০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্কুল খোলার দিনেই দুই শিক্ষকের মৃত্যু

●বিভিন্ন এলাকায় অসুস্থ অনেক শিক্ষার্থী
●ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও ছিল কম
●ঢাকার তাপমাত্রা দেখে স্কুল বন্ধ নয়: শিক্ষামন্ত্রী
●আজ ঢাকাসহ ৫ জেলার মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ ফের বন্ধ

চলমান তীব্র তাপদাহের প্রেক্ষিতে আবহাওয়া অফিস ঘোষিত হিট অ্যালার্টের মধ্যেই গতকাল দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খুলেছে। দীর্ঘদিন বন্ধের পর শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তবে তীব্র তাপদাহের কারণে ক্লাসে হাজির হতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের বেশ দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। গরম না কমতেই স্কুল খোলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে।

স্কুল খোলার আগের দিনে একজন এবং প্রথম দিনেই হিট স্ট্রোকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও দুইজন শিক্ষকের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। এর আগে চলমান তাপদাহে হিটস্ট্রোকে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। সর্বশেষ গতকালও তিন শিক্ষক ছাড়াও গরমে তিনজনের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে স্কুল খোলার প্রথমদিনেই কয়েকজনের মৃত্যু ও অনেকের অসুস্থ হওয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ ঢাকাসহ ৫ জেলায় ফের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশে চলমান তাপদাহের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহী জেলার সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৯ এপ্রিল বন্ধ থাকবে। তবে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চাইলে খোলা রাখতে পারবে।

আজ পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুল আগের ঘোষণা অনুযায়ী খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে গতকাল রাত পৌনে ৯টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যেহেতু প্রাথমিকের সব ক্লাস মর্নিংয়ে হবে তাই প্রাথমিক খোলাই থাকবে। এর আগে গতকাল এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ঢাকার তাপমাত্রা বিবেচনা করে সারা দেশের বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তাপদাহের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০-এর পর্যায়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাংলাদেশে তো নতুন নয়। সুতরাং, পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ এর ওপরে যাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তারা তাপমাত্রা বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধের পর গতকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলায় ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে যানজটও কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। মূলত এ কারণেই রাজধানীতে যানজট ফিরছে। তীব্র গরমে ২৪ ঘণ্টায় তিন শিক্ষকের মৃত্যু: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনেই তীব্র গরমের কারণে ২৪ ঘণ্টায় তিনজন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র তাপদাহে হিট স্ট্রোকেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া তিন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এদের মধ্যে দুইজন রোববার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট ফেরিতে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. মোস্তাক আহমেদ কুতুবী (৫৫) মারা যান। তিনি জেলার বোয়ালখালী উপজেলার খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া আলিম মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। এদিন সকালে মাদ্রাসা খোলা থাকায় তিনি নগরের চান্দগাঁও মোহরা এলাকার বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন। মোস্তাক আহমেদ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া লেমশীখালীর মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। এদিন সকালে যশোরে স্কুলে আসার পর আহসান হাবীব নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

গতকাল সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহসান হাবীব যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের ছিলমপুর গ্রামের ইউছুপ আলী মোল্লার ছেলে। তিনি সদর উপজেলার আমদাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। জানা যায়, শিক্ষক আহসান হাবীব সকালে মাঠে কৃষি কাজ করে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের ধারণা ওই শিক্ষক হিট স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এছাড়া মানিকগঞ্জে গত শনিবার দুপুরে তীব্র দাবদাহে হিট স্ট্রোকে হাছিনা পারভীন (৪২) নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিক্ষিকা সদর উপজেলার বাসুদেবপুর ২৬নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম ফারুক জানান, শিক্ষক হাছিনা ঢাকার পপুলার হাসপাতালে শনিবার দুপুরে হিট স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। পারভীন স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন বলেও জানান তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা, স্কুল বন্ধ বা অনলাইনে ক্লাস দাবি: মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকা রহমান। সকাল ৭টায় তার ক্লাস শুরু হয়ে ৯টা ৪০ মিনিটে শেষ হয়েছে। ছুটি হওয়ার পর এই কোমলমতি শিক্ষার্থী বমি করে দেয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুল থেকে বের হওয়ার পর সাদিকার সঙ্গে কথা হলে সে জানায় অনেক গরম। ক্লাস করার সময় আমার অনেক খারাপ লেগেছে। স্কুল বন্ধ করে দিলে ভালো হয়। শুধু সাদিকা নয়, মতিঝিল আইডিয়ালের অনেক শিক্ষার্থী গরমের মধ্যে ক্লাস করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের অভিভাবকরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই গরমের মধ্যে স্কুলে পাঠদান বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস নিলে ভালো হয়।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

স্কুল খোলার দিনেই দুই শিক্ষকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

