০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ববিতে হল চালু, ক্যান্টিন বন্ধ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রদের আবাসিক হল (শেরে বাংলা ও বঙ্গবন্ধু) ঈদের ছুটিতে বন্ধ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হল ক্যান্টিন। এতে রমজানে খাবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিভিন্ন বিভাগের সেমিষ্টার ফাইনাল, ল্যাব পরীক্ষা সহ মিডটার্ম পরীক্ষা চলমান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছে৷ ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় বাইরের দোকানগুলোতে চড়া মূল্যে খাবার খেতে হচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ৫ ই এপ্রিল বন্ধ হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো কিন্তু এর আগেই ৩১ মার্চ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি ছাত্র হলের ক্যান্টিন বন্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু হল ক্যান্টিন পরিচালক ১৫ দিন আগেই প্রভোস্টকে ক্যান্টিন ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। সেই অনুয়ায়ী ৩১ শে মার্চ তারা হল ক্যন্টিন ত্যাগ করেন। কিন্তু হল কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিন চালু রাখতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এতে হল ক্যান্টিনটি বন্ধ রয়েছে বর্তমান।
অপরদিকে শেরে বাংলা হল ক্যান্টিনের খাবারের মান নিম্নমানের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনের খাবার খান না। তাই শেরে বাংলা হলের ক্যান্টিনও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ক্যান্টিন পরিচালক।
ছাত্র হল ক্যান্টিন দুটির এই অবস্থায় রমজানে সেহেরি ও রাতের খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের সামনের বাইরের দোকানগুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোন দোকান না থাকায় ভোলা রেডের দোকানগুলোতে চড়ামূল্যে খাবারই একমাত্র ভরসা আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, শেরে বাংলা হল ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে রমজান রোজা রাখা কষ্টকর। শিক্ষার্থীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই হল ক্যান্টিনের খাবার বর্জন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু হলের দশ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাস ছুটি হলেও অনেকের পরীক্ষা থাকায় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তারা হলে অবস্থান করছেন। কিন্তু পরীক্ষার এই সময়ে হলক্যান্টিনগুলো বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বাহিরে গিয়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি খেয়ে রোজা রাখা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। অন্যদিকে শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খাবারের মান ভালো না হওয়ায় তারা হল ক্যান্টিনে খাবার খান না।
বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিন পরিচালক সাকিব বলেন, আমরা প্রভোস্ট স্যারকে ১৫ দিন আগে বলেই ক্যান্টিন ছেড়ে দিয়েছি। সেই অনুযায়ী আমরা এখন ক্যান্টিন পরিচালনায় নেই।
শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী বলেন, শেরে বাংলা হল ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়নি, শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে খেতে আসেন না। আমাদের ক্যান্টিন পরিচালকেরা সেহেরির খাবারের টোকেন বিক্রির জন্য রাত ১১ টা পর্যন্ত ক্যান্টিনে থাকলেও কোন টোকেন বিক্রি হয়নি। ক্যান্টিন ৩১ তারিখ থেকে আপাতত অফ কিন্তু শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে খেতে চাইলে চালু থাকবে ক্যান্টিন৷
এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী কম হওয়ায় ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়েছে। অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী দিয়ে চলতে গেলে লোকসান হয় ক্যান্টিন পরিচালকদের। আমাদেরতো ওদের কথাও ভাবতে হবে। ঈদের ছুটির পরে ক্যান্টি চালু হবে বলে জানান তিনি। তবে ক্যান্টিন পরিচালকদের হল ক্যান্টিন ছাড়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
জনপ্রিয় সংবাদ

ববিতে হল চালু, ক্যান্টিন বন্ধ: বিপাকে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রদের আবাসিক হল (শেরে বাংলা ও বঙ্গবন্ধু) ঈদের ছুটিতে বন্ধ হওয়ার আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হল ক্যান্টিন। এতে রমজানে খাবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিভিন্ন বিভাগের সেমিষ্টার ফাইনাল, ল্যাব পরীক্ষা সহ মিডটার্ম পরীক্ষা চলমান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছে৷ ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় বাইরের দোকানগুলোতে চড়া মূল্যে খাবার খেতে হচ্ছে আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ৫ ই এপ্রিল বন্ধ হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো কিন্তু এর আগেই ৩১ মার্চ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি ছাত্র হলের ক্যান্টিন বন্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু হল ক্যান্টিন পরিচালক ১৫ দিন আগেই প্রভোস্টকে ক্যান্টিন ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। সেই অনুয়ায়ী ৩১ শে মার্চ তারা হল ক্যন্টিন ত্যাগ করেন। কিন্তু হল কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিন চালু রাখতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এতে হল ক্যান্টিনটি বন্ধ রয়েছে বর্তমান।
অপরদিকে শেরে বাংলা হল ক্যান্টিনের খাবারের মান নিম্নমানের হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনের খাবার খান না। তাই শেরে বাংলা হলের ক্যান্টিনও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ক্যান্টিন পরিচালক।
ছাত্র হল ক্যান্টিন দুটির এই অবস্থায় রমজানে সেহেরি ও রাতের খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের সামনের বাইরের দোকানগুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোন দোকান না থাকায় ভোলা রেডের দোকানগুলোতে চড়ামূল্যে খাবারই একমাত্র ভরসা আবাসিক শিক্ষার্থীদের।
শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, শেরে বাংলা হল ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে রমজান রোজা রাখা কষ্টকর। শিক্ষার্থীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই হল ক্যান্টিনের খাবার বর্জন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু হলের দশ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাস ছুটি হলেও অনেকের পরীক্ষা থাকায় ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তারা হলে অবস্থান করছেন। কিন্তু পরীক্ষার এই সময়ে হলক্যান্টিনগুলো বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বাহিরে গিয়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি খেয়ে রোজা রাখা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। অন্যদিকে শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খাবারের মান ভালো না হওয়ায় তারা হল ক্যান্টিনে খাবার খান না।
বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিন পরিচালক সাকিব বলেন, আমরা প্রভোস্ট স্যারকে ১৫ দিন আগে বলেই ক্যান্টিন ছেড়ে দিয়েছি। সেই অনুযায়ী আমরা এখন ক্যান্টিন পরিচালনায় নেই।
শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী বলেন, শেরে বাংলা হল ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়নি, শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে খেতে আসেন না। আমাদের ক্যান্টিন পরিচালকেরা সেহেরির খাবারের টোকেন বিক্রির জন্য রাত ১১ টা পর্যন্ত ক্যান্টিনে থাকলেও কোন টোকেন বিক্রি হয়নি। ক্যান্টিন ৩১ তারিখ থেকে আপাতত অফ কিন্তু শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে খেতে চাইলে চালু থাকবে ক্যান্টিন৷
এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী কম হওয়ায় ক্যান্টিন বন্ধ রাখা হয়েছে। অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী দিয়ে চলতে গেলে লোকসান হয় ক্যান্টিন পরিচালকদের। আমাদেরতো ওদের কথাও ভাবতে হবে। ঈদের ছুটির পরে ক্যান্টি চালু হবে বলে জানান তিনি। তবে ক্যান্টিন পরিচালকদের হল ক্যান্টিন ছাড়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।