যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম সম্প্রদায় সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ উৎসব উদযাপন করে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্মতাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি সকালে জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যারা আজ গণভবনে এসেছেন, তাদের জন্য সীমাহীন আনন্দ। ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক আনন্দ। রাজধানীর হাইকোর্ট চত্বরের জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, সংসদ সদস্যরা, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতারা, বিদেশি কূটনীতিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ জামাতে অংশ নেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে বাংলাদেশের শান্তি ও অগ্রগতি এবং জনগণ তথা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে ইমাম ছিলেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল পৌনে ১১টায়। এতে ইমামতি করেন মিরপুর জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুজ্জামান।
নামাজ শেষে মোনাজাতে রমজানের রোজা, তারাবিহ, কোরআন তেলাওয়াত কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে আর্তি জানানো হয়। গোনাহ মাফের জন্য অনেকেই চোখের জল ফেলে কাঁদতে থাকেন মোনাজাতে। আল্লাহর কাছে মৃত প্রিয়জনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা ছাড়াও ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এদিকে দিনাজপুর গোর এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তর ঈদের জামাত কয়েক লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায় এ জামাতের ইমামতি করেন মাওলানা মো. শামসুল হক কাসেমী।
বরাবরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে দেশের অন্যতম বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কয়েক লাখ মুসল্লি। সকাল ১০টায় মাওলানা শোয়াইব বিন আব্দুর রউফের ইমামতিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এছাড়া সারা দেশে ঈদের জামাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।
























