শোকের মাতন বৈচ্ছে এলাকায় জুড়ে,নিস্পাপ শিশুদের কান্নায় ভারি হয়ে আছে চার পাশ।
।মায়ের হাতে আমেনা,আবিদা,সিমরান এর খাওয়া হলো না আর গরম ভাত।এ অপেক্ষা আর শেষ হবেনা কোনো দিন ফিরবেনা আর মা।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় সীমা আক্তার নামে এক নারী পথচারী নিহত হয়েছে।
নিহতের নাম সীমা আক্তার (৩২) তিনি গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নের টেঙ্গারচর গ্রামের সিরাজ সিকদার এর স্ত্রী এবং সাবেক ইউপি সদস্য আঃ গাফফার মিয়ার ছোট মেয়ে।
শনিবার দুপুর আনুমানিক ১ টা ৩০ এর দিকে অধ্যাপক কে এম শামসুল হুদা সড়কের গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সিনেমা হলের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সীমা আক্তারের ভাশুরের স্ত্রী মুন্নি আক্তার জানান আমার জাঁ-য়ের বাসায় কাজ চলতেছে। ঘরের সাজসজ্জা জন্য ভবেরচর বাস স্টান এলাকার বিসমিল্লাহ টাইলসের দেকান থেকে টাইলস ক্রয় করা হয়েছিল। কিছু টাইল প্রয়োজনের থেকে বেশি ক্রয় করা হয়েছে তাই অব্যবহৃত টাইলসগুলো দোকানে ফেরত দেওয়ার জন্য ভবেরচর বাস এলাকায় গিয়েছিলাম।দোকানের সামনে সড়ক এর পূর্বপাশে আমাদের গাড়িটি রেখে পশ্চিম পাশে যাবো এমন সময় অতিরিক্ত গতিতে ভবেরচর স্টান্ড থেকে ছুটে আশা একটি অটোরিকশা আমার জাঁ কে ধাক্কা দিলে ঘটনা স্থলে নাক, মুখ,কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।আমি ছুটে গিয়ে ধরতে যাই,আমাকে কি যেনো বলতে চেয়েছিল তবে কিছু বলার আগেই অজ্ঞান হয়ে যায়,পরে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় মারা গেছে আমার জাঁ।
নিহত সীমা আক্তার এক ছেলে দুই জমজ কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন।বড় ছেলের নাম ইফরান(১৪) জমজ কন্যাদের নাম আবিদা, আমেনা(৪)বছর বয়স।তার স্বামী সিরাজ সিকদার একজন প্রবাসী।
সীমা রান্না ঘরে সন্তানদের জন্য খাবার রান্না করে ভাতের মাড় নিগ্রানোর জন্য রেখে টাইলস ফেরত দিতে ভবেরচর চলে যান।তিনি এসে নিজ হাতে সন্তানদের ভাত খাওয়াবেন।তিনি ফিরে আসছেন ঠিকি তবে লাশ হয়ে, শিশু সন্তানদের আর ভাত খাওয়াতে পারলেন না নিজ হাতে।মায়ের হাতে গরম ভাত খাওয়া থেকে চিরতরে বঞ্চিত হল অবুঝ জমজ দুই কন্যা সন্তান সহ পুত্র।
স্থানীয়রা জানায়,স্বামী প্রবাসে থাকায় সীমা আক্তার নিজের স্বপ্নের মতো সাজসজ্জা টাইলস করে একটি নতুন ঘর তৈরি করে স্বামী সন্তান নিয়ে থাকবেন সে আশায়।সে নতুন ঘরে গত চার দিন আগে মিলাদও পড়িয়েছিলেন তিনি।নিজের স্বপ্নের মতো ঘর বাড়ি সবই করেছেন তিনি,সে ঘরে থাকা হলো না তার।
নিহতের স্বামী সিরাজ স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কুয়েত প্রবাস থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ বিমান বন্দরে এসে পৌছায়।পরে তার উপস্থিতিতে যোহর নামাজের পরপর তার নিজ বাড়ির পাশে জানাজা শেষে টেংগারচর কেন্দ্রীয় কবর স্থানের কবরস্থ করা হয়।




















