিফ সবুজ বাংলাকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের উপর হামলার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান সবুজ বাংলাকে বলেন, তিনি অসুস্থ। হামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম সবুজ বাংলাকে জানান, হামলা ও মারধরের ঘটনায় বেলাল হোসেন নামে একজনকে পুলিশ থানায় নিয়ে এসেছে। বাদীর লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ১২ মে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজের ঠিকাদারি নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল হোসেন নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় হামলার জন্য রবিউল হোসেন রুবেল দাগনভূঞা উপজেলার সরকারদলীয় নেতাদের দায়ী করেন।
স/মিফা