০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অব্যাহত রুশ হামলায় অন্ধকারে পুরো ইউক্রেন

➤ খারকিভে ২ অঞ্চলে পিছু হটলো ইউক্রেন
➤ ইউক্রেন নিয়ে চীনের শান্তি পরিকল্পনায় পুতিনের সমর্থন
➤ রাশিয়ার নতুন মন্ত্রিসভার অনুমোদন দিলেন পুতিন

 

একদিকে তাপমাত্রা কম থাকায় বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের স্থাপনাগুলোয় একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে রুশ বাহিনী। সব মিলিয়ে চরম সংকটে পড়েছে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাত। গত কমঙ্গলবার অন্ধকারে (জরুরি ব্ল্যাকআউট) ডুবে যায় পুরো ইউক্রেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনেগো এ তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এসব হামলার কারণে বিদ্যুতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না ইউক্রেন। এমনকি চাহিদা পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে ইউক্রেনকে বাধ্য করেছে রাশিয়া।

টেলিগ্রামে ইউক্রেনেগো জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে পরবর্তী চার ঘণ্টা ইউক্রেনের সব কটি অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে অন্ধকারে ডুবে ছিল পুরো ইউক্রেন। প্রতিষ্ঠানটি এর পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এক, ইউক্রেনের বিদ্যুতের স্থাপনাগুলোয় রুশবাহিনীর একের পর এক হামলা। দুই, তাপমাত্রা কম থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলের লিভিভ শহরের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে ভবনগুলো অন্ধকারে ডুবে আছে। সড়ক বাতিগুলো জ্বলছে না। এদিকে রাজধানী কিয়েভের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রুশ হামলার মুখে খারকিভের দুটি অঞ্চল থেকে পিছু হটে ইউক্রেনীয় সেনারা নতুন সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, খারকিভের কাছে উত্তর দিকে সুমি অঞ্চলে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য সেনা জড়ো করছে রাশিয়া। সুমি অঞ্চলে রাশিয়া যদি নতুন স্থল হামলা চালায় তাহলে রণক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে। এর আগে শুক্রবার খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়া স্থল হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন দ্রুত সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে। এমন অবস্থায় সুমি অঞ্চলে নতুন অভিযান শুরু হলে রুশদের ঠেকাতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে ইউক্রেনীয় সেনাদের। রাশিয়া বলেছে, খারকিভের উত্তরের দিকে তাদের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। বুহরুভাতকা নামের আরেকটি গ্রামের দখল নিয়েছে তারা। এটি গত শুক্রবারের পর থেকে রুশ সেনাদের দখল করা দশম গ্রাম। সীমান্ত থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরের শহর ভভচানস্কের পুলিশ প্রধান বলেছেন, শহরটি রাশিয়ার গোলাবর্ষণে প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছে। শহরের উত্তরে গুলি বিনিময় হচ্ছে।

রুশ হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও অঞ্চলটিতে বসবাসরত ইউক্রেনীয়দের মনোবলে ধাক্কা দিয়েছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হলো খারকিভ। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার আক্রমণের মূল মনোযোগ ছিল ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল। ফলে খারকিভে নতুন আক্রমণ পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের প্রতিরক্ষা অভিযানকে ব্যাহত করবে।

ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য চীনের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, এই সংকটের নেপথ্যে কী রয়েছে তা বেইজিং পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে।

গতকাল চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরের পূর্বে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে পুতিন বলেছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে রাশিয়া সংলাপ ও আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। চীনের পরিকল্পনা ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত মাসে আরো যেসব নীতি প্রকাশ করেছেন, সেগুলোতে এই সংঘাতের কারণগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে। ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের রুশ সংস্করণ অনুসারে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের পর্যালোচনা ইতিবাচক। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে আলোচনায় শি জিনপিং আরও যেসব নীতি তুলে ধরেছেন তা ছিল শীতল যুদ্ধের মানসিকতা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবিক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ।

