০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে মানহীন হেলমেট

❖৮৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হেলমেট না পরায়
❖হেলমেটের মান নিয়ে আইনে উল্লেখ নেই

 

সহজলভ্যতা, সহজ যোগাযোগের কারণে দেশজুড়ে চাহিদা ও ব্যবহার বেড়েছে মোটরসাইকেলের। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও মৃত্যুসংখ্যা। শুধু মার্চ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২০৩ জনের। এতকিছুর পরও নির্ধারণ করা যায়নি বাহকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। আইনে হেলমেট পরিধানের কথা বলা থাকলেও হেলমেটের মান নির্ধারণ করা নেই। এই সুযোগে আইন থেকে বাঁচতে মানহীন হেলমেটের ছড়াছড়ি রাজধানীসহ সারা দেশেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানহীন হেলমেট যাত্রীদের সুরক্ষার বদলে উল্টো মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

 

মোটরযান চলাচল আইনের ৪৯-চ ধারায় বলা হয়েছে, চালক ও আরোহীকে যথাযথভাবে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেটি হবে অপরাধ। এ জন্য তিনি অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক এক পয়েন্ট কাটা যাবে।

 

হেলমেট পরার হার বাড়লেও কমেনি বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণের হার। এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে নিম্নমানের হেলমেটকে। মূলত মামলার ভয়ে হেলমেট পরেন চালক ও আরহীরা। তবে তা বেশিরভাগই নিম্নমানের। মানহীন এসব হেলমেটের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ফ্র্যাকচার এমনকি মৃত্যুও ঘটে অহরহ। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে হেলমেট না পরার কারণে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে হেলমেট থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর একমাত্র কারণ নিম্নমানের হেলমেটের ব্যবহার।

 

বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা যে হেলমেট ব্যবহার করেন তা নিম্নমানের। খুব কমসংখ্যকই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করেন। রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক-চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে যে হেলমেট দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোও নিম্নমানের। এগুলোকে চালকরা বলে থাকেন প্লাস্টিকের বাটি। রাইড শেয়ারিং কোনো কোম্পানিই ভালো মানের হেলমেট চালকদের সরবরাহ করছে না। মাত্র দুই থেকে পাঁচ শতাংশ চালক ভালো হেলমেট ব্যবহার করছেন, সেটাও নিজ উদ্যোগে।

 

মোটরসাইকেল-চালকদের হেলমেটের মান নির্ধারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। বাস্তবে দেখা যায়, পুরো দেশ মানহীন হেলমেটে সয়লাব। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

 

 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা দামের হেলমেটও পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু আছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক মাপকাঠি মেনে তৈরি। হেলমেটে আইএসও লোগো রয়েছে কিনা কেনার আগে তা যাচাই করা জরুরি। হেলমেট বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ গ্রাহকই কম দামের হেলমেট খোঁজেন। বিশেষ করে রাইড সেবায় যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ৩০০ টাকা দামের হেলমেট ব্যবহার করেন।

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথায় একটি ভালো মানের হেলমেট থাকলে বড় ধরনের আঘাত থেকে বেঁচে যান চালক বা আরোহী। সে ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হলেও প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে কম। কিন্তু নিম্নমানের হেলমেটগুলো আঘাত পাওয়া মাত্রই ভেঙে দুমড়েমুচড়ে যায়। ভাঙা প্লাস্টিক মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে মারাত্মক আঘাতের সৃষ্টি করে। এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। অনেকে আবার স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন।

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী হেলমেট পরেছেন কি না, সেটি আমরা নিশ্চিত করি। কিন্তু এটার মান কেমন, সেটা দেখি না। কারণ এর মানের বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। আমাদের দেশে হেলমেটের মান নির্ণয়ের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে মান নির্ধারণ করা উচিত।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে মানহীন হেলমেট

আপডেট সময় : ০৭:২০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪

❖৮৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হেলমেট না পরায়
❖হেলমেটের মান নিয়ে আইনে উল্লেখ নেই

 

সহজলভ্যতা, সহজ যোগাযোগের কারণে দেশজুড়ে চাহিদা ও ব্যবহার বেড়েছে মোটরসাইকেলের। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও মৃত্যুসংখ্যা। শুধু মার্চ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২০৩ জনের। এতকিছুর পরও নির্ধারণ করা যায়নি বাহকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। আইনে হেলমেট পরিধানের কথা বলা থাকলেও হেলমেটের মান নির্ধারণ করা নেই। এই সুযোগে আইন থেকে বাঁচতে মানহীন হেলমেটের ছড়াছড়ি রাজধানীসহ সারা দেশেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, মানহীন হেলমেট যাত্রীদের সুরক্ষার বদলে উল্টো মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

 

মোটরযান চলাচল আইনের ৪৯-চ ধারায় বলা হয়েছে, চালক ও আরোহীকে যথাযথভাবে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেটি হবে অপরাধ। এ জন্য তিনি অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক এক পয়েন্ট কাটা যাবে।

 

হেলমেট পরার হার বাড়লেও কমেনি বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণের হার। এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে নিম্নমানের হেলমেটকে। মূলত মামলার ভয়ে হেলমেট পরেন চালক ও আরহীরা। তবে তা বেশিরভাগই নিম্নমানের। মানহীন এসব হেলমেটের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ফ্র্যাকচার এমনকি মৃত্যুও ঘটে অহরহ। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৮৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে হেলমেট না পরার কারণে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে হেলমেট থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর একমাত্র কারণ নিম্নমানের হেলমেটের ব্যবহার।

 

বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা যে হেলমেট ব্যবহার করেন তা নিম্নমানের। খুব কমসংখ্যকই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করেন। রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক-চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে যে হেলমেট দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোও নিম্নমানের। এগুলোকে চালকরা বলে থাকেন প্লাস্টিকের বাটি। রাইড শেয়ারিং কোনো কোম্পানিই ভালো মানের হেলমেট চালকদের সরবরাহ করছে না। মাত্র দুই থেকে পাঁচ শতাংশ চালক ভালো হেলমেট ব্যবহার করছেন, সেটাও নিজ উদ্যোগে।

 

মোটরসাইকেল-চালকদের হেলমেটের মান নির্ধারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও এর কোনো অগ্রগতি নেই। বাস্তবে দেখা যায়, পুরো দেশ মানহীন হেলমেটে সয়লাব। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

 

 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা দামের হেলমেটও পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু আছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক মাপকাঠি মেনে তৈরি। হেলমেটে আইএসও লোগো রয়েছে কিনা কেনার আগে তা যাচাই করা জরুরি। হেলমেট বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ গ্রাহকই কম দামের হেলমেট খোঁজেন। বিশেষ করে রাইড সেবায় যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ৩০০ টাকা দামের হেলমেট ব্যবহার করেন।

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথায় একটি ভালো মানের হেলমেট থাকলে বড় ধরনের আঘাত থেকে বেঁচে যান চালক বা আরোহী। সে ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হলেও প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে কম। কিন্তু নিম্নমানের হেলমেটগুলো আঘাত পাওয়া মাত্রই ভেঙে দুমড়েমুচড়ে যায়। ভাঙা প্লাস্টিক মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে মারাত্মক আঘাতের সৃষ্টি করে। এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। অনেকে আবার স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন।

 

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী হেলমেট পরেছেন কি না, সেটি আমরা নিশ্চিত করি। কিন্তু এটার মান কেমন, সেটা দেখি না। কারণ এর মানের বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। আমাদের দেশে হেলমেটের মান নির্ণয়ের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে মান নির্ধারণ করা উচিত।