০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবার চবির আবাসিক হলে মদ খেয়ে ছাত্রীর মাতলামি

সতর্ক করলেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে প্রশাসনকে
মাদক সেবনের অভিযোগ যেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিত্য দিনের ঘটনা। আবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রী আবাসিক হলে মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। বাইরে থেকে নেশা করে এসে হলের নিজ রুমে মাতলামি করে অন্যদের বিরক্ত করতেন। বারণ করায় রুমমেটের দিকে তেড়ে আসারও অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. উদিতি দাশের কাছে এসেছে এমনই এক অভিযোগ। অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। থাকেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ৫১২ নম্বর কক্ষে।
অভিযোগকারী জানান, ’ঐশী নিয়মিত হলে মদ খেয়ে এসে মাতলামি করতো। বিড়ি সিগারেট খেয়ে রুমের পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করতো। এগুলা নিয়ে তাকে বাঁধা দিলে আমাদের বাবা মা তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতো। বলতো, আমি যতক্ষণ রুমে সিগারেট খাই না, এটা তোদের জন্য কম্প্রমাইজ করি ইত্যাদি ইত্যাদি।’
তার সম্পর্কে চারুকলা ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঐশী ক্লাস নাইন থেকেই মদ-গাঁজা-সিগারেটের সাথে আসক্ত। ওকে অনেকবার এগুলো ছাড়ার জন্য বলেছি। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সে চারুকলাতেও খোলা-মেলাভাবে এসব মাদক নেয়।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি এসব মাদকদ্রব্য সেবন করিনা। আমার পরীক্ষা চলতেছে এইসব ভিত্তিহীন কথা বলে আমাকে মানসিক যন্ত্র দিবেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. অহিদুল আলম বলেন, ওই ছাত্রীর (ঐশী) ব্যাপারে এ রকম একটা ঘটনার কথা শুনেছি। এ নিয়ে ওই হল প্রভোস্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি ওই হলের দায়িত্বশীলরা পর্যবেক্ষণ করছেন।
হলের প্রভোস্ট ড. উদিতি দাশ বলেন, ’আজকে একটা মেয়ে আমাকে টেলিফোন করে জানিয়েছে যে, ৫১২ নাম্বার রুমে নাকি ঐশী নামের একটা মেয়ে মাদক সেবন করে। এই মেয়ের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ এসেছে। তাকে আমরা তখন ডাকিয়েছিলাম। সে ক্ষমা চেয়ে বলেছে, আর করবে না। তাই, সেবার ক্ষমা করে দিয়েছিলিাম। কিন্তু তার নামে আবারও মাদকাসক্তির অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা কালই একশানে যাবো।’
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি (সোমবার) একই ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রের সাথে ছেলেদের মেসে এই মেয়ের রাত্রিযাপন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো।

এবার চবির আবাসিক হলে মদ খেয়ে ছাত্রীর মাতলামি

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০২৪
মাদক সেবনের অভিযোগ যেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিত্য দিনের ঘটনা। আবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রী আবাসিক হলে মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। বাইরে থেকে নেশা করে এসে হলের নিজ রুমে মাতলামি করে অন্যদের বিরক্ত করতেন। বারণ করায় রুমমেটের দিকে তেড়ে আসারও অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. উদিতি দাশের কাছে এসেছে এমনই এক অভিযোগ। অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। থাকেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ৫১২ নম্বর কক্ষে।
অভিযোগকারী জানান, ’ঐশী নিয়মিত হলে মদ খেয়ে এসে মাতলামি করতো। বিড়ি সিগারেট খেয়ে রুমের পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করতো। এগুলা নিয়ে তাকে বাঁধা দিলে আমাদের বাবা মা তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতো। বলতো, আমি যতক্ষণ রুমে সিগারেট খাই না, এটা তোদের জন্য কম্প্রমাইজ করি ইত্যাদি ইত্যাদি।’
তার সম্পর্কে চারুকলা ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঐশী ক্লাস নাইন থেকেই মদ-গাঁজা-সিগারেটের সাথে আসক্ত। ওকে অনেকবার এগুলো ছাড়ার জন্য বলেছি। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সে চারুকলাতেও খোলা-মেলাভাবে এসব মাদক নেয়।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি এসব মাদকদ্রব্য সেবন করিনা। আমার পরীক্ষা চলতেছে এইসব ভিত্তিহীন কথা বলে আমাকে মানসিক যন্ত্র দিবেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. অহিদুল আলম বলেন, ওই ছাত্রীর (ঐশী) ব্যাপারে এ রকম একটা ঘটনার কথা শুনেছি। এ নিয়ে ওই হল প্রভোস্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি ওই হলের দায়িত্বশীলরা পর্যবেক্ষণ করছেন।
হলের প্রভোস্ট ড. উদিতি দাশ বলেন, ’আজকে একটা মেয়ে আমাকে টেলিফোন করে জানিয়েছে যে, ৫১২ নাম্বার রুমে নাকি ঐশী নামের একটা মেয়ে মাদক সেবন করে। এই মেয়ের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ এসেছে। তাকে আমরা তখন ডাকিয়েছিলাম। সে ক্ষমা চেয়ে বলেছে, আর করবে না। তাই, সেবার ক্ষমা করে দিয়েছিলিাম। কিন্তু তার নামে আবারও মাদকাসক্তির অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা কালই একশানে যাবো।’
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি (সোমবার) একই ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রের সাথে ছেলেদের মেসে এই মেয়ের রাত্রিযাপন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো।