০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্ব রেকর্ড

  • রকীবুল হক
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪
  • 149
  • বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশে অভ্যন্তরীণভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়
  • বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল এই বিচার বাস্তবায়ন
  • এ পর্যন্ত ৫৪টি মামলার বিচারে সাজাপ্রাপ্ত ১৪৬ জন
  • মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০১ জনের মধ্যে কার্যকর হয়েছে ৬ জনের
  • বর্তমানে বিচারাধীন ৩৬টি মামলায় আসামি ১৮৯ জন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা সংগঠিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার ছিল একটি জাতীয় দায়িত্ব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩, প্রণয়নের মাধ্যমে এই বিচারকার্যের ভিত্তি রচিত হয়। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক দালাল আইন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট প্রণয়ন করে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশে অভ্যন্তরীণভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করা হয়।

১৯৭৫ সালে জাতির জনক, তার পরিবার ও জাতীয় নেতাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতির অগ্রগতি ও প্রগতিসমূহ স্তব্ধ হয়ে যায়, তেমনি এই সমস্ত অপরাধীদের বিচার কাজও বন্ধ হয়ে যায়। জাতি নিপতিত হয় এক তমসাচ্ছন্ন যুগে। ওই বছরই জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক অধ্যাদেশ জারি করে দালাল আইন বাতিল করে। থেমে যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এদেশে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হয়ে ছিল যেন আর কোনো দিন এই বিচার বাস্তবায়ন না হয়। উল্টো এই অপরাধীদের অর্থ- | বিত্ত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়ে শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীরা। তাদের গাড়িতে সীমাহীন ত্যাগে অর্জিত আমাদের পবিত্র জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশের মাটিতে নির্লজ্জভাবে দাপিয়ে বেড়ায়। কিন্তু সব ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সুষ্ঠু তদন্তে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বদলে যাওয়ার ১৫ বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাস্তবায়ন করা। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ৫টি অগ্রাধিকার বিষয়ের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার গুরুত্ব সহকারে স্থান পায়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ২০০৯ সালে ২৯ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যুদ্ধাপর- াধীদের বিচারের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ২০১০ সালে ২৫ মার্চ এক গেজেটে দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট-১৯৭৩ এর ৬ ধারা বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ট্রাইব্যুনালের একটি তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। এর প্রায় এক বছর পর ২০১১ সালের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মুহা, আবদুল হান্নান খান পিপিএম এবং প্রাক্তন আইজিপি এম, সানাউল হককে আইজিপি পদমর্যাদায় কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ প্রদান করে ২০ সদস্যের তদন্ত সংস্থাকে আরও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা -হয়। সর্বশেষ এম, সানাউল হককে কো-অর্ডিনেটর করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে ১০ সদস্যের তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠিত করা হয়। শুরুতে যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী সাক্ষীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার কারণে মামলার পর্যাপ্ত সাক্ষীও পাওয়া যেত না। তদন্ত কর্মকর্তাগণ তাদের অপরিসীম আন্তরিকতায় সাক্ষীদের ভয়কে জয় করাতে সক্ষম হন এবং বিচারকার্যকে একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছান। এছাড়া বিচার প্রক্রিয়ার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে জনমত গঠনের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ছিল আশাব্যঞ্জক। সবার সহযোগিতা ও তদন্তকারী কর্মকর্তাগণের নিরলস প্রচেষ্টায় জাতির কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে মুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যক্রম হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারার্থে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদন করা। – সূত্রমতে, এ পর্যন্ত বিচারকাজ সম্পন্ন মামলার সংখ্যা ৫৪টি: সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ১৪৬ জন; তদন্ত সম্পন্ন মামলার সংখ্যা ৯০টি; তদন্ত সম্পন্ন আসামির সংখ্যা ৩৩৫ জন; আমৃত্যু কারাদন্ড সংখ্যা ৩৬ জন, মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষিত ১০১ জন। ২০ বছর সাজাপ্রাপ্ত ৬ জন। খালাশ আসামির সংখ্যা ২ জন; আদেশে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা একটি: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংখ্যা ৬ জন; বর্তমান তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ১৪টি; তদন্তাধীন মামলার আসামির সংখ্যা ১৪: বর্তমান বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৬টি; বিচারাধীন মামলার আসামির সংখ্যা ১৮৯ জন। মোট অভিযোগ প্রাপ্তি ৮৩০টি; মোট অভিযোগে ব্যক্তির সংখ্যা ৪২৭২ জন; মুলতবি অভিযোগের সংখ্যা ৪৯৪টি; অভিযোগ অধীন ব্যক্তির সংখ্যা ৩৩৫২ জন। সূত্রমতে, তদন্ত সংস্থা কর্তৃক অনুসন্ধান এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের নিকট থেকে ৪২৭২ জনের বিরুদ্ধে ৮৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১৫টি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে ১৪টি তদন্তাধীন, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ৩২টি, প্রসিকিউশন টিমের নিকট দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের সংখ্যা ৪টি, অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১১টি মামলা এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষিত মামলার সংখ্যা ৫৪টি। ১০৪টি মামলায় মোট আসামি ৩৪৯ জন।

এখন পর্যন্ত ১৩৮ জন আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েকজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছে এবং অবশিষ্ট পালাতক আসামিদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত ২১টি মামলা সুপ্রিম – কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে বিচারাধীন রয়েছে এবং বর্তমানে ৩৩৫২ জনের বিরুদ্ধে ৪৯৪টি অভিযোগে মামলা রজ্জু, তদন্ত নিষ্পত্তি ও বিচারের অপেক্ষায় আছে। জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের এক সীমাহীন চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইনের শাসন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন তারই এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সভাপতি শাহনাজ শিল্পী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্ব রেকর্ড