প্রায় এক বছরের বেশি সময় আগে বেইজিং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য ১২ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা হাজির করেছিল। এতে মূলত সাধারণ নীতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়, বিস্তারিত নয়। ওই সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মোটাদাগে পক্ষে বা বিপক্ষে কোনও অবস্থান আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, চীন নিজেকে শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে হাজির করছে। কিন্তু তারা রাশিয়ার মিথ্যা আখ্যান তুলে ধরছে এবং ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য রাশিয়ার সমালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মাসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, চীনের প্রস্তাব একটি যৌক্তিক পরিকল্পনা।

চীনা প্রেসিডেন্ট যে অতিরিক্ত নীতি তুলে ধরেছেন সেটির মধ্যে রয়েছে পরিস্থিতি শান্ত করা, শান্তি স্থাপনের শর্ত ও স্থিতিশীলতা তৈরি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব কমানো। রাশিয়া মনে করে, এই সংঘাত সমন্বিত পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে। যে পশ্চিমা বিশ্ব মস্কোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে আমলে নেয়নি। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্ব ইউরোপে সম্প্রসারণ ও রুশ সীমান্তের কাছে সামরিক কর্মকাণ্ড এই নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনা করছে মস্কো। ইউক্রেন ও পশ্চিমারা বলছে, ফ্যাসিবাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং যুদ্ধটি উসকানি ছাড়াই আক্রমণ।

গত মঙ্গলবার পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পুতিন। আগামী ছয় বছরের জন্য নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভার অনুমোদন দিয়েছেন পুতিন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ১০ জন উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ২১ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাদের মধ্যে ১৬ জন মন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন এবং প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, বিচার ও জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পুতিন নিজে তার পছন্দের মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়েছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সের্গেই শোইগু এখন থেকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে পাত্রুশেভ কোন দায়িত্ব পাবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। সের্গেই শোইগুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অর্থনীতিবিদ আন্দ্রেই বেলোসভ। এক যুগ পর পুতিন রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ে একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন। আর সদ্য সাবেক প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ডেনিস মানটুরভ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, ক্রিড়া ও কৃষি মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ ও জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অব্যাহত রুশ হামলায় অন্ধকারে পুরো ইউক্রেন

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

➤ খারকিভে ২ অঞ্চলে পিছু হটলো ইউক্রেন
➤ ইউক্রেন নিয়ে চীনের শান্তি পরিকল্পনায় পুতিনের সমর্থন
➤ রাশিয়ার নতুন মন্ত্রিসভার অনুমোদন দিলেন পুতিন

 

একদিকে তাপমাত্রা কম থাকায় বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের স্থাপনাগুলোয় একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে রুশ বাহিনী। সব মিলিয়ে চরম সংকটে পড়েছে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাত। গত কমঙ্গলবার অন্ধকারে (জরুরি ব্ল্যাকআউট) ডুবে যায় পুরো ইউক্রেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনেগো এ তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এসব হামলার কারণে বিদ্যুতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না ইউক্রেন। এমনকি চাহিদা পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে ইউক্রেনকে বাধ্য করেছে রাশিয়া।

টেলিগ্রামে ইউক্রেনেগো জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে পরবর্তী চার ঘণ্টা ইউক্রেনের সব কটি অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে অন্ধকারে ডুবে ছিল পুরো ইউক্রেন। প্রতিষ্ঠানটি এর পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এক, ইউক্রেনের বিদ্যুতের স্থাপনাগুলোয় রুশবাহিনীর একের পর এক হামলা। দুই, তাপমাত্রা কম থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চলের লিভিভ শহরের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে ভবনগুলো অন্ধকারে ডুবে আছে। সড়ক বাতিগুলো জ্বলছে না। এদিকে রাজধানী কিয়েভের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রুশ হামলার মুখে খারকিভের দুটি অঞ্চল থেকে পিছু হটে ইউক্রেনীয় সেনারা নতুন সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, খারকিভের কাছে উত্তর দিকে সুমি অঞ্চলে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য সেনা জড়ো করছে রাশিয়া। সুমি অঞ্চলে রাশিয়া যদি নতুন স্থল হামলা চালায় তাহলে রণক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে। এর আগে শুক্রবার খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়া স্থল হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন দ্রুত সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে। এমন অবস্থায় সুমি অঞ্চলে নতুন অভিযান শুরু হলে রুশদের ঠেকাতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে ইউক্রেনীয় সেনাদের। রাশিয়া বলেছে, খারকিভের উত্তরের দিকে তাদের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। বুহরুভাতকা নামের আরেকটি গ্রামের দখল নিয়েছে তারা। এটি গত শুক্রবারের পর থেকে রুশ সেনাদের দখল করা দশম গ্রাম। সীমান্ত থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরের শহর ভভচানস্কের পুলিশ প্রধান বলেছেন, শহরটি রাশিয়ার গোলাবর্ষণে প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছে। শহরের উত্তরে গুলি বিনিময় হচ্ছে।

