০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুপায়ে শিকল বেঁধে এএসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এক আলম মিয়া

দুপায়ে শিকল বেঁধে চলতি বছরে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট উচচ বালিকা বিদ‍্যালয়ে এসএসসি
পরীক্ষা দিচ্ছে আলম মিয়া (১৬) নামের এক শিক্ষার্থী।সে উপজেলার তিলাই উচ্চ বিদ‍্যালয়ের ২০২৪ সালের
এসএসসি পরিক্ষার্থী তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে। বিষয়টি
নিয়ে চাঞ্চল‍্যরে সৃষ্টি হয়েছে।ওই পরীক্ষার্থীকে এক নজর দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় করছে ওই পরীক্ষা
কেন্দ্রে। প্রতিটি পরীক্ষার দিন তার দু’পায়ে শিকল বেঁধে তালা লাগিয়ে পরীক্ষা হলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
পরীক্ষা শেষে আবার দু’পা বেঁধে তালা লাগিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়। এভাবেই বন্দি জীবন নিয়ে
এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে আলম মিয়া । অথচ কিছু দিনই আগেও আলম ছিলো একজন উচ্ছসিত
টগবগে স্বাভাবিক কিশোর। নিয়মিত স্কুলে যেত অবসরে বাবার আটো রিকশা চালিয়ে বাবাকে
সহযোগিতা করতো এবং নিজের পকেট খরচের টাকাও যোগাতো।এভাবেই চলতো তাদের সংসার জীবন।
এভাবে বন্দী জীবন নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া আলমের দাদা জসীম উদ্দিন জানান, এসএসসি পরীক্ষার
সপ্তাহ খানেক আগে তার পিতা অটোচালক আব্দুল আলিম আটো চালিয়ে দুপুরে খাবারের জন্য বাড়িতে
এলে আলম মিয়া ধামেরহাট বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখানে যাত্রী নামিয়ে
অন্য যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করার সময় অপরিচিত ৪ ব্যক্তি এসে সোনাহাট স্থলবন্দর যাবার জন্য ৪শ’ টাকায় ভাড়া
চুক্তি করে। এসময় ওই ৪ ব্যক্তি কৌশলে অটোচালক আলম মিয়াকে একটি ছমুচা খেতে দেয়। ছমুচা
খাবার একটু পরেই সে অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থা দেখে অন্যান্য আটোচালকরা সাহায্যে
জন্য এগিয়ে এলে চক্রটি কৌশলে কেটে পরে। পরে একজন অটোচালক অটোসহ আলমকে বাড়িতে
পৌঁছে দেয়। ওই অটো চালকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। তারা
ধারণা করছেন, অটো চোর চক্রের সদস্যরা অটোটি চুরি করার উদ্দেশ্যে ছমুচার মধ্যে অজ্ঞান করার কোন
কেমিকেল মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিলো। কিন্তু কেমিকেলের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় এ আবস্থার
সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হারুন উর রশীদ বলেন, ছেলেটি অসুস্থ হবার কারণে তাকে
একটি আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। খাতায় লিখলেও মাঝে মাঝে চিল্লাচিল্লি করে, অশান্ত হয়ে যায়
এবং লিখতে চায় না। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম সায়েম
বলেন, ছেলেটির সাথে কথা বলেছি, আমার মনে হয়ে সে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। দীর্ঘমেয়াদি
চিকিৎসায় সে ভালো হতে পারে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

দুপায়ে শিকল বেঁধে এএসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এক আলম মিয়া

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪

দুপায়ে শিকল বেঁধে চলতি বছরে ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট উচচ বালিকা বিদ‍্যালয়ে এসএসসি
পরীক্ষা দিচ্ছে আলম মিয়া (১৬) নামের এক শিক্ষার্থী।সে উপজেলার তিলাই উচ্চ বিদ‍্যালয়ের ২০২৪ সালের
এসএসসি পরিক্ষার্থী তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে। বিষয়টি
নিয়ে চাঞ্চল‍্যরে সৃষ্টি হয়েছে।ওই পরীক্ষার্থীকে এক নজর দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় করছে ওই পরীক্ষা
কেন্দ্রে। প্রতিটি পরীক্ষার দিন তার দু’পায়ে শিকল বেঁধে তালা লাগিয়ে পরীক্ষা হলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
পরীক্ষা শেষে আবার দু’পা বেঁধে তালা লাগিয়ে বাড়িতে নেয়া হয়। এভাবেই বন্দি জীবন নিয়ে
এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে আলম মিয়া । অথচ কিছু দিনই আগেও আলম ছিলো একজন উচ্ছসিত
টগবগে স্বাভাবিক কিশোর। নিয়মিত স্কুলে যেত অবসরে বাবার আটো রিকশা চালিয়ে বাবাকে
সহযোগিতা করতো এবং নিজের পকেট খরচের টাকাও যোগাতো।এভাবেই চলতো তাদের সংসার জীবন।
এভাবে বন্দী জীবন নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া আলমের দাদা জসীম উদ্দিন জানান, এসএসসি পরীক্ষার
সপ্তাহ খানেক আগে তার পিতা অটোচালক আব্দুল আলিম আটো চালিয়ে দুপুরে খাবারের জন্য বাড়িতে
এলে আলম মিয়া ধামেরহাট বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখানে যাত্রী নামিয়ে
অন্য যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করার সময় অপরিচিত ৪ ব্যক্তি এসে সোনাহাট স্থলবন্দর যাবার জন্য ৪শ’ টাকায় ভাড়া
চুক্তি করে। এসময় ওই ৪ ব্যক্তি কৌশলে অটোচালক আলম মিয়াকে একটি ছমুচা খেতে দেয়। ছমুচা
খাবার একটু পরেই সে অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। এ অবস্থা দেখে অন্যান্য আটোচালকরা সাহায্যে
জন্য এগিয়ে এলে চক্রটি কৌশলে কেটে পরে। পরে একজন অটোচালক অটোসহ আলমকে বাড়িতে
পৌঁছে দেয়। ওই অটো চালকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। তারা
ধারণা করছেন, অটো চোর চক্রের সদস্যরা অটোটি চুরি করার উদ্দেশ্যে ছমুচার মধ্যে অজ্ঞান করার কোন
কেমিকেল মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিলো। কিন্তু কেমিকেলের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় এ আবস্থার
সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হারুন উর রশীদ বলেন, ছেলেটি অসুস্থ হবার কারণে তাকে
একটি আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। খাতায় লিখলেও মাঝে মাঝে চিল্লাচিল্লি করে, অশান্ত হয়ে যায়
এবং লিখতে চায় না। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম সায়েম
বলেন, ছেলেটির সাথে কথা বলেছি, আমার মনে হয়ে সে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। দীর্ঘমেয়াদি
চিকিৎসায় সে ভালো হতে পারে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।