০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হুন্ডির দাপটে কমছে প্রবাসী আয়

►একমাসে রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ কোটি ডলার

►প্রত্যন্ত এলাকার হুন্ডির নেটওয়ার্ক বিস্তৃত 

►কোনো রেমিট্যান্স আসেনি সাত ব্যাংকে 

► হুন্ডি ও ব্যাংক লেনদেনে পার্থক্য ৬-৭ টাকা

প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। তবে এবারের চিত্র উল্টো। কমে গেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ। গত মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ (১৯.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। তার আগের মাসে (ফেব্রুয়ারি) ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এসেছে প্রবাসী আয় থেকে। সে হিসেবে এবার রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার; যা গত মাসের তুলনায় কমেছে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্বেগজনক হারে অবৈধ চ্যানেলে আসছে প্রবাসী আয়। এতে কমে যাচ্ছে ব্যাংকিং লেনদেন।
তারা বলছেন, ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের মধ্যে ৬-৭ টাকার মতো পার্থক্য রয়েছে। যার ফলে প্রবাসীরা নানা রকমের অবৈধ চ্যানেল ব্যবহার করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত অর্থবছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া গত বছরে ঈদুল ফিতরে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় প্রবাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর মার্চ মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে ২০১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই আয় আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হুন্ডিচক্র। প্রবাসীরা হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকে ডলারের দর কম থাকায় হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার এদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার এসেছে। এরমধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ২ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার বা ৩৮৭ কোটি টাকার বেশি এসেছে। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার বা ১৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। ৮১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার এসেছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এদিকে আলোচিত সময়ে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা সাতটি। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, বিদেশিখাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য মতে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস) সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় রেমিট্যান্স হুন্ডি নাকি অন্য কোনো কারণে কমছে, তা বোঝার চেষ্টা করেছে। সিএমএস বিভিন্ন দেশি-বিদেশি হুন্ডি ব্যবসায়ী, অভিবাসী শ্রমিক, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে, হুন্ডির মাধ্যমে বেশি অর্থ পাঠানোর কারণে রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি কাজ নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেছেন। তবে দেশের সিংহভাগ রেমিট্যান্স (প্রবাসী) আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মহামারির মতো সংকটকালে দেশে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৪ সালের সুনামির পর ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বেশি ছিল। এ ছাড়া কোভিড ও কোভিড-পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল। কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রবাসী আয় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বেশ সাহায্য করেছিল।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদেরকে বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা জরুরি। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের মধ্যে ৬-৭ টাকার মতো পার্থক্য রয়েছে। এই ব্যবধান ২-৩ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এত বেশি ব্যবধান থাকায় অবৈধ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়বে কি না, সেটাই এখন উদ্বেগের বিষয়।
এর আগে ২০২২ সালের জুনে প্রথমবারের মতো দেশ ব্যাংক ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে বাজারমূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আরেকটি কারণ হলো ‘ভিসা বাণিজ্য’। ‘আন্ডার-ইনভয়েসিং’ শনাক্ত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরামর্শও দেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অনেক আমদানিকারক অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে।
জনপ্রিয় সংবাদ

হুন্ডির দাপটে কমছে প্রবাসী আয়

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪

►একমাসে রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ কোটি ডলার

►প্রত্যন্ত এলাকার হুন্ডির নেটওয়ার্ক বিস্তৃত 

►কোনো রেমিট্যান্স আসেনি সাত ব্যাংকে 

► হুন্ডি ও ব্যাংক লেনদেনে পার্থক্য ৬-৭ টাকা

প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। তবে এবারের চিত্র উল্টো। কমে গেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ। গত মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ (১৯.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। তার আগের মাসে (ফেব্রুয়ারি) ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এসেছে প্রবাসী আয় থেকে। সে হিসেবে এবার রেমিট্যান্স কমেছে ১৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার; যা গত মাসের তুলনায় কমেছে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্বেগজনক হারে অবৈধ চ্যানেলে আসছে প্রবাসী আয়। এতে কমে যাচ্ছে ব্যাংকিং লেনদেন।
তারা বলছেন, ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের মধ্যে ৬-৭ টাকার মতো পার্থক্য রয়েছে। যার ফলে প্রবাসীরা নানা রকমের অবৈধ চ্যানেল ব্যবহার করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত অর্থবছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া গত বছরে ঈদুল ফিতরে রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় প্রবাহ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর মার্চ মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে ২০১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই আয় আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হুন্ডিচক্র। প্রবাসীরা হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকে ডলারের দর কম থাকায় হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার এদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার এসেছে। এরমধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার বা ২ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার বা ৩৮৭ কোটি টাকার বেশি এসেছে। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার বা ১৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। ৮১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার এসেছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এদিকে আলোচিত সময়ে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা সাতটি। এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, বিদেশিখাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য মতে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস) সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় রেমিট্যান্স হুন্ডি নাকি অন্য কোনো কারণে কমছে, তা বোঝার চেষ্টা করেছে। সিএমএস বিভিন্ন দেশি-বিদেশি হুন্ডি ব্যবসায়ী, অভিবাসী শ্রমিক, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে, হুন্ডির মাধ্যমে বেশি অর্থ পাঠানোর কারণে রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি কাজ নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেছেন। তবে দেশের সিংহভাগ রেমিট্যান্স (প্রবাসী) আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মহামারির মতো সংকটকালে দেশে প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৪ সালের সুনামির পর ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বেশি ছিল। এ ছাড়া কোভিড ও কোভিড-পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল। কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রবাসী আয় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বেশ সাহায্য করেছিল।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদেরকে বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা জরুরি। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ডলারের বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের মধ্যে ৬-৭ টাকার মতো পার্থক্য রয়েছে। এই ব্যবধান ২-৩ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এত বেশি ব্যবধান থাকায় অবৈধ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়বে কি না, সেটাই এখন উদ্বেগের বিষয়।
এর আগে ২০২২ সালের জুনে প্রথমবারের মতো দেশ ব্যাংক ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে বাজারমূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আরেকটি কারণ হলো ‘ভিসা বাণিজ্য’। ‘আন্ডার-ইনভয়েসিং’ শনাক্ত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরামর্শও দেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অনেক আমদানিকারক অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে।