০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশে জনসংখ্যা বেড়ে ১৭ কোটি ১৫ লাখ

# বিবিএসের ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’ রিপোর্ট

 

🔴আগের বছরের তুলনায় ১৭ লাখ ৬১ হাজার বেশি
🔴পুরুষের চেয়ে নারী বেশি ৩২ লাখ
🔴কমেছে গড় আয়ু বেড়েছে মৃত্যু
🔴৩৯ শতাংশ তরুণ অলস সময় কাটাচ্ছেন
🔴সাক্ষরতার হার ১.১ শতাংশ বেড়েছে
🔴অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে প্রসবের হার বেড়েছে ৯ শতাংশ

 

 

 

বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার। জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ ভিত্তিতে ১ জানুয়ারি প্রাক্কলিত এ জনসংখ্যা রয়েছে। এর আগের হিসাবে জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার। এ হিসাব অনুযায়ী, ১৭ লাখ ৬১ হাজার জনসংখ্যা বেড়েছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অডিটোরিয়ামে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

 

সূত্রমতে, মোট জনসংখ্যায় নারী ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার এবং পুরুষ ৮ কোটি ৪২ লাখ। অর্থাৎ দেশে পুরুষের চেয়ে নারী সংখ্যায় প্রায় ৩২ লাখ বেশি রয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার। উপস্থিত ছিলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’ শীর্ষক এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। আগামী জুনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রত্যাশিত গড় আয়ু কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর ৩ মাস, যা আগের বছর ছিল ৭২ বছর ৪ মাস। স্থূল মৃত্যু হার বেড়েছে দেশে। প্রতি হাজার জনে এ হার এখন ৬ দশমিক ১ জন, যা আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৮ জন।

 

জনসংখ্যা স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০২২ সালে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা ১ হাজার ১৭১ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুহার হাজারে ৩৩ জন। প্রতি লাখ জন্ম নেওয়া শিশুর বিপরীতে মাতৃমৃত্যুর হার ১৩৬ জন। ২০২২ সালে ১৫৩ জন ছিল।

শিক্ষা, কর্মে কিংবা প্রশিক্ষণে নেই এমন তরুণের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে। ২০২২ সালে ছিল ৪০.৬৭ শতাংশ।

 

বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার বিন্যাস: ০-৪ বছর বয়সি ১০.২২ শতাংশ, ৫-১৪ বছর বয়সি ১৮.৫৬ শতাংশ, ১৫-২৪ বছর বয়সি ১৮.৬৭ শতাংশ, ২৫-৩৯ বছর বয়সি ২২.২৮ শতাংশ, ৪০-৪৯ বছর বয়সি ১১.৮৭ শতাংশ, ৫০-৫৯ বছর বয়সি ৮.৯৩ শতাংশ, ৬০-৬৪ বছর বয়সি ৩.৩৩ শতাংশ এবং ৬৫+ বছর বয়সি ৬.১৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর শীর্ষ ১০ কারণের প্রথম কারণ-হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর হার ১.০২৭ শতাংশ এবং ২য় কারণ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যুর হার ০.৬৪ শতাংশ। পুরুষদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স ২৪.২ বছর এবং নারীদের ১৮.৪ বছর প্রতি হাজার জনসংখ্যায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পল্লিতে আগমনের হার ২০.৪ এবং শহরে আগমনের হার ৪৩.৪।

 

২০২৩ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২২ সালের (৬৩.৩ শতাংশ) তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২০২৩ সালে হয়েছে ৬২.১ শতাংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণের অপূর্ণ চাহিদা ২০২২ সালের (১৬,৬২ শতাংশ) তুলনায় হ্রাস পেয়ে ২০২৩ সালে ১৫.৫৭ শতাংশ হয়েছে। খানার আকার ২০২২ সালের ন্যায় ২০২৩ সালেও অপরিবর্তিত রয়েছে যা ৪.২ জন্য তবে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে নারী খানাপ্রধানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এটি ছিল ১৭.৪ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮.৯ শতাংশ।

 

অপরদিকে, পুরুষ খানাপ্রধান ২০২২ সালে ছিল ৮২.৬ শতাংশ, ২০২৩-এ হার হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৮১.১৭ শতাংশ। ২০২৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭.৫৩ শতাংশে। সাত বছর ও তদূর্ধর বয়সি জনসংখ্যার সাক্ষরতার হার ২০২৩ সালে হয়েছে ৭৭.৯ শতাংশ এবং ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সিদের ক্ষেত্রে এ হার ২০২২ সালের (৭৪.৪) তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৫.৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে ১৫+ বছর বয়সিদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হার ৫০.১ শতাংশ।

 

আন্তর্জাতিক অভিগমন প্রতি হাজারে ৬.৬১ জন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮.৭৮ জন। আন্তর্জাতিক আগমন/বহিরাগমন প্রতি হাজারে ২৯৭ থেকে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২.৩৭ জন।

 

এদিকে শহরের বস্তিতে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ মানুষ বরিশালের। এর আগে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বরিশালে নিরাপদ টয়লেট সবচেয়ে কম বলে প্রকাশ করা হয়। সে সময় প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে ৫৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ পরিবারে নিরাপদ টয়লেট বা শৌচাগার সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ৩৭ দশমিক ৯২ শতাংশ রয়েছে বরিশাল বিভাগে। আর সবচেয়ে বেশি নিরাপদ শৌচাগার সুবিধা ঢাকাতে। বিভাগটিতে এ হার ৬৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে জনসংখ্যা বেড়ে ১৭ কোটি ১৫ লাখ

