০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপজেলা নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জে আ.লীগ

●ঈদের পর তৃণমূলে সম্মেলন

●বিশৃঙ্খলা এড়াতে সমন্বয় করবে কেন্দ্র

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ফলে উন্মুক্ত নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন দলের তৃণমূলের নেতারা। সুযোগ থাকছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার। মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও দলের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের জেরে উপজেলা নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন দলটির। তবে উপজেলা নির্বাচনকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক করতে নৌকার প্রার্থীদের বাইরেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের সুযোগ দেওযা হয়। তবে নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির কারণে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। শুধু উপজেলা নির্বাচন নয় সকল স্থানীয় সংসদ নির্বাচনেই দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের। তবে উপজেলা নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটলে নতুন করে ভাবা হবে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে। ফলে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িঁয়েছে দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে।
যদিও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৃষ্ট বিভেদ ও কোন্দলের সমাধান করতে কাজ শুরু করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ লক্ষ্যে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রোজার ঈদের পর শুরু হবে তৃণমূলে সম্মেলন। জেলা, মহানগর ও উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো করা হবে পুনর্গঠন, পূর্ণাঙ্গ করা হবে নির্বাচনের বছর হওয়া কমিটিগুলো। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচনে নৌকা ও দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট হওয়া কোন্দল এখন প্রকাশ্যে না থাকলেও স্পষ্টভাবে একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূল। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কাজ করছে দলটির কেন্দ্রের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারা। ঈদের পর তৃণমূলে সম্মেলনের নির্দেশনা থাকায়, রমজানের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে ঢাকায় ডাকা হবে।
যদিও নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূলের নেতাদের অনেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেক্ষেত্রে যেসব জায়গাতে বিএনপি নেতারা নির্বাচনে অংশ নেবেন সেসব জায়াগায় একক প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করবেন। যদি বিএনপির কেউ না থাকে সেসব উপজেলায় থাকবে দলের একাধিক প্রার্থী। বিশৃখলা এড়াতে জেলার নেতারা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় নেতারা তা করে দিবে। আর যেখানে গ্রুপিং আছে, নেতারা একজোট হবে না; সেখানে দুই পক্ষ থেকেই স্থানীয় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সমাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কোনো জায়গায় একাধিক প্রার্থী দাঁড়ালে অসুবিধা নেই। বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজনকে তো প্রার্থী করতেই পারে। যদি জেলা ও উপজেলা থেকে যদি বিভাগীয় টিমের সঙ্গে সমন্বয় করতে চায় তাহলে আমরা তো কথা বলব। আওয়ামী লীগের মত দল কোন শৃঙ্খলার বাইরে যেতে পারবে না বলেই তিনি মনে করেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

উপজেলা নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জে আ.লীগ

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০২৪

●ঈদের পর তৃণমূলে সম্মেলন

●বিশৃঙ্খলা এড়াতে সমন্বয় করবে কেন্দ্র

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ফলে উন্মুক্ত নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন দলের তৃণমূলের নেতারা। সুযোগ থাকছে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার। মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও দলের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের জেরে উপজেলা নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন দলটির। তবে উপজেলা নির্বাচনকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক করতে নৌকার প্রার্থীদের বাইরেও দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের সুযোগ দেওযা হয়। তবে নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির কারণে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। শুধু উপজেলা নির্বাচন নয় সকল স্থানীয় সংসদ নির্বাচনেই দলীয় প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের। তবে উপজেলা নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটলে নতুন করে ভাবা হবে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে। ফলে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িঁয়েছে দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে।
যদিও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৃষ্ট বিভেদ ও কোন্দলের সমাধান করতে কাজ শুরু করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ লক্ষ্যে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রোজার ঈদের পর শুরু হবে তৃণমূলে সম্মেলন। জেলা, মহানগর ও উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো করা হবে পুনর্গঠন, পূর্ণাঙ্গ করা হবে নির্বাচনের বছর হওয়া কমিটিগুলো। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় নির্বাচনে নৌকা ও দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট হওয়া কোন্দল এখন প্রকাশ্যে না থাকলেও স্পষ্টভাবে একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূল। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কাজ করছে দলটির কেন্দ্রের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা নেতারা। ঈদের পর তৃণমূলে সম্মেলনের নির্দেশনা থাকায়, রমজানের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে ঢাকায় ডাকা হবে।
যদিও নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূলের নেতাদের অনেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেক্ষেত্রে যেসব জায়গাতে বিএনপি নেতারা নির্বাচনে অংশ নেবেন সেসব জায়াগায় একক প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বয় করবেন। যদি বিএনপির কেউ না থাকে সেসব উপজেলায় থাকবে দলের একাধিক প্রার্থী। বিশৃখলা এড়াতে জেলার নেতারা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় নেতারা তা করে দিবে। আর যেখানে গ্রুপিং আছে, নেতারা একজোট হবে না; সেখানে দুই পক্ষ থেকেই স্থানীয় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সমাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কোনো জায়গায় একাধিক প্রার্থী দাঁড়ালে অসুবিধা নেই। বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজনকে তো প্রার্থী করতেই পারে। যদি জেলা ও উপজেলা থেকে যদি বিভাগীয় টিমের সঙ্গে সমন্বয় করতে চায় তাহলে আমরা তো কথা বলব। আওয়ামী লীগের মত দল কোন শৃঙ্খলার বাইরে যেতে পারবে না বলেই তিনি মনে করেন।