রুশ হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও অঞ্চলটিতে বসবাসরত ইউক্রেনীয়দের মনোবলে ধাক্কা দিয়েছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হলো খারকিভ। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার আক্রমণের মূল মনোযোগ ছিল ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল। ফলে খারকিভে নতুন আক্রমণ পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের প্রতিরক্ষা অভিযানকে ব্যাহত করবে।

ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য চীনের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, এই সংকটের নেপথ্যে কী রয়েছে তা বেইজিং পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে।

গতকাল চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরের পূর্বে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে পুতিন বলেছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে রাশিয়া সংলাপ ও আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। চীনের পরিকল্পনা ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত মাসে আরো যেসব নীতি প্রকাশ করেছেন, সেগুলোতে এই সংঘাতের কারণগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে। ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের রুশ সংস্করণ অনুসারে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের পর্যালোচনা ইতিবাচক। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে আলোচনায় শি জিনপিং আরও যেসব নীতি তুলে ধরেছেন তা ছিল শীতল যুদ্ধের মানসিকতা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবিক ও গঠনমূলক পদক্ষেপ।

প্রায় এক বছরের বেশি সময় আগে বেইজিং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য ১২ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা হাজির করেছিল। এতে মূলত সাধারণ নীতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়, বিস্তারিত নয়। ওই সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মোটাদাগে পক্ষে বা বিপক্ষে কোনও অবস্থান আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, চীন নিজেকে শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে হাজির করছে। কিন্তু তারা রাশিয়ার মিথ্যা আখ্যান তুলে ধরছে এবং ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য রাশিয়ার সমালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মাসে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, চীনের প্রস্তাব একটি যৌক্তিক পরিকল্পনা।

চীনা প্রেসিডেন্ট যে অতিরিক্ত নীতি তুলে ধরেছেন সেটির মধ্যে রয়েছে পরিস্থিতি শান্ত করা, শান্তি স্থাপনের শর্ত ও স্থিতিশীলতা তৈরি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব কমানো। রাশিয়া মনে করে, এই সংঘাত সমন্বিত পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে। যে পশ্চিমা বিশ্ব মস্কোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে আমলে নেয়নি। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর পূর্ব ইউরোপে সম্প্রসারণ ও রুশ সীমান্তের কাছে সামরিক কর্মকাণ্ড এই নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও ফ্যাসিবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনা করছে মস্কো। ইউক্রেন ও পশ্চিমারা বলছে, ফ্যাসিবাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং যুদ্ধটি উসকানি ছাড়াই আক্রমণ।

গত মঙ্গলবার পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পুতিন। আগামী ছয় বছরের জন্য নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভার অনুমোদন দিয়েছেন পুতিন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ১০ জন উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ২১ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাদের মধ্যে ১৬ জন মন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন এবং প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, বিচার ও জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পুতিন নিজে তার পছন্দের মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়েছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সের্গেই শোইগু এখন থেকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে পাত্রুশেভ কোন দায়িত্ব পাবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। সের্গেই শোইগুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অর্থনীতিবিদ আন্দ্রেই বেলোসভ। এক যুগ পর পুতিন রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ে একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন। আর সদ্য সাবেক প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ডেনিস মানটুরভ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, ক্রিড়া ও কৃষি মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ ও জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।