আপডেট সময় : ০৪:২১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

 

🔴আগের বছরের তুলনায় ১৭ লাখ ৬১ হাজার বেশি
🔴পুরুষের চেয়ে নারী বেশি ৩২ লাখ
🔴কমেছে গড় আয়ু বেড়েছে মৃত্যু
🔴৩৯ শতাংশ তরুণ অলস সময় কাটাচ্ছেন
🔴সাক্ষরতার হার ১.১ শতাংশ বেড়েছে
🔴অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে প্রসবের হার বেড়েছে ৯ শতাংশ

 

 

 

বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার। জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ ভিত্তিতে ১ জানুয়ারি প্রাক্কলিত এ জনসংখ্যা রয়েছে। এর আগের হিসাবে জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার। এ হিসাব অনুযায়ী, ১৭ লাখ ৬১ হাজার জনসংখ্যা বেড়েছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অডিটোরিয়ামে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

 

সূত্রমতে, মোট জনসংখ্যায় নারী ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার এবং পুরুষ ৮ কোটি ৪২ লাখ। অর্থাৎ দেশে পুরুষের চেয়ে নারী সংখ্যায় প্রায় ৩২ লাখ বেশি রয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার। উপস্থিত ছিলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’ শীর্ষক এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। আগামী জুনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রত্যাশিত গড় আয়ু কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর ৩ মাস, যা আগের বছর ছিল ৭২ বছর ৪ মাস। স্থূল মৃত্যু হার বেড়েছে দেশে। প্রতি হাজার জনে এ হার এখন ৬ দশমিক ১ জন, যা আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৮ জন।

 

জনসংখ্যা স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০২২ সালে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা ১ হাজার ১৭১ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুহার হাজারে ৩৩ জন। প্রতি লাখ জন্ম নেওয়া শিশুর বিপরীতে মাতৃমৃত্যুর হার ১৩৬ জন। ২০২২ সালে ১৫৩ জন ছিল।

শিক্ষা, কর্মে কিংবা প্রশিক্ষণে নেই এমন তরুণের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে। ২০২২ সালে ছিল ৪০.৬৭ শতাংশ।

 

বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার বিন্যাস: ০-৪ বছর বয়সি ১০.২২ শতাংশ, ৫-১৪ বছর বয়সি ১৮.৫৬ শতাংশ, ১৫-২৪ বছর বয়সি ১৮.৬৭ শতাংশ, ২৫-৩৯ বছর বয়সি ২২.২৮ শতাংশ, ৪০-৪৯ বছর বয়সি ১১.৮৭ শতাংশ, ৫০-৫৯ বছর বয়সি ৮.৯৩ শতাংশ, ৬০-৬৪ বছর বয়সি ৩.৩৩ শতাংশ এবং ৬৫+ বছর বয়সি ৬.১৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর শীর্ষ ১০ কারণের প্রথম কারণ-হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর হার ১.০২৭ শতাংশ এবং ২য় কারণ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যুর হার ০.৬৪ শতাংশ। পুরুষদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স ২৪.২ বছর এবং নারীদের ১৮.৪ বছর প্রতি হাজার জনসংখ্যায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পল্লিতে আগমনের হার ২০.৪ এবং শহরে আগমনের হার ৪৩.৪।

 

২০২৩ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২২ সালের (৬৩.৩ শতাংশ) তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২০২৩ সালে হয়েছে ৬২.১ শতাংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণের অপূর্ণ চাহিদা ২০২২ সালের (১৬,৬২ শতাংশ) তুলনায় হ্রাস পেয়ে ২০২৩ সালে ১৫.৫৭ শতাংশ হয়েছে। খানার আকার ২০২২ সালের ন্যায় ২০২৩ সালেও অপরিবর্তিত রয়েছে যা ৪.২ জন্য তবে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে নারী খানাপ্রধানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এটি ছিল ১৭.৪ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮.৯ শতাংশ।

 

অপরদিকে, পুরুষ খানাপ্রধান ২০২২ সালে ছিল ৮২.৬ শতাংশ, ২০২৩-এ হার হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৮১.১৭ শতাংশ। ২০২৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭.৫৩ শতাংশে। সাত বছর ও তদূর্ধর বয়সি জনসংখ্যার সাক্ষরতার হার ২০২৩ সালে হয়েছে ৭৭.৯ শতাংশ এবং ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সিদের ক্ষেত্রে এ হার ২০২২ সালের (৭৪.৪) তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৫.৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে ১৫+ বছর বয়সিদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হার ৫০.১ শতাংশ।

 

আন্তর্জাতিক অভিগমন প্রতি হাজারে ৬.৬১ জন থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮.৭৮ জন। আন্তর্জাতিক আগমন/বহিরাগমন প্রতি হাজারে ২৯৭ থেকে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২.৩৭ জন।

 

এদিকে শহরের বস্তিতে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ মানুষ বরিশালের। এর আগে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বরিশালে নিরাপদ টয়লেট সবচেয়ে কম বলে প্রকাশ করা হয়। সে সময় প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে ৫৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ পরিবারে নিরাপদ টয়লেট বা শৌচাগার সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ৩৭ দশমিক ৯২ শতাংশ রয়েছে বরিশাল বিভাগে। আর সবচেয়ে বেশি নিরাপদ শৌচাগার সুবিধা ঢাকাতে। বিভাগটিতে এ হার ৬৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।