●বিভিন্ন এলাকায় অসুস্থ অনেক শিক্ষার্থী
●ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও ছিল কম
●ঢাকার তাপমাত্রা দেখে স্কুল বন্ধ নয়: শিক্ষামন্ত্রী
●আজ ঢাকাসহ ৫ জেলার মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ ফের বন্ধ

চলমান তীব্র তাপদাহের প্রেক্ষিতে আবহাওয়া অফিস ঘোষিত হিট অ্যালার্টের মধ্যেই গতকাল দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খুলেছে। দীর্ঘদিন বন্ধের পর শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তবে তীব্র তাপদাহের কারণে ক্লাসে হাজির হতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের বেশ দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। গরম না কমতেই স্কুল খোলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে।

স্কুল খোলার আগের দিনে একজন এবং প্রথম দিনেই হিট স্ট্রোকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও দুইজন শিক্ষকের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। এর আগে চলমান তাপদাহে হিটস্ট্রোকে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। সর্বশেষ গতকালও তিন শিক্ষক ছাড়াও গরমে তিনজনের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে স্কুল খোলার প্রথমদিনেই কয়েকজনের মৃত্যু ও অনেকের অসুস্থ হওয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ ঢাকাসহ ৫ জেলায় ফের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশে চলমান তাপদাহের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহী জেলার সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৯ এপ্রিল বন্ধ থাকবে। তবে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চাইলে খোলা রাখতে পারবে।

আজ পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুল আগের ঘোষণা অনুযায়ী খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে গতকাল রাত পৌনে ৯টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যেহেতু প্রাথমিকের সব ক্লাস মর্নিংয়ে হবে তাই প্রাথমিক খোলাই থাকবে। এর আগে গতকাল এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ঢাকার তাপমাত্রা বিবেচনা করে সারা দেশের বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। তাপদাহের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০-এর পর্যায়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাংলাদেশে তো নতুন নয়। সুতরাং, পাঁচটি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ এর ওপরে যাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তারা তাপমাত্রা বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধের পর গতকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলায় ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে যানজটও কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। মূলত এ কারণেই রাজধানীতে যানজট ফিরছে। তীব্র গরমে ২৪ ঘণ্টায় তিন শিক্ষকের মৃত্যু: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনেই তীব্র গরমের কারণে ২৪ ঘণ্টায় তিনজন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র তাপদাহে হিট স্ট্রোকেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া তিন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এদের মধ্যে দুইজন রোববার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট ফেরিতে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো. মোস্তাক আহমেদ কুতুবী (৫৫) মারা যান। তিনি জেলার বোয়ালখালী উপজেলার খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া আলিম মাদরাসায় কর্মরত ছিলেন। এদিন সকালে মাদ্রাসা খোলা থাকায় তিনি নগরের চান্দগাঁও মোহরা এলাকার বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন। মোস্তাক আহমেদ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া লেমশীখালীর মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। এদিন সকালে যশোরে স্কুলে আসার পর আহসান হাবীব নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

গতকাল সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহসান হাবীব যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের ছিলমপুর গ্রামের ইউছুপ আলী মোল্লার ছেলে। তিনি সদর উপজেলার আমদাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। জানা যায়, শিক্ষক আহসান হাবীব সকালে মাঠে কৃষি কাজ করে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের ধারণা ওই শিক্ষক হিট স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এছাড়া মানিকগঞ্জে গত শনিবার দুপুরে তীব্র দাবদাহে হিট স্ট্রোকে হাছিনা পারভীন (৪২) নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিক্ষিকা সদর উপজেলার বাসুদেবপুর ২৬নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি গোলাম ফারুক জানান, শিক্ষক হাছিনা ঢাকার পপুলার হাসপাতালে শনিবার দুপুরে হিট স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। পারভীন স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন বলেও জানান তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা, স্কুল বন্ধ বা অনলাইনে ক্লাস দাবি: মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকা রহমান। সকাল ৭টায় তার ক্লাস শুরু হয়ে ৯টা ৪০ মিনিটে শেষ হয়েছে। ছুটি হওয়ার পর এই কোমলমতি শিক্ষার্থী বমি করে দেয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুল থেকে বের হওয়ার পর সাদিকার সঙ্গে কথা হলে সে জানায় অনেক গরম। ক্লাস করার সময় আমার অনেক খারাপ লেগেছে। স্কুল বন্ধ করে দিলে ভালো হয়। শুধু সাদিকা নয়, মতিঝিল আইডিয়ালের অনেক শিক্ষার্থী গরমের মধ্যে ক্লাস করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাদের অভিভাবকরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই গরমের মধ্যে স্কুলে পাঠদান বন্ধ করে অনলাইনে ক্লাস নিলে ভালো হয়।