০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানুষকে সুখী রাখতে সৃজনশীলতার বিকাশ চাই

স্বাধীনতার ৫৩ বছর

► সবুজ বাংলাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তাজুল ইসলাম

 

 

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৩তম বর্ষে পদার্পণ করছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে (২০২৪) বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। অন্যদিকে, বর্তমান বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে শাসকগোষ্ঠী। এই অবস্থায় স্বাধীনতার এই লগ্নে এসে দেশের মানুষকে সুখী রাখতে সৃজনশীলতার বিকাশ চান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম।

 

গতকাল সবুজ বাংলার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আমাদের দেশে যখন যে সরকার থাকবে তখন সে তার মতো করে বয়ান দিবে। আমাদের দেখতে হবে জনমানুষের সত্যিকার অর্থে সামাজিক উন্নয়নে কতটুকু কাজ হচ্ছে? প্রতিটি পরিবারে আমরা আর্থিকভাবে কতটুকু স্বাবলম্বী হচ্ছি, স্বনির্ভর হচ্ছি, সামাজিকভাবে কতটুকু নিরাপত্তা পাচ্ছি? রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণকে কতটুকু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তার হিসাব নেয়া দরকার। সুখী মানুষের ক্ষেত্রে যেসব ক্রাইটেরিয়াগুলো গ্রহণ করা হয়, ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে তার আগের মান কেমন? আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, নৈতিক এবং অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা কতটুকু প্রসারিত হয়েছে? সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটুকু মানবসেবী ও গ্রহণযোগ্য থাকে? মানুষ মতপ্রকাশে, যাতায়াতে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই করে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্ধারিত হবে।

 

ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, মুখে মুখে স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরির কথা বলে কি হবে যদি চিন্তা চেতনা, আচরণে, শিক্ষায় আমরা পশ্চাদপদ থাকি। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আজকে বারংবার নতুন নতুন কর্মসূচি কার্যক্রম নেওয়ার কথা বলে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার গুণগতমান এবং এর বিস্তার সীমিত করে ফেলা হয়েছে। দেশের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক সবগুলো প্রতিষ্ঠান প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা অথবা বিধ্বস্ত। উচ্চ কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, প্রশ্ন করার মানসিকতা দমিত হয়ে যাচ্ছে। মুক্ত সমাজ, স্বাধীন সমাজ গড়তে যে ধরনের শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ থাকা দরকার তা ব্যাহত বা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ রকম প্রতিকূল এবং বিরূপ পরিবেশে দ্রব্যমূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া, সিন্ডিকেট দমন করতে না পারা, লক্ষকোটি টাকা বিদেশে পাচার হওয়াসহ রাজনৈতিক ব্যবস্থার অচলাবস্থা সৃষ্টি করে পুরো সমাজ জীবনে মন্দাভাব তৈরি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মানুষকে স্মার্ট হতে বলা বাতুলতামাত্র। স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষের সুখের মান কমে গেছে।

 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই মাসে দেশের মানুষকে সুখী রাখার কথা নতুন করে ভাবতে হবে। আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল সাম্যের কথা, সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা এবং সুবিচারের কথা। সেগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। সকল ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকক্ষেত্রে অস্থিরতার অবসান ঘটাতে হবে। মুক্ত মত, মুক্ত পথ, মুক্তি চিন্তার অবাধ সুযোগ রাখতে হবে। প্রত্যেককে তার সুপ্ত প্রতিভার, সৃজনশীলতার বিকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। মহান স্বাধীনতা দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষকে সুখী রাখতে সৃজনশীলতার বিকাশ চাই

আপডেট সময় : ০৭:০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

► সবুজ বাংলাকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তাজুল ইসলাম

 

 

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৩তম বর্ষে পদার্পণ করছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে (২০২৪) বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। অন্যদিকে, বর্তমান বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে শাসকগোষ্ঠী। এই অবস্থায় স্বাধীনতার এই লগ্নে এসে দেশের মানুষকে সুখী রাখতে সৃজনশীলতার বিকাশ চান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম।

 

গতকাল সবুজ বাংলার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আমাদের দেশে যখন যে সরকার থাকবে তখন সে তার মতো করে বয়ান দিবে। আমাদের দেখতে হবে জনমানুষের সত্যিকার অর্থে সামাজিক উন্নয়নে কতটুকু কাজ হচ্ছে? প্রতিটি পরিবারে আমরা আর্থিকভাবে কতটুকু স্বাবলম্বী হচ্ছি, স্বনির্ভর হচ্ছি, সামাজিকভাবে কতটুকু নিরাপত্তা পাচ্ছি? রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণকে কতটুকু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তার হিসাব নেয়া দরকার। সুখী মানুষের ক্ষেত্রে যেসব ক্রাইটেরিয়াগুলো গ্রহণ করা হয়, ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে তার আগের মান কেমন? আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, নৈতিক এবং অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা কতটুকু প্রসারিত হয়েছে? সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কতটুকু মানবসেবী ও গ্রহণযোগ্য থাকে? মানুষ মতপ্রকাশে, যাতায়াতে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই করে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্ধারিত হবে।

 

ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, মুখে মুখে স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরির কথা বলে কি হবে যদি চিন্তা চেতনা, আচরণে, শিক্ষায় আমরা পশ্চাদপদ থাকি। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আজকে বারংবার নতুন নতুন কর্মসূচি কার্যক্রম নেওয়ার কথা বলে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার গুণগতমান এবং এর বিস্তার সীমিত করে ফেলা হয়েছে। দেশের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক সবগুলো প্রতিষ্ঠান প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা অথবা বিধ্বস্ত। উচ্চ কণ্ঠস্বর, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, প্রশ্ন করার মানসিকতা দমিত হয়ে যাচ্ছে। মুক্ত সমাজ, স্বাধীন সমাজ গড়তে যে ধরনের শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ থাকা দরকার তা ব্যাহত বা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ রকম প্রতিকূল এবং বিরূপ পরিবেশে দ্রব্যমূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া, সিন্ডিকেট দমন করতে না পারা, লক্ষকোটি টাকা বিদেশে পাচার হওয়াসহ রাজনৈতিক ব্যবস্থার অচলাবস্থা সৃষ্টি করে পুরো সমাজ জীবনে মন্দাভাব তৈরি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মানুষকে স্মার্ট হতে বলা বাতুলতামাত্র। স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষের সুখের মান কমে গেছে।

 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই মাসে দেশের মানুষকে সুখী রাখার কথা নতুন করে ভাবতে হবে। আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল সাম্যের কথা, সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা এবং সুবিচারের কথা। সেগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। সকল ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকক্ষেত্রে অস্থিরতার অবসান ঘটাতে হবে। মুক্ত মত, মুক্ত পথ, মুক্তি চিন্তার অবাধ সুযোগ রাখতে হবে। প্রত্যেককে তার সুপ্ত প্রতিভার, সৃজনশীলতার বিকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। মহান স্বাধীনতা দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।