২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বান্দরবানে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি সড়কে সব ধরনের গণপরিবহণ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকে গণপরিবহণ চালু হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে। টিকেট কাউন্টার গুলোতে স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রীরা টিকেট কেটে নিজ গন্তব্যের দিকে ছুঁটে যাচ্ছেন।
সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ে সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) হুমকির মুখে গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারী বান্দরবানের থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় সব ধরনের গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ভয়ে বাস মালিক পক্ষ থেকে গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ করে দিলে চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়ে তিন উপজেলার স্থানীয় জনসাধারণ এবং আগত পর্যটকেরা।
এদিকে কেএনএফ এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন ফ্লেমিং তাদের ব্যক্তিগত পেইজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অত্রাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, সকল জাতি গোষ্ঠী-ধর্ম-বর্ণের কথা বিবেচনা করে এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন দিক থেকে আশ্বস্তের কথা চিন্তা করে কেএনএফ-এর ইমার্জেন্সি এক্সিকিউটিভ মিটিং এ গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেএনএফ কর্তৃক আহুত চলমান যানবাহন ধর্মঘটটি প্রত্যাহার করা হলো।
তারা বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, আগামী ৭দিনের মধ্যে প্রশাসনিকভাবে কোন হস্তক্ষেপ বা সুরাহা না হলে আবার কেএনএফ কঠোরভাবে যানবাহন ধর্মঘটের ডাক দিতে প্রস্তুত। মূলত শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেয়ার স্বার্থে ধর্মঘট থেকে সরে আশে এই সংগঠনটি।
বান্দরবান বাস মালিক সমিতির অফিস সহকারী মিলন দাশ জানান, বান্দরবান সদর হইতে সকাল থেকে যথারীতি আমাদের বাস টিকেট কাউন্টার গুলোতে সাধারণ যাত্রী এবং পর্যটকরা টিকেট কেটে গন্তব্যে যেতে পারছেন।
এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুল হক জানান, গতকাল প্রশাসনের সাথে রুমায় বম জনগোষ্ঠী নেতৃবৃন্দের আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও যে বিষয়টি নিয়ে জাতিগত একটি সহিংসতা বিরাজমান ছিলো তা দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝতায় আশার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল সম্প্রদায়ের জনসাধারণকে সকল ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আশার আহ্বান জানানো হয়েছে।




