আপডেট সময় : ১০:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪
  • বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশে অভ্যন্তরীণভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়
  • বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল এই বিচার বাস্তবায়ন
  • এ পর্যন্ত ৫৪টি মামলার বিচারে সাজাপ্রাপ্ত ১৪৬ জন
  • মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০১ জনের মধ্যে কার্যকর হয়েছে ৬ জনের
  • বর্তমানে বিচারাধীন ৩৬টি মামলায় আসামি ১৮৯ জন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা সংগঠিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার ছিল একটি জাতীয় দায়িত্ব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩, প্রণয়নের মাধ্যমে এই বিচারকার্যের ভিত্তি রচিত হয়। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক দালাল আইন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট প্রণয়ন করে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম কোনো দেশে অভ্যন্তরীণভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করা হয়।

১৯৭৫ সালে জাতির জনক, তার পরিবার ও জাতীয় নেতাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতির অগ্রগতি ও প্রগতিসমূহ স্তব্ধ হয়ে যায়, তেমনি এই সমস্ত অপরাধীদের বিচার কাজও বন্ধ হয়ে যায়। জাতি নিপতিত হয় এক তমসাচ্ছন্ন যুগে। ওই বছরই জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক অধ্যাদেশ জারি করে দালাল আইন বাতিল করে। থেমে যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এদেশে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হয়ে ছিল যেন আর কোনো দিন এই বিচার বাস্তবায়ন না হয়। উল্টো এই অপরাধীদের অর্থ- | বিত্ত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়ে শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীরা। তাদের গাড়িতে সীমাহীন ত্যাগে অর্জিত আমাদের পবিত্র জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশের মাটিতে নির্লজ্জভাবে দাপিয়ে বেড়ায়। কিন্তু সব ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সুষ্ঠু তদন্তে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত ‘বদলে যাওয়ার ১৫ বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাস্তবায়ন করা। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ৫টি অগ্রাধিকার বিষয়ের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার গুরুত্ব সহকারে স্থান পায়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ২০০৯ সালে ২৯ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যুদ্ধাপর- াধীদের বিচারের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ২০১০ সালে ২৫ মার্চ এক গেজেটে দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট-১৯৭৩ এর ৬ ধারা বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ট্রাইব্যুনালের একটি তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। এর প্রায় এক বছর পর ২০১১ সালের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মুহা, আবদুল হান্নান খান পিপিএম এবং প্রাক্তন আইজিপি এম, সানাউল হককে আইজিপি পদমর্যাদায় কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ প্রদান করে ২০ সদস্যের তদন্ত সংস্থাকে আরও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা -হয়। সর্বশেষ এম, সানাউল হককে কো-অর্ডিনেটর করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে ১০ সদস্যের তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠিত করা হয়। শুরুতে যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী সাক্ষীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার কারণে মামলার পর্যাপ্ত সাক্ষীও পাওয়া যেত না। তদন্ত কর্মকর্তাগণ তাদের অপরিসীম আন্তরিকতায় সাক্ষীদের ভয়কে জয় করাতে সক্ষম হন এবং বিচারকার্যকে একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছান। এছাড়া বিচার প্রক্রিয়ার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে জনমত গঠনের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ছিল আশাব্যঞ্জক। সবার সহযোগিতা ও তদন্তকারী কর্মকর্তাগণের নিরলস প্রচেষ্টায় জাতির কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে মুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যক্রম হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারার্থে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদন করা। – সূত্রমতে, এ পর্যন্ত বিচারকাজ সম্পন্ন মামলার সংখ্যা ৫৪টি: সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ১৪৬ জন; তদন্ত সম্পন্ন মামলার সংখ্যা ৯০টি; তদন্ত সম্পন্ন আসামির সংখ্যা ৩৩৫ জন; আমৃত্যু কারাদন্ড সংখ্যা ৩৬ জন, মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষিত ১০১ জন। ২০ বছর সাজাপ্রাপ্ত ৬ জন। খালাশ আসামির সংখ্যা ২ জন; আদেশে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা একটি: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংখ্যা ৬ জন; বর্তমান তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ১৪টি; তদন্তাধীন মামলার আসামির সংখ্যা ১৪: বর্তমান বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৬টি; বিচারাধীন মামলার আসামির সংখ্যা ১৮৯ জন। মোট অভিযোগ প্রাপ্তি ৮৩০টি; মোট অভিযোগে ব্যক্তির সংখ্যা ৪২৭২ জন; মুলতবি অভিযোগের সংখ্যা ৪৯৪টি; অভিযোগ অধীন ব্যক্তির সংখ্যা ৩৩৫২ জন। সূত্রমতে, তদন্ত সংস্থা কর্তৃক অনুসন্ধান এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের নিকট থেকে ৪২৭২ জনের বিরুদ্ধে ৮৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১৫টি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে ১৪টি তদন্তাধীন, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ৩২টি, প্রসিকিউশন টিমের নিকট দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের সংখ্যা ৪টি, অন্যান্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ১১টি মামলা এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক রায় ঘোষিত মামলার সংখ্যা ৫৪টি। ১০৪টি মামলায় মোট আসামি ৩৪৯ জন।

এখন পর্যন্ত ১৩৮ জন আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েকজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছে এবং অবশিষ্ট পালাতক আসামিদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত ২১টি মামলা সুপ্রিম – কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে বিচারাধীন রয়েছে এবং বর্তমানে ৩৩৫২ জনের বিরুদ্ধে ৪৯৪টি অভিযোগে মামলা রজ্জু, তদন্ত নিষ্পত্তি ও বিচারের অপেক্ষায় আছে। জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের বিচার বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের এক সীমাহীন চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আইনের শাসন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন তারই এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।