০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যেভাবে দেশে ফিরবেন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত এমভি আব্দুল্লাহ’র নাবিকরা

সোমালিয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া এমভি আবদুল্লাহর ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ২১ নাবিক ওই জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন। এছাড়া বাকি ২ নাবিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছে বিমানযোগে দেশে ফিরবেন। নাবিকদের নিজ নিজ ইচ্ছায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিকপক্ষ। গতকাল বুধবার দুপুরে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কেএসআরএম’র মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম।

তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে আগামী ২২ এপ্রিল সকালে দুবাইয়ের আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছাবে সোমালিয় জলদস্যুদের কবল থেকে সদ্য মুক্ত হওয়া ‘এমভি আবদুল্লাহ। সেখান থেকে দুজন নেমে গিয়ে বিমানযোগে দেশে ফিরবেন। বাকিরা জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন।

 

মেহেরুল করিম আরো জানান, বাংলাদেশ সময় গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটের দিকে এমভি আবদুল্লাহ থেকে দস্যুরা নেমে যায়। এর আগে একই দিন বিকালে দস্যুরা তাদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ বুঝে নেয়। একটি বিশেষ উড়োজাহাজে মুক্তিপণ বাবদ ৩ ব্যাগ ডলার এমভি আবদুল্লাহর পাশে সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়। স্পিড বোট দিয়ে দস্যুরা ব্যাগ ৩টি কুড়িয়ে নেয়। দস্যুমুক্ত হয়ে ওইদিন রাতেই সোমালিয়ার উপকূল থেকে আরব আমিরাতের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ। এরপর নিরাপদ জলসীমায় আনা পর্যন্ত এমভি আবদুল্লাহকে নিরাপত্তা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ। একই সঙ্গে এমভি আবদুল্লাহর চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী লাগানো হয়। প্রস্তুত করে রাখা হয় জাহাজে নিরাপত্তার জন্য সংরক্ষিত এলাকা সিটাডেল, ইমার্জেন্সি ফায়ার পাম্প এবং সাউন্ড সিগন্যাল। তবে মুক্তিপণ বাবদ কত ডলার দেওয়া হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীসহ অন্যান্য কোনো কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের পথে যাত্রা শুরু করে এমভি আবদুল্লাহ। ১৯ মার্চ সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু একটি ডিভাইসের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চলাচলকারী বেশকিছু জাহাজের মধ্যে এমভি আব্দুল্লাহকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে পৌঁছালে সোমালিয়ান জলদস্যুরা ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহকে জিম্মি করে। পরে অস্ত্রের মুখে সোমালিয় উপকূলে নিয়ে নোঙর করে দস্যুরা। এরপর মুক্তিপণের দাবি জানায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটি উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি চায় ইইউ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এজন্য তারা এমভি আব্দুল্লাহ’র খুব কাছাকাছি থেকে জলদস্যুদের অনুসরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার ও জাহাজটির মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। অবশেষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় মুক্তিপণ দিয়ে দস্যুদের কবল থেকে অক্ষত ২৩ নাবিকসহ এমভি আব্দুল্লাহকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগের পরদিনই সায়েদুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ

যেভাবে দেশে ফিরবেন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত এমভি আব্দুল্লাহ’র নাবিকরা

আপডেট সময় : ০৫:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

সোমালিয়ায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া এমভি আবদুল্লাহর ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ২১ নাবিক ওই জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন। এছাড়া বাকি ২ নাবিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছে বিমানযোগে দেশে ফিরবেন। নাবিকদের নিজ নিজ ইচ্ছায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিকপক্ষ। গতকাল বুধবার দুপুরে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কেএসআরএম’র মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম।

তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে আগামী ২২ এপ্রিল সকালে দুবাইয়ের আল হারমিয়া বন্দরে পৌঁছাবে সোমালিয় জলদস্যুদের কবল থেকে সদ্য মুক্ত হওয়া ‘এমভি আবদুল্লাহ। সেখান থেকে দুজন নেমে গিয়ে বিমানযোগে দেশে ফিরবেন। বাকিরা জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন।

 

মেহেরুল করিম আরো জানান, বাংলাদেশ সময় গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটের দিকে এমভি আবদুল্লাহ থেকে দস্যুরা নেমে যায়। এর আগে একই দিন বিকালে দস্যুরা তাদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ বুঝে নেয়। একটি বিশেষ উড়োজাহাজে মুক্তিপণ বাবদ ৩ ব্যাগ ডলার এমভি আবদুল্লাহর পাশে সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়। স্পিড বোট দিয়ে দস্যুরা ব্যাগ ৩টি কুড়িয়ে নেয়। দস্যুমুক্ত হয়ে ওইদিন রাতেই সোমালিয়ার উপকূল থেকে আরব আমিরাতের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ। এরপর নিরাপদ জলসীমায় আনা পর্যন্ত এমভি আবদুল্লাহকে নিরাপত্তা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ। একই সঙ্গে এমভি আবদুল্লাহর চারদিকে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী লাগানো হয়। প্রস্তুত করে রাখা হয় জাহাজে নিরাপত্তার জন্য সংরক্ষিত এলাকা সিটাডেল, ইমার্জেন্সি ফায়ার পাম্প এবং সাউন্ড সিগন্যাল। তবে মুক্তিপণ বাবদ কত ডলার দেওয়া হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীসহ অন্যান্য কোনো কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের পথে যাত্রা শুরু করে এমভি আবদুল্লাহ। ১৯ মার্চ সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু একটি ডিভাইসের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চলাচলকারী বেশকিছু জাহাজের মধ্যে এমভি আব্দুল্লাহকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে পৌঁছালে সোমালিয়ান জলদস্যুরা ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহকে জিম্মি করে। পরে অস্ত্রের মুখে সোমালিয় উপকূলে নিয়ে নোঙর করে দস্যুরা। এরপর মুক্তিপণের দাবি জানায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটি উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি চায় ইইউ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এজন্য তারা এমভি আব্দুল্লাহ’র খুব কাছাকাছি থেকে জলদস্যুদের অনুসরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার ও জাহাজটির মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। অবশেষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় মুক্তিপণ দিয়ে দস্যুদের কবল থেকে অক্ষত ২৩ নাবিকসহ এমভি আব্দুল্লাহকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হয়।